📄 মৃত্যুকে আপনার মাথায় রাখুন
একদিন দুনিয়াবিমুখ খোদাদত্ত আবেদ আবু হাজিম খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে আসলেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বললেন, আপনি আমাকে কিছু উপদেশ দিন।
আবু হাজিম তাঁকে বললেন, হেলান দিয়ে বসুন, তারপর ভাবুন মৃত্যু এখন আপনার মাথার ওপরে, এ মুহুর্তে কি করতে আপনি অধিক পছন্দ করবেন, তা করুন আর কি করতে অপছন্দ করবেন তা এখনই বর্জন করুন।
পরে আবার হযরত আবু হাজিম খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে চিঠি লিখে উপদেশ দিলেন, সতর্ক থাক যখন এমন অবস্থায় তুমি মুহাম্মদ ﷺ-এর সাথে মিলিত হতে পার, তখন তুমি তার অতীত সত্ত্বার প্রভার করছ।
এমনটি যেন না হয়, তখন তুমি তার উন্মোচকের ও তার জুলুম করছ আর তিনিই উন্মোচক পয়ে তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষাদাতা হবেন।
একদিন জনৈক ব্যক্তি খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর সামনে তাঁর প্রশংসা করতে লাগল। তাঁর কাছে বিষয়টা মোটেও ভালো লাগেনি।
তিনি লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি যদি আমার অন্তরের অবস্থা জানতে তবে খুশিতে আমার দিকে তাকাতেও পারতে না।
অনুরূপ আরেক লোক তাঁর সাথে কুশল বিনিময় করে জিজ্ঞেস করল, আমীরুল মুমিনীন সকাল কেমন কাটিয়েছেন?
তিনি জবাব দিলেন, আমার সকাল কেটেছে প্রচুর স্বরূপ থেকে গাফেল হয়ে পাপে তাপে, আমি আল্লাহর কাছে পুণ্যবানের মর্যাদা আশা করি অথচ কাজ করি বিপরীত।
একদিন দুনিয়াবিমুখ খোদাদত্ত আবেদ আবু হাজিম খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে আসলেন।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাকে বললেন, আপনি আমাকে কিছু উপদেশ দিন।
আবু হাজিম তাঁকে বললেন, হেলান দিয়ে বসুন, তারপর ভাবুন মৃত্যু এখন আপনার মাথার ওপরে, এ মুহুর্তে কি করতে আপনি অধিক পছন্দ করবেন, তা করুন আর কি করতে অপছন্দ করবেন তা এখনই বর্জন করুন।
পরে আবার হযরত আবু হাজিম খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-কে চিঠি লিখে উপদেশ দিলেন, সতর্ক থাক যখন এমন অবস্থায় তুমি মুহাম্মদ ﷺ-এর সাথে মিলিত হতে পার, তখন তুমি তার অতীত সত্ত্বার প্রভার করছ।
এমনটি যেন না হয়, তখন তুমি তার উন্মোচকের ও তার জুলুম করছ আর তিনিই উন্মোচক পয়ে তোমার বিরুদ্ধে সাক্ষাদাতা হবেন।
একদিন জনৈক ব্যক্তি খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর সামনে তাঁর প্রশংসা করতে লাগল। তাঁর কাছে বিষয়টা মোটেও ভালো লাগেনি।
তিনি লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন, তুমি যদি আমার অন্তরের অবস্থা জানতে তবে খুশিতে আমার দিকে তাকাতেও পারতে না।
অনুরূপ আরেক লোক তাঁর সাথে কুশল বিনিময় করে জিজ্ঞেস করল, আমীরুল মুমিনীন সকাল কেমন কাটিয়েছেন?
