📄 আংটি বিক্রিয় করে মূল্য সদকা করে দাও
মুসলিম জাহানের খলিফা তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)। খলিফা শুনতে পেলেন, তাঁর পুত্র পরার জন্যে এক হাজার দিরহামের একটি আংটি ক্রয় করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ছেলের কাছে চিঠি লিখে নির্দেশ দিলেন, হাজার দিরহামের আংটিটি বিক্রি করে এর মূল্য সদকা করে দাও। আর পরার জন্যে এক দিরহামের একটি আংটি ক্রয় নাও।
তিনি আরো লিখলেন, আল্লাহ্র সে ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে তার মর্যাদা বুঝতে পেরেছে। খলিফা আব্দুল মালিকের ছেলে মুসাল্লামা খাওয়া-দাওয়ার খরচে খুব অপচয় করত। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) এ ব্যাপারে জানতে পেরে তাকে খুব সকালে তাঁর দরবারে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিলেন। অন্যদিকি তিনি রুটি, ডাল ও বিভিন্ন প্রকারের গোশত রান্না করার নির্দেশ দিলেন। মুসাল্লামা যখন তাঁর কাছে আসলেন তখন তিনি তাঁকে বসতে বললেন। খলিফার নির্দেশ অনুযায়ী বসে থেকে দুপুর ঘনিয়ে গেল। প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগায় সে ফিরে যেতে চাইল, কিন্তু ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বসার নির্দেশ দিলেন। যখন ঠিক দুপুর হয়ে গেল তখন সে আবার ফিরে যেতে চাইলে তিনি তাকে আবারও বসে থাকার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি যখন দেখলেন, মুসাল্লামা ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়েছে তখন ওই খাবারগুলো নিয়ে আসতে বললেন। তাঁর নির্দেশমতো তাঁকে ডাল, রুটি খেতে দেওয়া হয়। তীব্র ক্ষুধায় সে সেগুলো খেতে লাগল। এরপর তাঁর জন্যে গোশত দিয়ে আসা হয়। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বললেন, খাও। সে বলল, আমি যথেষ্ট খেয়েছি। তিনি আবারো বললেন, খাও। সে বলল, আমি যথেষ্ট খেয়েছি, এটা আমার জন্য অতিরিক্ত হয়ে যাবে। এবার তিনি তাকে বললেন, মুসাল্লামা, এ সামান্য খাবারই যদি যথেষ্ট হয়, তবে অপচয় করে নিজেকে কেন জাহান্নামের আগুনে গ্রেফতার করতে চাচ্ছ?
মুসলিম জাহানের খলিফা তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)। খলিফা শুনতে পেলেন, তাঁর পুত্র পরার জন্যে এক হাজার দিরহামের একটি আংটি ক্রয় করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ছেলের কাছে চিঠি লিখে নির্দেশ দিলেন, হাজার দিরহামের আংটিটি বিক্রি করে এর মূল্য সদকা করে দাও। আর পরার জন্যে এক দিরহামের একটি আংটি ক্রয় নাও।
তিনি আরো লিখলেন, আল্লাহ্র সে ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে তার মর্যাদা বুঝতে পেরেছে। খলিফা আব্দুল মালিকের ছেলে মুসাল্লামা খাওয়া-দাওয়ার খরচে খুব অপচয় করত। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) এ ব্যাপারে জানতে পেরে তাকে খুব সকালে তাঁর দরবারে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিলেন। অন্যদিকি তিনি রুটি, ডাল ও বিভিন্ন প্রকারের গোশত রান্না করার নির্দেশ দিলেন। মুসাল্লামা যখন তাঁর কাছে আসলেন তখন তিনি তাঁকে বসতে বললেন। খলিফার নির্দেশ অনুযায়ী বসে থেকে দুপুর ঘনিয়ে গেল। প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগায় সে ফিরে যেতে চাইল, কিন্তু ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বসার নির্দেশ দিলেন। যখন ঠিক দুপুর হয়ে গেল তখন সে আবার ফিরে যেতে চাইলে তিনি তাকে আবারও বসে থাকার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি যখন দেখলেন, মুসাল্লামা ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়েছে তখন ওই খাবারগুলো নিয়ে আসতে বললেন। তাঁর নির্দেশমতো তাঁকে ডাল, রুটি খেতে দেওয়া হয়। তীব্র ক্ষুধায় সে সেগুলো খেতে লাগল। এরপর তাঁর জন্যে গোশত দিয়ে আসা হয়। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বললেন, খাও। সে বলল, আমি যথেষ্ট খেয়েছি। তিনি আবারো বললেন, খাও। সে বলল, আমি যথেষ্ট খেয়েছি, এটা আমার জন্য অতিরিক্ত হয়ে যাবে। এবার তিনি তাকে বললেন, মুসাল্লামা, এ সামান্য খাবারই যদি যথেষ্ট হয়, তবে অপচয় করে নিজেকে কেন জাহান্নামের আগুনে গ্রেফতার করতে চাচ্ছ?
