📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ছেলে ও আপেল

📄 ছেলে ও আপেল


একদিন বায়তুল মালের 'ফাই' (এক প্রকারের কর)-এর কিছু আপেল আসল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তা মানুষের মাঝে বণ্টন করছিলেন। ঠিক এমন সময় তাঁর ছেলে সেখান থেকে একটি আপেল মুখে দিয়ে ফেলল। তখন তিনি তাঁর ছেলের মুখ থেকে তা জোর করে টেনে নিয়ে গেলেন। এতে তাঁর ছোট ঐ ছেলেটি খুবই কষ্ট পেল, সে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর মায়ের কাছে চলে গেল। তার মা লোক পাঠিয়ে বাজার থেকে আপেল কিনে ছেলেকে খেতে দিল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ঘরে ফিরে আপেলের ঘ্রাণ পেয়ে খুব ভীত হয়ে তাঁর স্ত্রীকে বললেন, তোমরা কি এ ‘ফাই’ থেকে কোনো কিছু নিয়ে এসেছ? তাঁর স্ত্রী বললেন, না। এরপর বাজার থেকে আপেল কিনে আনার বিষয়ে তাঁকে জানালেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! যখন আমি আপেলটি আমার ছেলের মুখ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছি মনে হচ্ছিল আপেলটি আমার হৃদয় থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছি, কিন্তু মুসলমানদের ‘ফাই’ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করে আল্লাহর কাছে থাকা আমার প্রতিদানকে নষ্ট করতে আমি অপছন্দ করেছি।

একদিন বায়তুল মালের 'ফাই' (এক প্রকারের কর)-এর কিছু আপেল আসল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তা মানুষের মাঝে বণ্টন করছিলেন। ঠিক এমন সময় তাঁর ছেলে সেখান থেকে একটি আপেল মুখে দিয়ে ফেলল। তখন তিনি তাঁর ছেলের মুখ থেকে তা জোর করে টেনে নিয়ে গেলেন। এতে তাঁর ছোট ঐ ছেলেটি খুবই কষ্ট পেল, সে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর মায়ের কাছে চলে গেল। তার মা লোক পাঠিয়ে বাজার থেকে আপেল কিনে ছেলেকে খেতে দিল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ঘরে ফিরে আপেলের ঘ্রাণ পেয়ে খুব ভীত হয়ে তাঁর স্ত্রীকে বললেন, তোমরা কি এ ‘ফাই’ থেকে কোনো কিছু নিয়ে এসেছ? তাঁর স্ত্রী বললেন, না। এরপর বাজার থেকে আপেল কিনে আনার বিষয়ে তাঁকে জানালেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! যখন আমি আপেলটি আমার ছেলের মুখ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছি মনে হচ্ছিল আপেলটি আমার হৃদয় থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছি, কিন্তু মুসলমানদের ‘ফাই’ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করে আল্লাহর কাছে থাকা আমার প্রতিদানকে নষ্ট করতে আমি অপছন্দ করেছি।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আখেরাতের প্রতি ওমর (রহ)-এর আগ্রহ

📄 আখেরাতের প্রতি ওমর (রহ)-এর আগ্রহ


ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর ভালো নেককার ভাইদের মধ্যে এক ভাই এসে তাঁকে বলতে লাগল, যদি তুমি চাও, তুমি ওমর এ হিসেবে আমাকে তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে অপছন্দ করবে তবে পরকালে পছন্দ করবে। আর যদি তুমি চাও, তুমি আমীরুল মুমিনীন এ হিসেবে আমি তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে পছন্দ করবে তবে পরকালে অপছন্দ করবে। তখন তিনি বললেন; বরং আমি ওমর, এ হিসেবে তুমি কথা বল, যা আমি আজ অপছন্দ করি, কিন্তু কাল (কিয়ামতের দিন) পছন্দ করব।

ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর ভালো নেককার ভাইদের মধ্যে এক ভাই এসে তাঁকে বলতে লাগল, যদি তুমি চাও, তুমি ওমর এ হিসেবে আমাকে তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে অপছন্দ করবে তবে পরকালে পছন্দ করবে। আর যদি তুমি চাও, তুমি আমীরুল মুমিনীন এ হিসেবে আমি তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে পছন্দ করবে তবে পরকালে অপছন্দ করবে। তখন তিনি বললেন; বরং আমি ওমর, এ হিসেবে তুমি কথা বল, যা আমি আজ অপছন্দ করি, কিন্তু কাল (কিয়ামতের দিন) পছন্দ করব।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এমন নেতা যিনি কোনো দিনারের মালিক না