তিনি জবাব দিলেন, আমার সকাল কেটেছে প্রচুর স্বরূপ থেকে গাফেল হয়ে পাপে তাপে, আমি আল্লাহর কাছে পুণ্যবানের মর্যাদা আশা করি অথচ কাজ করি বিপরীত।
📄 সাবিক গাইছে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) কাঁদছেন
একদিন বিখ্যাত সূফী সাবিক বারবারী খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে উপস্থিত হলেন।
হযরত ওমব তাঁকে কিছু কবিতা আবৃত্তি করতে বললেন। তিনি তার কথামতো আবৃত্তি করতে লাগলেন। আবৃত্তি করতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি বললেন,
فَكَمْ مِنْ صَحِيحٍ بَاتَ لِلْمَوْتِ آمِنَا أَتَاهُ الْمَنَايَا بَغْتَةً بَعْدَمَا نُجِعًا
فَلَاوَي مِنَ الْأَقْدَارِ وَلَا يُعْدُهُ مِنَ الْمَوْتِ مَنْعَةُ وَلَا مُتَقَدَّمُ فَأَصْبَحَتْ كَفَيهِ مِنَ الدُّنْيَا مُفْقِراً وَلَا يَسْمَعُ الدَّاعِي إِذَا صَوْتُهُ رُفِعَ وَفَارَقَ مَا قَدْ كَانَ بِالْأَرْضِ قَدْ جَمَعَ
মৃত্যু শ্যামকাজ
কত সুস্থ ব্যক্তি, মৃত্যু আসে হঠাৎ অথচ সে ঘুমে স্থির।
পারে না সে বাঁচাতে শির, পারে না পালাতে হোক না যত বড়ই বীর।
মৃত্যুর সংবাদে তাদের চোখে শুধু অশ্রু ঝরে, যে সকল নারী আড়ালে থাকে ঘোমটা পরে।
যদিও মৃত ডাকে চিৎকার করে, তবু পারে না পৌঁছাতে অন্যের কর্ণকুহরে।
নিয়ে যায় তাকে কবরে, তারেই অর্জিত সম্পদ থেকে যায় অন্যের তরে।
কবিতার এ কথাগুলো শুনার পর হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) কাঁদতে শুরু করলেন, ধীরে ধীরে তাঁর কান্না আরো বাড়তে লাগল এমনকি তিনি বেহুঁশ হওয়ার উপক্রম হলেন।
অন্য একদিন দুনিয়াবিমুখী কবি সাবিক বারবারী ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে আসে।
তিনি তাঁকে বললেন, সাবিক আমাকে নসিহত কর এবং ভয় দেখাও।
সাবিক বারবারী বললেন, হ্যাঁ, আমীরুল মুমিনীন।
এরপর তিনি আবৃত্তি করতে শুরু করেন এবং ওমর বিন আব্দুল আযীয কাঁদতে লাগলেন।
একদিন বিখ্যাত সূফী সাবিক বারবারী খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে উপস্থিত হলেন।
হযরত ওমব তাঁকে কিছু কবিতা আবৃত্তি করতে বললেন। তিনি তার কথামতো আবৃত্তি করতে লাগলেন। আবৃত্তি করতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি বললেন,
فَكَمْ مِنْ صَحِيحٍ بَاتَ لِلْمَوْتِ آمِنَا أَتَاهُ الْمَنَايَا بَغْتَةً بَعْدَمَا نُجِعًا
فَلَاوَي مِنَ الْأَقْدَارِ وَلَا يُعْدُهُ مِنَ الْمَوْتِ مَنْعَةُ وَلَا مُتَقَدَّمُ فَأَصْبَحَتْ كَفَيهِ مِنَ الدُّنْيَا مُفْقِراً وَلَا يَسْمَعُ الدَّاعِي إِذَا صَوْتُهُ رُفِعَ وَفَارَقَ مَا قَدْ كَانَ بِالْأَرْضِ قَدْ جَمَعَ
মৃত্যু শ্যামকাজ
কত সুস্থ ব্যক্তি, মৃত্যু আসে হঠাৎ অথচ সে ঘুমে স্থির।
পারে না সে বাঁচাতে শির, পারে না পালাতে হোক না যত বড়ই বীর।
মৃত্যুর সংবাদে তাদের চোখে শুধু অশ্রু ঝরে, যে সকল নারী আড়ালে থাকে ঘোমটা পরে।
যদিও মৃত ডাকে চিৎকার করে, তবু পারে না পৌঁছাতে অন্যের কর্ণকুহরে।
নিয়ে যায় তাকে কবরে, তারেই অর্জিত সম্পদ থেকে যায় অন্যের তরে।
কবিতার এ কথাগুলো শুনার পর হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) কাঁদতে শুরু করলেন, ধীরে ধীরে তাঁর কান্না আরো বাড়তে লাগল এমনকি তিনি বেহুঁশ হওয়ার উপক্রম হলেন।
অন্য একদিন দুনিয়াবিমুখী কবি সাবিক বারবারী ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে আসে।
তিনি তাঁকে বললেন, সাবিক আমাকে নসিহত কর এবং ভয় দেখাও।
সাবিক বারবারী বললেন, হ্যাঁ, আমীরুল মুমিনীন।
এরপর তিনি আবৃত্তি করতে শুরু করেন এবং ওমর বিন আব্দুল আযীয কাঁদতে লাগলেন।
📄 তিনি দিরহাম ও দিনার পছন্দ করেন না
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মুসলিম জাহানের খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর একদিন দু’ চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বসে বসে কাঁদছিলেন। অতঃপর তিনি একজন আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞেস করলেন, আবু কেলাবা! তুমি খিলাফতের দায়িত্বে আমার ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব ভয় কর। তিনি বললেন, দিনার ও দিরাহামের প্রতি তোমার আকর্ষণ কেমন? ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, আমি এগুলো পছন্দ করি না। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহ তোমার সাহায্য করবেন, তুমি ভয় করো না।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) মুসলিম জাহানের খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর একদিন দু’ চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বসে বসে কাঁদছিলেন। অতঃপর তিনি একজন আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তির কাছে জিজ্ঞেস করলেন, আবু কেলাবা! তুমি খিলাফতের দায়িত্বে আমার ব্যাপারে কোনো প্রস্তাব ভয় কর। তিনি বললেন, দিনার ও দিরাহামের প্রতি তোমার আকর্ষণ কেমন? ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, আমি এগুলো পছন্দ করি না। তিনি বললেন, তাহলে আল্লাহ তোমার সাহায্য করবেন, তুমি ভয় করো না।
