📄 সেদিন মানুষ ধুলোর ন্যায় উড়তে থাকবে
একদিন ওমরের স্ত্রী ফাতেমা দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দুই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁদছিলেন। এমন সময় তাঁর ভাই মুসাল্লামা ও হিশাম তাঁর কাছে এসে কান্নার কারণ জানতে চাইল, কি হয়েছে কাঁদছ কেন? তুমি কি তোমার স্বামীর ব্যাপারে ভয় করছ, না কি দুনিয়াবী কোনোকিছু হারিয়ে ফেলেছ? আমরা তো তোমার সামনেই আছি। ফাতেমা কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, তোমরা তা ভেবোও না ভয়, গত রাতে আমি এমন এক দৃশ্য দেখেছি। তখন আমি জানতে চেয়েছি তাঁর অন্তরে এক বিশাল কিছু লুকিয়ে আছে যা আমাকে এ দৃশ্য দেখিয়েছে। তিনি বলল, তুমি কি দেখছ? তিনি বললেন, আমি ওমর বিন আব্দুল আযীযকে দেখলাম তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে কিরাত পড়ছিলেন। পড়তে পড়তে তিনি এ আয়াতত পড়িতে লাগলেন, وَيَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ অর্থ: সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙিন পশমের মতো। (সূরা কারিয়াহ: ৪,৫) এ আয়াতত তেলাওয়াত করার পর তিনি চিৎকার দিয়ে দিয়ে গেলেন। তিনি মাটিতে এমন গড়াগড়ি করতে লাগলেন যে, আমি ধারণা করেছি তাঁর মনে হয় ব্যথ হয়ে যাবে।
এরপর তিনি আবারো চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন এবং মাটিতে গড়াগড়ি খেতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গিন পশমের মতো সেদিন আবার ধ্বংস। ফজরের হওয়া পর্যন্ত তিনি এমনি করতে লাগলেন। তারপর ফজরের নামাযের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি মৃতের মতো পড়ে রইলেন। আল্লাহর শপথ! যখনি আমার সে রাতের কথা মনে পড়ে আমি চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারি না।
📄 আলী রা.-এর ভালোবাসা
হযরত ইয়াযিদ বিন আমর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওমর বিন আব্দুল আযীয যখন খলিফা নিযুক্ত হয়েছেন তখন আমি সিরিয়ায় ছিলাম। আর তিনি ছিলেন খাদ্যসরায়। খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি প্রত্যেক গরিব-মিসকিনের জন্য দু'শ দিরহাম নির্ধারণ করে দিলেন। ইয়াযিদ বলেন, আমি ওমরের কাছে এসে দেখলাম তিনি হেলান দিয়ে বসে আছেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কোথায় থেকে এসেছ? আমি বললাম, হেজাজ থেকে? তিনি বললেন, হেজাজের কোন এলাকা? আমি বললাম, মদিনা। তিনি বললেন, মদিনার কোন গোত্রের? আমি বললাম, কোরাইশ। তিনি বললেন, কোরাইশের কোন বংশে? আমি বললাম, হাশিমী। তিনি বললেন, হাশিমীর কোন ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত? আমি বললাম, আলী। তিনি বললেন, কোন আলী? আমি চুপ করে রইলাম। তিনি আবার বললেন, কোন আলী? আমি বললাম, আলী বিন আবু তালিব। আমার কথা শুনে তিনি দ্রুত সোজা হয়ে বসে বুকে হাত দিয়ে বলতে লাগলেন, আমিরুল মুমিনীন ওমরের গোলাম। তারপর তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখেছেন তাদের অনেকে বলেছেন, আমি যার অভিভাবক আলীও তার অভিভাবক। তারপর তিনি মুজাহিদকে বললেন, এর মতো লোকদেরও কত দেওয়া হয়? সে বলল, দু’ শত দিরহাম।
তিনি বললেন, আমি তার অধীনে হওয়ার কারণে এক শত দিনার দিয়ে দাও। তারপর তিনি তাকে তার প্রাপ্য দিয়ে বললেন, সত্য দ্বীন তোমার এলাকা থেকেই প্রচারিত হয়েছে, আশা করি অন্যদের ন্যায় তুমিও এর দ্বারা সুখ পাবে।
📄 আপনি আমার অন্তর খুলে দিয়েছেন
আমিরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে তাঁর এক গভর্নরের ব্যাপারে অভিযোগ আসল। তাৎক্ষণিক তিনি তাকে সতর্ক করার জন্য একটি চিঠি লিখে পাঠালেন।
তিনি তাকে চিঠিতে লিখলেন, জাহান্নামের চিরস্থায়ী নিদ্রাবিহীন জাহান্নামে থাকার ব্যাপারে আমি তোমাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এবং আল্লাহর কাছে থাকা নেয়ামত থেকে বিমুখ হওয়ার ব্যাপারেও আমি তোমাকে সতর্ক করছি। গভর্নর যখন পত্রবাহক চিঠিটি পাঠ করে শুনালেন সাথে সাথে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে এসে হাজির হলো। তাকে দেখে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, তুমি কেন এসেছ? গভর্নর বলল, আমিরুল মুমিনীন! আপনি আমার অন্তর খুলে দিয়েছেন।
📄 তুমি খচ্চরকে কষ্ট দিয়েছ
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর এক গোলাম খচ্চরের দ্বারা কাজ করত। আর এর দ্বারা সে প্রতিদিন এক দিরহাম আয় করত, কিন্তু একদিন সে তিন দিরহাম আয় করল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তখন আশ্চর্য হয়ে বললেন, এ কি? সে বলল, দ্রুত চালানোর কারণে। তিনি বললেন, না; বরং তুমি খচ্চরকে কষ্ট দিয়েছ। তাকে তিন দিন বিশ্রাম রাখ। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর মিশরের কর্মকর্তা ছাইয়াবান বিন শুরাইহ-এর কাছে লিখে পাঠালেন, আমি জানতে পেরেছি তোমার এলাকার লোকজন প্রত্যেক উটের পিঠে এক হাজার রতল (ওজনের পরিমাপ) মালামাল বহন করে নিয়ে যায়। আমার এ চিঠি তোমার হাতে পৌঁছার পর থেকে কেউ যেন একটি উটের পিঠে পাঁচশত রতলের বেশি বহন না করায়।