📄 আল্লাহ অপরাধ গোপন রাখার কারণে তুমি ধোঁকায় পড় না
একদিন বিশিষ্ট আলেম দ্বীন খালেদ বিন সফওয়ান আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে উপস্থিত হলেন। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁকে অনুরোধ করে বললেন, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন কিছু মানুষতো এমন, যাদের পাপ আল্লাহ গোপন রাখায় তারা ধোঁকায় পড়ে গেছে। লোকজনের মিথ্যা প্রশংসা তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে। আপনি নিজের সম্পর্কে জানার পরেই ওদের মূর্খতা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে দেয়। আমরা পাপ গোপন থাকা ও ফিতনাকারীদের প্রশংসায় ধোঁকায় পড়ে যাওয়া, আল্লাহর ফরযকৃত হুকুমের বিরোধিতা করা এবং অনর্থক কাজের দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে আমাদের জন্যে ও আপনার জন্যে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয চোখের পানি মুছতে মুছতে বলতে লাগলেন, আমাদের জন্যে তোমার জন্য প্রবৃত্তির অনুসারী থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তারপর খালিদ বললেন, আপনার ওগর কোনো লোক থাকুক তা আল্লাহ পছন্দ করেন না। সুতরাং কোনো লোক আপনার থেকে বেশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুক আপনিও তা পছন্দ করবেন না। অর্থাৎ আপনি সবার থেকে বেশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। এ কথা শুনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খুব কান্না শুরু করলেন। এমনকি তিনি বেহুঁশ হয়ে যাওয়ার মতো হয়ে গেলেন। একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি বললেন, আহ! খালিদ! যিনি চান না আমার ওপর কেউ থাকুক, আল্লাহ্র শপথ! আমি আমার সবটুকু চেষ্টা দিয়ে তাঁকে ভীষণভাবে ভয় করব, তাঁর আদেশের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকব, তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করব, তাঁকে ভালোবাসব এবং তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব।
একদিন বিশিষ্ট আলেম দ্বীন খালেদ বিন সফওয়ান আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে উপস্থিত হলেন। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁকে অনুরোধ করে বললেন, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন কিছু মানুষতো এমন, যাদের পাপ আল্লাহ গোপন রাখায় তারা ধোঁকায় পড়ে গেছে। লোকজনের মিথ্যা প্রশংসা তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে। আপনি নিজের সম্পর্কে জানার পরেই ওদের মূর্খতা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে দেয়। আমরা পাপ গোপন থাকা ও ফিতনাকারীদের প্রশংসায় ধোঁকায় পড়ে যাওয়া, আল্লাহর ফরযকৃত হুকুমের বিরোধিতা করা এবং অনর্থক কাজের দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে আমাদের জন্যে ও আপনার জন্যে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয চোখের পানি মুছতে মুছতে বলতে লাগলেন, আমাদের জন্যে তোমার জন্য প্রবৃত্তির অনুসারী থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তারপর খালিদ বললেন, আপনার ওগর কোনো লোক থাকুক তা আল্লাহ পছন্দ করেন না। সুতরাং কোনো লোক আপনার থেকে বেশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুক আপনিও তা পছন্দ করবেন না। অর্থাৎ আপনি সবার থেকে বেশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। এ কথা শুনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খুব কান্না শুরু করলেন। এমনকি তিনি বেহুঁশ হয়ে যাওয়ার মতো হয়ে গেলেন। একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি বললেন, আহ! খালিদ! যিনি চান না আমার ওপর কেউ থাকুক, আল্লাহ্র শপথ! আমি আমার সবটুকু চেষ্টা দিয়ে তাঁকে ভীষণভাবে ভয় করব, তাঁর আদেশের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকব, তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করব, তাঁকে ভালোবাসব এবং তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব।
📄 ছেলে ও আপেল
একদিন বায়তুল মালের 'ফাই' (এক প্রকারের কর)-এর কিছু আপেল আসল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তা মানুষের মাঝে বণ্টন করছিলেন। ঠিক এমন সময় তাঁর ছেলে সেখান থেকে একটি আপেল মুখে দিয়ে ফেলল। তখন তিনি তাঁর ছেলের মুখ থেকে তা জোর করে টেনে নিয়ে গেলেন। এতে তাঁর ছোট ঐ ছেলেটি খুবই কষ্ট পেল, সে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর মায়ের কাছে চলে গেল। তার মা লোক পাঠিয়ে বাজার থেকে আপেল কিনে ছেলেকে খেতে দিল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ঘরে ফিরে আপেলের ঘ্রাণ পেয়ে খুব ভীত হয়ে তাঁর স্ত্রীকে বললেন, তোমরা কি এ ‘ফাই’ থেকে কোনো কিছু নিয়ে এসেছ? তাঁর স্ত্রী বললেন, না। এরপর বাজার থেকে আপেল কিনে আনার বিষয়ে তাঁকে জানালেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! যখন আমি আপেলটি আমার ছেলের মুখ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছি মনে হচ্ছিল আপেলটি আমার হৃদয় থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছি, কিন্তু মুসলমানদের ‘ফাই’ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করে আল্লাহর কাছে থাকা আমার প্রতিদানকে নষ্ট করতে আমি অপছন্দ করেছি।
একদিন বায়তুল মালের 'ফাই' (এক প্রকারের কর)-এর কিছু আপেল আসল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তা মানুষের মাঝে বণ্টন করছিলেন। ঠিক এমন সময় তাঁর ছেলে সেখান থেকে একটি আপেল মুখে দিয়ে ফেলল। তখন তিনি তাঁর ছেলের মুখ থেকে তা জোর করে টেনে নিয়ে গেলেন। এতে তাঁর ছোট ঐ ছেলেটি খুবই কষ্ট পেল, সে কাঁদতে কাঁদতে তাঁর মায়ের কাছে চলে গেল। তার মা লোক পাঠিয়ে বাজার থেকে আপেল কিনে ছেলেকে খেতে দিল। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ঘরে ফিরে আপেলের ঘ্রাণ পেয়ে খুব ভীত হয়ে তাঁর স্ত্রীকে বললেন, তোমরা কি এ ‘ফাই’ থেকে কোনো কিছু নিয়ে এসেছ? তাঁর স্ত্রী বললেন, না। এরপর বাজার থেকে আপেল কিনে আনার বিষয়ে তাঁকে জানালেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! যখন আমি আপেলটি আমার ছেলের মুখ থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছি মনে হচ্ছিল আপেলটি আমার হৃদয় থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছি, কিন্তু মুসলমানদের ‘ফাই’ থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করে আল্লাহর কাছে থাকা আমার প্রতিদানকে নষ্ট করতে আমি অপছন্দ করেছি।
📄 আখেরাতের প্রতি ওমর (রহ)-এর আগ্রহ
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর ভালো নেককার ভাইদের মধ্যে এক ভাই এসে তাঁকে বলতে লাগল, যদি তুমি চাও, তুমি ওমর এ হিসেবে আমাকে তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে অপছন্দ করবে তবে পরকালে পছন্দ করবে। আর যদি তুমি চাও, তুমি আমীরুল মুমিনীন এ হিসেবে আমি তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে পছন্দ করবে তবে পরকালে অপছন্দ করবে। তখন তিনি বললেন; বরং আমি ওমর, এ হিসেবে তুমি কথা বল, যা আমি আজ অপছন্দ করি, কিন্তু কাল (কিয়ামতের দিন) পছন্দ করব।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর ভালো নেককার ভাইদের মধ্যে এক ভাই এসে তাঁকে বলতে লাগল, যদি তুমি চাও, তুমি ওমর এ হিসেবে আমাকে তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে অপছন্দ করবে তবে পরকালে পছন্দ করবে। আর যদি তুমি চাও, তুমি আমীরুল মুমিনীন এ হিসেবে আমি তোমার সাথে কথা বলব যা তুমি আজকে পছন্দ করবে তবে পরকালে অপছন্দ করবে। তখন তিনি বললেন; বরং আমি ওমর, এ হিসেবে তুমি কথা বল, যা আমি আজ অপছন্দ করি, কিন্তু কাল (কিয়ামতের দিন) পছন্দ করব।
📄 এমন নেতা যিনি কোনো দিনারের মালিক না
গ্রীষ্মের এক উত্তপ্ত দিনে আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর স্ত্রীর কাছে এসে বললেন, ফাতেমা! তোমার কাছে কোনো দিরহাম আছে? কিছু আঙ্গুর কিনে আনতাম। ফাতেমা বললেন, না, আমার কাছে কোনো দিরহাম নেই। তিনি বললেন, এমন কিছু আছে, যা দিয়ে আঙ্গুর কেনা যেতে পারে? ফাতেমা বললেন, না, তাও নেই।
উপস্থিত একলোক তাদের আপেল শুনে আশ্চর্য হয়ে বলল, আপনি আমীরুল মুমিনীন আপনি নিজের জন্যে কোনো অর্থকড়ি নির্ধারণ করতে পারেন না যা দ্বারা আপনি আঙ্গুর কিনতে পারেন। তখন তিনি মৃদু হাসি দিয়ে বললেন, জান্নাততত্ত্ব করে জাহান্নামের আগুন সহ্য করা থেকে বিরত থাকা এটা আমার কাছে অনেক সহজ।
গ্রীষ্মের এক উত্তপ্ত দিনে আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর স্ত্রীর কাছে এসে বললেন, ফাতেমা! তোমার কাছে কোনো দিরহাম আছে? কিছু আঙ্গুর কিনে আনতাম। ফাতেমা বললেন, না, আমার কাছে কোনো দিরহাম নেই। তিনি বললেন, এমন কিছু আছে, যা দিয়ে আঙ্গুর কেনা যেতে পারে? ফাতেমা বললেন, না, তাও নেই।
উপস্থিত একলোক তাদের আপেল শুনে আশ্চর্য হয়ে বলল, আপনি আমীরুল মুমিনীন আপনি নিজের জন্যে কোনো অর্থকড়ি নির্ধারণ করতে পারেন না যা দ্বারা আপনি আঙ্গুর কিনতে পারেন। তখন তিনি মৃদু হাসি দিয়ে বললেন, জান্নাততত্ত্ব করে জাহান্নামের আগুন সহ্য করা থেকে বিরত থাকা এটা আমার কাছে অনেক সহজ।