📄 আল্লাহ অপরাধ গোপন রাখার কারণে তুমি ধোঁকায় পড় না
একদিন বিশিষ্ট আলেম দ্বীন খালেদ বিন সফওয়ান আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে উপস্থিত হলেন। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁকে অনুরোধ করে বললেন, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন কিছু মানুষতো এমন, যাদের পাপ আল্লাহ গোপন রাখায় তারা ধোঁকায় পড়ে গেছে। লোকজনের মিথ্যা প্রশংসা তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে। আপনি নিজের সম্পর্কে জানার পরেই ওদের মূর্খতা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে দেয়। আমরা পাপ গোপন থাকা ও ফিতনাকারীদের প্রশংসায় ধোঁকায় পড়ে যাওয়া, আল্লাহর ফরযকৃত হুকুমের বিরোধিতা করা এবং অনর্থক কাজের দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে আমাদের জন্যে ও আপনার জন্যে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয চোখের পানি মুছতে মুছতে বলতে লাগলেন, আমাদের জন্যে তোমার জন্য প্রবৃত্তির অনুসারী থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তারপর খালিদ বললেন, আপনার ওগর কোনো লোক থাকুক তা আল্লাহ পছন্দ করেন না। সুতরাং কোনো লোক আপনার থেকে বেশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুক আপনিও তা পছন্দ করবেন না। অর্থাৎ আপনি সবার থেকে বেশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। এ কথা শুনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খুব কান্না শুরু করলেন। এমনকি তিনি বেহুঁশ হয়ে যাওয়ার মতো হয়ে গেলেন। একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি বললেন, আহ! খালিদ! যিনি চান না আমার ওপর কেউ থাকুক, আল্লাহ্র শপথ! আমি আমার সবটুকু চেষ্টা দিয়ে তাঁকে ভীষণভাবে ভয় করব, তাঁর আদেশের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকব, তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করব, তাঁকে ভালোবাসব এবং তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব।
একদিন বিশিষ্ট আলেম দ্বীন খালেদ বিন সফওয়ান আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে উপস্থিত হলেন। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁকে অনুরোধ করে বললেন, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন কিছু মানুষতো এমন, যাদের পাপ আল্লাহ গোপন রাখায় তারা ধোঁকায় পড়ে গেছে। লোকজনের মিথ্যা প্রশংসা তাদেরকে ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে। আপনি নিজের সম্পর্কে জানার পরেই ওদের মূর্খতা যেন আপনাকে ধোঁকায় না ফেলে দেয়। আমরা পাপ গোপন থাকা ও ফিতনাকারীদের প্রশংসায় ধোঁকায় পড়ে যাওয়া, আল্লাহর ফরযকৃত হুকুমের বিরোধিতা করা এবং অনর্থক কাজের দিকে ঝুঁকে পড়া থেকে আমাদের জন্যে ও আপনার জন্যে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয চোখের পানি মুছতে মুছতে বলতে লাগলেন, আমাদের জন্যে তোমার জন্য প্রবৃত্তির অনুসারী থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তারপর খালিদ বললেন, আপনার ওগর কোনো লোক থাকুক তা আল্লাহ পছন্দ করেন না। সুতরাং কোনো লোক আপনার থেকে বেশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুক আপনিও তা পছন্দ করবেন না। অর্থাৎ আপনি সবার থেকে বেশি আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। এ কথা শুনে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খুব কান্না শুরু করলেন। এমনকি তিনি বেহুঁশ হয়ে যাওয়ার মতো হয়ে গেলেন। একটু স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি বললেন, আহ! খালিদ! যিনি চান না আমার ওপর কেউ থাকুক, আল্লাহ্র শপথ! আমি আমার সবটুকু চেষ্টা দিয়ে তাঁকে ভীষণভাবে ভয় করব, তাঁর আদেশের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকব, তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করব, তাঁকে ভালোবাসব এবং তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব।