📄 আখেরাতের প্রতি ওমর (রহ)-এর আগ্রহ
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর ভালো নেককার ভাইদের মধ্যে এক ভাই এসে তাঁকে বলতে লাগল, যদি তুমি চাও, তুমি ওমর এ হিসেবে আমাকে তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে অপছন্দ করবে তবে পরকালে পছন্দ করবে। আর যদি তুমি চাও, তুমি আমীরুল মুমিনীন এ হিসেবে আমি তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে পছন্দ করবে তবে পরকালে অপছন্দ করবে। তখন তিনি বললেন; বরং আমি ওমর, এ হিসেবে তুমি কথা বল, যা আমি আজ অপছন্দ করি, কিন্তু কাল (কিয়ামতের দিন) পছন্দ করব।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর ভালো নেককার ভাইদের মধ্যে এক ভাই এসে তাঁকে বলতে লাগল, যদি তুমি চাও, তুমি ওমর এ হিসেবে আমাকে তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে অপছন্দ করবে তবে পরকালে পছন্দ করবে। আর যদি তুমি চাও, তুমি আমীরুল মুমিনীন এ হিসেবে আমি তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে পছন্দ করবে তবে পরকালে অপছন্দ করবে। তখন তিনি বললেন; বরং আমি ওমর, এ হিসেবে তুমি কথা বল, যা আমি আজ অপছন্দ করি, কিন্তু কাল (কিয়ামতের দিন) পছন্দ করব।
📄 এমন নেতা যিনি কোনো দিনারের মালিক না
গ্রীষ্মের এক উত্তপ্ত দিনে আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর স্ত্রীর কাছে এসে বললেন, ফাতেমা! তোমার কাছে কোনো দিরহাম আছে? কিছু আঙ্গুর কিনে আনতাম। ফাতেমা বললেন, না, আমার কাছে কোনো দিরহাম নেই। তিনি বললেন, এমন কিছু আছে, যা দিয়ে আঙ্গুর কেনা যেতে পারে? ফাতেমা বললেন, না, তাও নেই।
উপস্থিত একলোক তাদের আপেল শুনে আশ্চর্য হয়ে বলল, আপনি আমীরুল মুমিনীন আপনি নিজের জন্যে কোনো অর্থকড়ি নির্ধারণ করতে পারেন না যা দ্বারা আপনি আঙ্গুর কিনতে পারেন। তখন তিনি মৃদু হাসি দিয়ে বললেন, জান্নাততত্ত্ব করে জাহান্নামের আগুন সহ্য করা থেকে বিরত থাকা এটা আমার কাছে অনেক সহজ।
গ্রীষ্মের এক উত্তপ্ত দিনে আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর স্ত্রীর কাছে এসে বললেন, ফাতেমা! তোমার কাছে কোনো দিরহাম আছে? কিছু আঙ্গুর কিনে আনতাম। ফাতেমা বললেন, না, আমার কাছে কোনো দিরহাম নেই। তিনি বললেন, এমন কিছু আছে, যা দিয়ে আঙ্গুর কেনা যেতে পারে? ফাতেমা বললেন, না, তাও নেই।
উপস্থিত একলোক তাদের আপেল শুনে আশ্চর্য হয়ে বলল, আপনি আমীরুল মুমিনীন আপনি নিজের জন্যে কোনো অর্থকড়ি নির্ধারণ করতে পারেন না যা দ্বারা আপনি আঙ্গুর কিনতে পারেন। তখন তিনি মৃদু হাসি দিয়ে বললেন, জান্নাততত্ত্ব করে জাহান্নামের আগুন সহ্য করা থেকে বিরত থাকা এটা আমার কাছে অনেক সহজ।
📄 যুগের শ্রেষ্ঠ মানুষ
উত্তপ্ত মরুর মাঝে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মক্কার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। চলতে চলতে তিনি একটি মৃত অজগর সাপ দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর সাঙ্গপাঙ্গকে বললেন, আমার একটি বন্ধন দরকার। তারা বললেন, আমীরুল মুমিনীন আমরাই এই জন্যে যথেষ্ট। তিনি বললেন, না। এরপর তিনি সাপটির জন্যে গর্ত খনন করে তাকে দাফন করলেন। ঠিক তখন আওয়াজটা তাঁদের কানে এল, কিন্তু