📄 এমন নেতা যিনি কোনো দিনারের মালিক না


গ্রীষ্মের এক উত্তপ্ত দিনে আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর স্ত্রীর কাছে এসে বললেন, ফাতেমা! তোমার কাছে কোনো দিরহাম আছে? কিছু আঙ্গুর কিনে আনতাম। ফাতেমা বললেন, না, আমার কাছে কোনো দিরহাম নেই। তিনি বললেন, এমন কিছু আছে, যা দিয়ে আঙ্গুর কেনা যেতে পারে? ফাতেমা বললেন, না, তাও নেই।
উপস্থিত একলোক তাদের আপেল শুনে আশ্চর্য হয়ে বলল, আপনি আমীরুল মুমিনীন আপনি নিজের জন্যে কোনো অর্থকড়ি নির্ধারণ করতে পারেন না যা দ্বারা আপনি আঙ্গুর কিনতে পারেন। তখন তিনি মৃদু হাসি দিয়ে বললেন, জান্নাততত্ত্ব করে জাহান্নামের আগুন সহ্য করা থেকে বিরত থাকা এটা আমার কাছে অনেক সহজ।

গ্রীষ্মের এক উত্তপ্ত দিনে আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর স্ত্রীর কাছে এসে বললেন, ফাতেমা! তোমার কাছে কোনো দিরহাম আছে? কিছু আঙ্গুর কিনে আনতাম। ফাতেমা বললেন, না, আমার কাছে কোনো দিরহাম নেই। তিনি বললেন, এমন কিছু আছে, যা দিয়ে আঙ্গুর কেনা যেতে পারে? ফাতেমা বললেন, না, তাও নেই।
উপস্থিত একলোক তাদের আপেল শুনে আশ্চর্য হয়ে বলল, আপনি আমীরুল মুমিনীন আপনি নিজের জন্যে কোনো অর্থকড়ি নির্ধারণ করতে পারেন না যা দ্বারা আপনি আঙ্গুর কিনতে পারেন। তখন তিনি মৃদু হাসি দিয়ে বললেন, জান্নাততত্ত্ব করে জাহান্নামের আগুন সহ্য করা থেকে বিরত থাকা এটা আমার কাছে অনেক সহজ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 যুগের শ্রেষ্ঠ মানুষ

📄 যুগের শ্রেষ্ঠ মানুষ


উত্তপ্ত মরুর মাঝে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মক্কার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। চলতে চলতে তিনি একটি মৃত অজগর সাপ দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর সাঙ্গপাঙ্গকে বললেন, আমার একটি বন্ধন দরকার। তারা বললেন, আমীরুল মুমিনীন আমরাই এই জন্যে যথেষ্ট। তিনি বললেন, না। এরপর তিনি সাপটির জন্যে গর্ত খনন করে তাকে দাফন করলেন। ঠিক তখন আওয়াজটা তাঁদের কানে এল, কিন্তু তাঁরা আওয়াজকারীকে দেখছিলেন না। অবশ্য আওয়াজকারী বললেন, হে সুবরাক, তোমার প্রতি আল্লাহ্র রহম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সুবরাক! তুমি জামিনের এক নির্জন প্রান্তরে মারা যাবে, অতঃপর তোমাকে আমার উচ্চতর ভূমি দাফন করবে। তাঁকে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বলেন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি কে? আওয়াজকারী বললেন, আমি জিনের একলোক আর এ হচ্ছে সুবরাক। রাসূল ﷺ-এর হাতে বাইয়াত্বগ্রহণকারী আমি আর এ ব্যতীত আর কেউই বাকি নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সুবরাক! তুমি জামিনের এক নির্জন প্রান্তরে মারা যাবে, অতঃপর তোমাকে আমার উচ্চতর ভূমি দাফন করবে। তিনি এ কথা শুনে খুব কান্না শুরু করলেন, এমনকি তিনি বাহন থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন।

উত্তপ্ত মরুর মাঝে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মক্কার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। চলতে চলতে তিনি একটি মৃত অজগর সাপ দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর সাঙ্গপাঙ্গকে বললেন, আমার একটি বন্ধন দরকার। তারা বললেন, আমীরুল মুমিনীন আমরাই এই জন্যে যথেষ্ট। তিনি বললেন, না। এরপর তিনি সাপটির জন্যে গর্ত খনন করে তাকে দাফন করলেন। ঠিক তখন আওয়াজটা তাঁদের কানে এল, কিন্তু তাঁরা আওয়াজকারীকে দেখছিলেন না। অবশ্য আওয়াজকারী বললেন, হে সুবরাক, তোমার প্রতি আল্লাহ্র রহম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সুবরাক! তুমি জামিনের এক নির্জন প্রান্তরে মারা যাবে, অতঃপর তোমাকে আমার উচ্চতর ভূমি দাফন করবে। তাঁকে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বলেন, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন, আপনি কে? আওয়াজকারী বললেন, আমি জিনের একলোক আর এ হচ্ছে সুবরাক। রাসূল ﷺ-এর হাতে বাইয়াত্বগ্রহণকারী আমি আর এ ব্যতীত আর কেউই বাকি নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, আমি রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, সুবরাক! তুমি জামিনের এক নির্জন প্রান্তরে মারা যাবে, অতঃপর তোমাকে আমার উচ্চতর ভূমি দাফন করবে। তিনি এ কথা শুনে খুব কান্না শুরু করলেন, এমনকি তিনি বাহন থেকে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00