📄 আল্লাহর ওপর ভরসা
একদিন সকালে ওমর বিন আব্দুল আযীয তার গোলাম মাজাহেমকে সাথে নিয়ে মদিনা থেকে বের হলেন। (চাঁদের একটি অবস্থানের স্থান) দাররারে চাঁদ দেখে তাঁর গোলাম মাজাহিম এ সময় বের হওয়া অপছন্দ করলেন। তাই সে ওমর বিন আব্দুল আযীযকে বলল, আপনি চাঁদের দিকে দেখেননি, আজ চাঁদ কত উজ্জ্বল দেখাচ্ছে?
হযরত ওমর চাঁদের দিকে লক্ষ্য করে তাঁর গোলামকে বললেন, মনে হয় তুমি দাবররান সম্পর্কে আমাকে জ্ঞান দিচ্ছ?
শুন মাজাহিম, আমরা চাঁদ সূর্যের জন্য বের হচ্ছি না আমরা পরম প্রতাপশালী এক আল্লাহর জন্য বের হচ্ছি।
📄 হাজ্জাজের শোষণের ক্ষেত্রগুলো
কোনো এক দুপুরে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) নেতৃস্থানীয় লোকদের নিয়ে পরামর্শে বসলেন, হাজ্জাজের শোষণের ক্ষেত্রগুলো কীভাবে শোষণমুক্ত করা যায়, এ নিয়ে পরামর্শ করতে লাগলেন।
তিনি যার কাছে এ সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলেন প্রত্যেকে বলল, আমীরুল মুমিনীন তখনতো আপনার কর্তৃত্বও ছিল না আপনার শাসনকালও ছিল না, কাজেই দুষ্কৃর্তার কিছুই নেই।
তিনি একের পর এক সবাইকে জিজ্ঞেস করার পর তাঁর পুত্র আব্দুল মালিকের কাছে এলেন।
তিনি তাকে বললেন, হে আমার ছেলে! আমি যে বিষয়ে পরামর্শ করছি এ ব্যাপারে তোমার মতামত কি?
আব্দুল মালিক বললেন, হাজ্জাজের জুলুম নির্যাতন প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়ে প্রতিরোধ না করায় আল্লাহ তাআ'লা তাকে হাজ্জাজের জুলুমের ভেতরের শামিল করবেন না, এ ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয বললেন, তুমি যদি আমার ছেলে না হতে তাহলে আমি অবশ্যই বলতাম, তুমি সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি।
📄 প্রজারা রাজার মতোই হয়
খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক খিলাফতের অধিকাংশ সময় অবকাশতামো নির্মাণে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি দামেস্কের মসজিদ, মসজিদে নববীসহ বহু মসজিদ নির্মাণ করেন। মানুষের পানির সুবিধার্তে তিনি বিভিন্ন জায়গায় কূপ নির্মাণ ও পানি প্রবাহিত করার ব্যবস্থা করেন। আল ওয়ালিদ নির্মাণ কাজে বেশি উৎসাহী হওয়ার কারণে তার প্রজারাও সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। তার খিলাফতের সময় মানুষ একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হলে বলত, তোমার প্রাসাদ নির্মাণ কতটুকু বাকি আছে? বাগানের কি অবস্থা? আরো অন্যান্য নির্মাণ সম্পর্কে পরস্পরের সাক্ষাতে আলাপ করত।
পরবর্তী খলিফা সুলাইমান বিন মালিক ভোগ-বিলাসিতা, খেলাধুলা ও আরাম আয়েশে ব্যস্ত ছিল। ফলে জনসাধারণও সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। তার খিলাফতকালে মানুষ একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ জিজ্ঞেস করত, তোমার দাসীর কি অবস্থা? তুমি কবে বিয়ে করবে? পরস্পর দেখা সাক্ষাতে এ সমস্ত বিষয় নিয়ে তারা পর্যালোচনা করত।
আবার যখন দুনিয়া বিরাগী খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) শাসন পরিচালনা করতে শুরু করেন, তখন জনসাধারণও পরকালমুখী হয়ে পড়ে।
তখন তারা পরস্পর দেখা হলে বলত, কুরআন শরীফ খতম করার কতটুকু বাকি আছে? তাহাজ্জুদ পড়তে কখন উঠ? মাসে কয়দিন নফল রোজা রাখ? এছাড়াও আরো অন্যান্য ইবাদতের ব্যাপারে কথা বলত।
খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক খিলাফতের অধিকাংশ সময় অবকাশতামো নির্মাণে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি দামেস্কের মসজিদ, মসজিদে নববীসহ বহু মসজিদ নির্মাণ করেন। মানুষের পানির সুবিধার্তে তিনি বিভিন্ন জায়গায় কূপ নির্মাণ ও পানি প্রবাহিত করার ব্যবস্থা করেন। আল ওয়ালিদ নির্মাণ কাজে বেশি উৎসাহী হওয়ার কারণে তার প্রজারাও সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। তার খিলাফতের সময় মানুষ একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হলে বলত, তোমার প্রাসাদ নির্মাণ কতটুকু বাকি আছে? বাগানের কি অবস্থা? আরো অন্যান্য নির্মাণ সম্পর্কে পরস্পরের সাক্ষাতে আলাপ করত।