📄 যিয়াদের জন্যে বায়তুল মাল
একদিন বিখ্যাত আবেদ ও বুযুর্গ মিয়াদ আমীরুল মুমিনিনের দরবারে আসলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁকে ভেতরে আসার অনুমতি দিলেন। তিনি ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে স্বাভাবিকভাবে সালাম দিলেন, কিন্তু ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বর্তমান খলিফা এ কথা যখন মনে পড়ল তখন তিনি আমীরুল মুমিনীন উল্লেখ করে পুনরায় সালাম দিলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) সালামের জবাব দিয়ে বললেন, সাধারণভাবে সালাম দেওয়া আমি পছন্দ করি। এরপর মিয়াদকে মেঝেতে বসতে দেখে তিনি নিজেও খাট থেকে নেমে এসে মেঝেতে বসলেন।
এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, মিয়াদ মেঝেতে বসবে আর আমি খাটে বসব! এটি আমার কাছে অনেক জঘন্য কাজ মনে হয়। তারপর তাঁরা উভয়ে আল্লাহ্ তা'আলার মহব্বত ও বন্দেগী ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বেশকিছু সময় আলোচনা করলেন। আলোচনা শেষে মিয়াদ যখন ফিরে যেতে চাইলেন, তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বায়তুল মালের দায়িত্বশীলকে বললেন, বায়তুল মালের দরজা খুলে দাও ওরে মিয়াদ তা থেকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী গ্রহণ করতে পারে। তাঁর নির্দেশে বায়তুল মালের দায়িত্বশীল লোকটি বায়তুল মালের দরজা খুলে দিল। হযরত মিয়াদ বায়তুল মালে প্রবেশ করে সেখান থেকে তাঁর ও তাঁর সঙ্গীর, সাথিদের জন্য আশি দিরহামের মতো নিলেন। বায়তুল মালের দায়িত্বশীল মিয়াদকে এত কম অর্থ গ্রহণ করতে দেখে অবাক হয়ে বললেন, আমীরুল মুমিনীন জানতেন লোকটি কি করবে। অর্থাৎ তাঁর জন্য ধনভাণ্ডারের দরজা খুলে দিলেও সে অতি সামান্যই গ্রহণ করবে।
একদিন বিখ্যাত আবেদ ও বুযুর্গ মিয়াদ আমীরুল মুমিনিনের দরবারে আসলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁকে ভেতরে আসার অনুমতি দিলেন। তিনি ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে স্বাভাবিকভাবে সালাম দিলেন, কিন্তু ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বর্তমান খলিফা এ কথা যখন মনে পড়ল তখন তিনি আমীরুল মুমিনীন উল্লেখ করে পুনরায় সালাম দিলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) সালামের জবাব দিয়ে বললেন, সাধারণভাবে সালাম দেওয়া আমি পছন্দ করি। এরপর মিয়াদকে মেঝেতে বসতে দেখে তিনি নিজেও খাট থেকে নেমে এসে মেঝেতে বসলেন।
এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, মিয়াদ মেঝেতে বসবে আর আমি খাটে বসব! এটি আমার কাছে অনেক জঘন্য কাজ মনে হয়। তারপর তাঁরা উভয়ে আল্লাহ্ তা'আলার মহব্বত ও বন্দেগী ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বেশকিছু সময় আলোচনা করলেন। আলোচনা শেষে মিয়াদ যখন ফিরে যেতে চাইলেন, তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বায়তুল মালের দায়িত্বশীলকে বললেন, বায়তুল মালের দরজা খুলে দাও ওরে মিয়াদ তা থেকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী গ্রহণ করতে পারে। তাঁর নির্দেশে বায়তুল মালের দায়িত্বশীল লোকটি বায়তুল মালের দরজা খুলে দিল। হযরত মিয়াদ বায়তুল মালে প্রবেশ করে সেখান থেকে তাঁর ও তাঁর সঙ্গীর, সাথিদের জন্য আশি দিরহামের মতো নিলেন। বায়তুল মালের দায়িত্বশীল মিয়াদকে এত কম অর্থ গ্রহণ করতে দেখে অবাক হয়ে বললেন, আমীরুল মুমিনীন জানতেন লোকটি কি করবে। অর্থাৎ তাঁর জন্য ধনভাণ্ডারের দরজা খুলে দিলেও সে অতি সামান্যই গ্রহণ করবে।
📄 সেদিন মানুষ ধুলোর ন্যায় উড়তে থাকবে
একদিন ওমরের স্ত্রী ফাতেমা দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে দুই চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে কাঁদছিলেন। এমন সময় তাঁর ভাই মুসাল্লামা ও হিশাম তাঁর কাছে এসে কান্নার কারণ জানতে চাইল, কি হয়েছে কাঁদছ কেন? তুমি কি তোমার স্বামীর ব্যাপারে ভয় করছ, না কি দুনিয়াবী কোনোকিছু হারিয়ে ফেলেছ? আমরা তো তোমার সামনেই আছি। ফাতেমা কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন, তোমরা তা ভেবোও না ভয়, গত রাতে আমি এমন এক দৃশ্য দেখেছি। তখন আমি জানতে চেয়েছি তাঁর অন্তরে এক বিশাল কিছু লুকিয়ে আছে যা আমাকে এ দৃশ্য দেখিয়েছে। তিনি বলল, তুমি কি দেখছ? তিনি বললেন, আমি ওমর বিন আব্দুল আযীযকে দেখলাম তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে কিরাত পড়ছিলেন। পড়তে পড়তে তিনি এ আয়াতত পড়িতে লাগলেন, وَيَكُونُ الْجِبَالُ كَالْعِهْنِ الْمَنفُوشِ অর্থ: সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙিন পশমের মতো। (সূরা কারিয়াহ: ৪,৫) এ আয়াতত তেলাওয়াত করার পর তিনি চিৎকার দিয়ে দিয়ে গেলেন। তিনি মাটিতে এমন গড়াগড়ি করতে লাগলেন যে, আমি ধারণা করেছি তাঁর মনে হয় ব্যথ হয়ে যাবে।
এরপর তিনি আবারো চিৎকার দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন এবং মাটিতে গড়াগড়ি খেতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, যেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মতো এবং পর্বতমালা হবে ধুনিত রঙ্গিন পশমের মতো সেদিন আবার ধ্বংস। ফজরের হওয়া পর্যন্ত তিনি এমনি করতে লাগলেন। তারপর ফজরের নামাযের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি মৃতের মতো পড়ে রইলেন। আল্লাহর শপথ! যখনি আমার সে রাতের কথা মনে পড়ে আমি চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারি না।
📄 আলী রা.-এর ভালোবাসা
হযরত ইয়াযিদ বিন আমর হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ওমর বিন আব্দুল আযীয যখন খলিফা নিযুক্ত হয়েছেন তখন আমি সিরিয়ায় ছিলাম। আর তিনি ছিলেন খাদ্যসরায়। খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি প্রত্যেক গরিব-মিসকিনের জন্য দু'শ দিরহাম নির্ধারণ করে দিলেন। ইয়াযিদ বলেন, আমি ওমরের কাছে এসে দেখলাম তিনি হেলান দিয়ে বসে আছেন। তিনি আমাকে বললেন, তুমি কোথায় থেকে এসেছ? আমি বললাম, হেজাজ থেকে? তিনি বললেন, হেজাজের কোন এলাকা? আমি বললাম, মদিনা। তিনি বললেন, মদিনার কোন গোত্রের? আমি বললাম, কোরাইশ। তিনি বললেন, কোরাইশের কোন বংশে? আমি বললাম, হাশিমী। তিনি বললেন, হাশিমীর কোন ব্যক্তির সাথে সম্পর্কিত? আমি বললাম, আলী। তিনি বললেন, কোন আলী? আমি চুপ করে রইলাম। তিনি আবার বললেন, কোন আলী? আমি বললাম, আলী বিন আবু তালিব। আমার কথা শুনে তিনি দ্রুত সোজা হয়ে বসে বুকে হাত দিয়ে বলতে লাগলেন, আমিরুল মুমিনীন ওমরের গোলাম। তারপর তিনি বললেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে দেখেছেন তাদের অনেকে বলেছেন, আমি যার অভিভাবক আলীও তার অভিভাবক। তারপর তিনি মুজাহিদকে বললেন, এর মতো লোকদেরও কত দেওয়া হয়? সে বলল, দু’ শত দিরহাম।
তিনি বললেন, আমি তার অধীনে হওয়ার কারণে এক শত দিনার দিয়ে দাও। তারপর তিনি তাকে তার প্রাপ্য দিয়ে বললেন, সত্য দ্বীন তোমার এলাকা থেকেই প্রচারিত হয়েছে, আশা করি অন্যদের ন্যায় তুমিও এর দ্বারা সুখ পাবে।