তাঁরা আওয়াজকারীকে দেখছিলেন না। অবশ্য আওয়াজকারী বললেন, হে সুবরাক, তোমার প্রতি আল্লাহ্র রহম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সুবরাক! তুমি জামিনের এক নির্জন প্রান্তরে মারা যাবে, অতঃপর তোমাকে আমার উচ্চতর ভূমি দাফন করবে। তাঁকে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বলেন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি কে? আওয়াজকারী বললেন, আমি জিনের একলোক আর এ হচ্ছে সুবরাক। রাসূল ﷺ-এর হাতে বাইয়াত্বগ্রহণকারী আমি আর এ ব্যতীত আর কেউই বাকি নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সুবরাক! তুমি জামিনের এক নির্জন প্রান্তরে মারা যাবে, অতঃপর তোমাকে আমার উচ্চতর ভূমি দাফন করবে। তিনি এ কথা শুনে খুব কান্না শুরু করলেন, এমনকি তিনি বাহন থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন।
উত্তপ্ত মরুর মাঝে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মক্কার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। চলতে চলতে তিনি একটি মৃত অজগর সাপ দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর সাঙ্গপাঙ্গকে বললেন, আমার একটি বন্ধন দরকার। তারা বললেন, আমীরুল মুমিনীন আমরাই এই জন্যে যথেষ্ট। তিনি বললেন, না। এরপর তিনি সাপটির জন্যে গর্ত খনন করে তাকে দাফন করলেন। ঠিক তখন আওয়াজটা তাঁদের কানে এল, কিন্তু তাঁরা আওয়াজকারীকে দেখছিলেন না। অবশ্য আওয়াজকারী বললেন, হে সুবরাক, তোমার প্রতি আল্লাহ্র রহম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সুবরাক! তুমি জামিনের এক নির্জন প্রান্তরে মারা যাবে, অতঃপর তোমাকে আমার উচ্চতর ভূমি দাফন করবে। তাঁকে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বলেন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি কে? আওয়াজকারী বললেন, আমি জিনের একলোক আর এ হচ্ছে সুবরাক। রাসূল ﷺ-এর হাতে বাইয়াত্বগ্রহণকারী আমি আর এ ব্যতীত আর কেউই বাকি নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সুবরাক! তুমি জামিনের এক নির্জন প্রান্তরে মারা যাবে, অতঃপর তোমাকে আমার উচ্চতর ভূমি দাফন করবে। তিনি এ কথা শুনে খুব কান্না শুরু করলেন, এমনকি তিনি বাহন থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন।
📄 আংটি বিক্রিয় করে মূল্য সদকা করে দাও
মুসলিম জাহানের খলিফা তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)। খলিফা শুনতে পেলেন, তাঁর পুত্র পরার জন্যে এক হাজার দিরহামের একটি আংটি ক্রয় করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ছেলের কাছে চিঠি লিখে নির্দেশ দিলেন, হাজার দিরহামের আংটিটি বিক্রি করে এর মূল্য সদকা করে দাও। আর পরার জন্যে এক দিরহামের একটি আংটি ক্রয় নাও।
তিনি আরো লিখলেন, আল্লাহ্র সে ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে তার মর্যাদা বুঝতে পেরেছে। খলিফা আব্দুল মালিকের ছেলে মুসাল্লামা খাওয়া-দাওয়ার খরচে খুব অপচয় করত। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) এ ব্যাপারে জানতে পেরে তাকে খুব সকালে তাঁর দরবারে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিলেন। অন্যদিকি তিনি রুটি, ডাল ও বিভিন্ন প্রকারের গোশত রান্না করার নির্দেশ দিলেন। মুসাল্লামা যখন তাঁর কাছে আসলেন তখন তিনি তাঁকে বসতে বললেন। খলিফার নির্দেশ অনুযায়ী বসে থেকে দুপুর ঘনিয়ে গেল। প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগায় সে ফিরে যেতে চাইল, কিন্তু ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বসার নির্দেশ দিলেন। যখন ঠিক দুপুর হয়ে গেল তখন সে আবার ফিরে যেতে চাইলে তিনি তাকে আবারও বসে থাকার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি যখন দেখলেন, মুসাল্লামা ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়েছে তখন ওই খাবারগুলো নিয়ে আসতে বললেন। তাঁর নির্দেশমতো তাঁকে ডাল, রুটি খেতে দেওয়া হয়। তীব্র ক্ষুধায় সে সেগুলো খেতে লাগল। এরপর তাঁর জন্যে গোশত দিয়ে আসা হয়। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বললেন, খাও। সে বলল, আমি যথেষ্ট খেয়েছি। তিনি আবারো বললেন, খাও। সে বলল, আমি যথেষ্ট খেয়েছি, এটা আমার জন্য অতিরিক্ত হয়ে যাবে। এবার তিনি তাকে বললেন, মুসাল্লামা, এ সামান্য খাবারই যদি যথেষ্ট হয়, তবে অপচয় করে নিজেকে কেন জাহান্নামের আগুনে গ্রেফতার করতে চাচ্ছ?
মুসলিম জাহানের খলিফা তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)। খলিফা শুনতে পেলেন, তাঁর পুত্র পরার জন্যে এক হাজার দিরহামের একটি আংটি ক্রয় করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ছেলের কাছে চিঠি লিখে নির্দেশ দিলেন, হাজার দিরহামের আংটিটি বিক্রি করে এর মূল্য সদকা করে দাও। আর পরার জন্যে এক দিরহামের একটি আংটি ক্রয় নাও।
তিনি আরো লিখলেন, আল্লাহ্র সে ব্যক্তির প্রতি রহম করুন, যে তার মর্যাদা বুঝতে পেরেছে। খলিফা আব্দুল মালিকের ছেলে মুসাল্লামা খাওয়া-দাওয়ার খরচে খুব অপচয় করত। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) এ ব্যাপারে জানতে পেরে তাকে খুব সকালে তাঁর দরবারে উপস্থিত হতে নির্দেশ দিলেন। অন্যদিকি তিনি রুটি, ডাল ও বিভিন্ন প্রকারের গোশত রান্না করার নির্দেশ দিলেন। মুসাল্লামা যখন তাঁর কাছে আসলেন তখন তিনি তাঁকে বসতে বললেন। খলিফার নির্দেশ অনুযায়ী বসে থেকে দুপুর ঘনিয়ে গেল। প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগায় সে ফিরে যেতে চাইল, কিন্তু ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বসার নির্দেশ দিলেন। যখন ঠিক দুপুর হয়ে গেল তখন সে আবার ফিরে যেতে চাইলে তিনি তাকে আবারও বসে থাকার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি যখন দেখলেন, মুসাল্লামা ভীষণ ক্ষুধার্ত হয়েছে তখন ওই খাবারগুলো নিয়ে আসতে বললেন। তাঁর নির্দেশমতো তাঁকে ডাল, রুটি খেতে দেওয়া হয়। তীব্র ক্ষুধায় সে সেগুলো খেতে লাগল। এরপর তাঁর জন্যে গোশত দিয়ে আসা হয়। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বললেন, খাও। সে বলল, আমি যথেষ্ট খেয়েছি। তিনি আবারো বললেন, খাও। সে বলল, আমি যথেষ্ট খেয়েছি, এটা আমার জন্য অতিরিক্ত হয়ে যাবে। এবার তিনি তাকে বললেন, মুসাল্লামা, এ সামান্য খাবারই যদি যথেষ্ট হয়, তবে অপচয় করে নিজেকে কেন জাহান্নামের আগুনে গ্রেফতার করতে চাচ্ছ?