পরবর্তী খলিফা সুলাইমান বিন মালিক ভোগ-বিলাসিতা, খেলাধুলা ও আরাম আয়েশে ব্যস্ত ছিল। ফলে জনসাধারণও সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। তার খিলাফতকালে মানুষ একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ জিজ্ঞেস করত, তোমার দাসীর কি অবস্থা? তুমি কবে বিয়ে করবে? পরস্পর দেখা সাক্ষাতে এ সমস্ত বিষয় নিয়ে তারা পর্যালোচনা করত।
আবার যখন দুনিয়া বিরাগী খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) শাসন পরিচালনা করতে শুরু করেন, তখন জনসাধারণও পরকালমুখী হয়ে পড়ে।
তখন তারা পরস্পর দেখা হলে বলত, কুরআন শরীফ খতম করার কতটুকু বাকি আছে? তাহাজ্জুদ পড়তে কখন উঠ? মাসে কয়দিন নফল রোজা রাখ? এছাড়াও আরো অন্যান্য ইবাদতের ব্যাপারে কথা বলত।
📄 খলিফারা তাকে ফিরিয়ে দিত না
একদিন কোরাইশী এক লোক খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে আসল। সে এমন লোক যে কোনো কিছু চাইলে পূর্ববর্তী খলিফারা খালি হাতে ফিরিয়ে দিত না।
যখন সে ওমর বিন আব্দুল আযীযের কাছে গিয়ে তার প্রয়োজনের কথা বলল।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয বললেন, তোমাকে কোনোকিছু দেওয়া বৈধ হবে না। এ বলে তিনি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিলেন।
যখন লোকটি ফিরে যেতে চাইল তখন হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ডাক দিয়ে বললেন, হে খালিদের বাবা! দুনিয়ার কোনোকিছু দেখে যদি তুমি আর্ষিতও হও তখন মৃত্যুকে স্মরণ কর তাহলে দুনিয়ার প্রতি তোমার আকর্ষণ কমে যাবে। আর যখন দুনিয়ার কোনো ব্যাপারে তোমাকে চিন্তিত করবে তখনও মৃত্যুকে স্মরণ কর তাহলে তা তোমার কাছে সাধারণ মনে হবে।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর কর্মচারীদের বেতনভাতার ব্যাপারে ছিলেন খুবই উদার। তিনি তাদের কোনো কোনো জনকে মাসে শত দিনার বা তারও বেশি দিতেন।
তিনি মনে করতেন, যখন তাদের বেতনভাতা যথেষ্ট হবে তখন তারা মুসলমানদের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে।
কেউ কেউ তাঁকে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি কর্মচারীদের জন্য যেমন ব্যয় করে অফুর যদি আপনার পরিবারের সদস্যের জন্যেও ব্যয় করতেন।
ওমর তাদেরকে বললেন, আমি কাউকে অধিকার নেওয়া থেকে বাধা দিতে পারব না আবার একজনের অধিকার অন্যকেও দিতে পারব না।
তারা বলল, খলিফা হওয়ার পূর্বে তো আপনার পরিবার আপনার মধ্যে সমৃদ্ধি ও সম্পদের অধিকারী ছিল।
একদিন কোরাইশী এক লোক খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর কাছে আসল। সে এমন লোক যে কোনো কিছু চাইলে পূর্ববর্তী খলিফারা খালি হাতে ফিরিয়ে দিত না।
যখন সে ওমর বিন আব্দুল আযীযের কাছে গিয়ে তার প্রয়োজনের কথা বলল।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয বললেন, তোমাকে কোনোকিছু দেওয়া বৈধ হবে না। এ বলে তিনি তাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিলেন।
যখন লোকটি ফিরে যেতে চাইল তখন হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ডাক দিয়ে বললেন, হে খালিদের বাবা! দুনিয়ার কোনোকিছু দেখে যদি তুমি আর্ষিতও হও তখন মৃত্যুকে স্মরণ কর তাহলে দুনিয়ার প্রতি তোমার আকর্ষণ কমে যাবে। আর যখন দুনিয়ার কোনো ব্যাপারে তোমাকে চিন্তিত করবে তখনও মৃত্যুকে স্মরণ কর তাহলে তা তোমার কাছে সাধারণ মনে হবে।
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর কর্মচারীদের বেতনভাতার ব্যাপারে ছিলেন খুবই উদার। তিনি তাদের কোনো কোনো জনকে মাসে শত দিনার বা তারও বেশি দিতেন।
তিনি মনে করতেন, যখন তাদের বেতনভাতা যথেষ্ট হবে তখন তারা মুসলমানদের জন্য একনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারবে।
কেউ কেউ তাঁকে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি কর্মচারীদের জন্য যেমন ব্যয় করে অফুর যদি আপনার পরিবারের সদস্যের জন্যেও ব্যয় করতেন।
ওমর তাদেরকে বললেন, আমি কাউকে অধিকার নেওয়া থেকে বাধা দিতে পারব না আবার একজনের অধিকার অন্যকেও দিতে পারব না।
তারা বলল, খলিফা হওয়ার পূর্বে তো আপনার পরিবার আপনার মধ্যে সমৃদ্ধি ও সম্পদের অধিকারী ছিল।