📄 বিশ্বস্ত উপদেশ প্রদানকারী
সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের মৃত্যুর পর মুসলিম জাহানের খলিফা তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয। এরই মাঝে একদিন ওমরের দরবারে নগ্ন ভদ্র সভার এক ব্যক্তি এলেন। এই লোকটি ওমরকে উপদেশ দিয়ে বললেন, আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হও, তাঁর আদেশ পালন নিজেকে সম্পূর্ণ কর, আর আল্লাহর কাছে যা আছে তার আশা করুন। কেননা আল্লাহর কাছে স্থায়ী কল্যাণ ও মসিবতের বিনিময় রয়েছে। লক্ষ্য করুন, আপনি সুলাইমানের জন্যে যে ব্যাপারে ভয় করছেন নিজের জন্যেও সে ব্যাপারে ভয় করুন। এরপর লোকটি ফিরে গেলেন, তাঁর কাছে থাকা উপদেশগুলো যথাযথভাবে বলতে পারায় তার অন্তর জুড়িতে ভরে গেল। লোকটির কথাগুলো ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল আর তিনি বলতে লাগলে, আমার ওপর তা আবশ্যক.........। যখন লোকটি আবার আসল তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি আমাকে এ কথাগুলো কেন বলছ? লোকটি খুব আদবের সাথে বলল, যদি আপনি আমাকে নিরাপত্তা দেন তাহলে আমি বলতে পারি। তিনি বললেন, তুমি নিরাপদ। লোকটি বললেন, আমি দেখলাম আপনি লম্বা জামা পরছেন, চুলগুলো খুব পরিপাটি করে রাখছেন, আপনার শরীর থেকে সুগন্ধি ছড়াচ্ছে, তখন আমি আশ্চর্য হলাম, তবুও আল্লাহ্ তা'আলা কীভাবে আপনাকে তাঁর দ্বীনের ঘাড়ে চাপিয়ে রেখেছেন। হযরত ওমর খিলাফতের দায়িত্ব যখন আপনার ওপর আসে তখন আপনার পরিত্যজ্য জেনে আপনাকে এগুলো বলা নিজের কর্তব্য মনে করলাম। লোকটির কথা শুনে ওমর রুষ্ট চোখের ওপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, যাও! যদি আপনি আমাদের দেশে আমার সাথে বসবাস করেন তাহলে আপনি আমাদের নিরাপত্তায়। আর যদি বাইরে থাকেন তাহলে আল্লাহর হিফাজতে।
📄 খালিদ বিন রাইয়ানকে অপসারণ
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের জুলুম ও অত্যাচারী কর্মের সহযোগী খালিদ বিন রাইয়ানকে অপসারণ করেন। এ জুলুম সবসময় গর্ব অহংকার করে বেড়াত।
এরপর হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমিতো শুধু তোমার সন্তুষ্টির জন্যই এ লোকটিকে বরখাস্ত করেছি। সুতরাং তুমি কখনো তাকে পুনর্য়াতনা কর না। বর্ণিত আছে যে, কোনো সম্মানিত লোক খালিদ বিন রায়ইয়ান এর ব্যাপারে কোনোকিছুই বর্ণনা করেননি।
মানুষ বলত, খালিদ বিন রায়ইয়ানকে কি হয়েছে? সে কি মারা গেছে না জীবিত আছে?
📄 আল্লাহর ওপর ভরসা
একদিন সকালে ওমর বিন আব্দুল আযীয তার গোলাম মাজাহেমকে সাথে নিয়ে মদিনা থেকে বের হলেন। (চাঁদের একটি অবস্থানের স্থান) দাররারে চাঁদ দেখে তাঁর গোলাম মাজাহিম এ সময় বের হওয়া অপছন্দ করলেন। তাই সে ওমর বিন আব্দুল আযীযকে বলল, আপনি চাঁদের দিকে দেখেননি, আজ চাঁদ কত উজ্জ্বল দেখাচ্ছে?
হযরত ওমর চাঁদের দিকে লক্ষ্য করে তাঁর গোলামকে বললেন, মনে হয় তুমি দাবররান সম্পর্কে আমাকে জ্ঞান দিচ্ছ?
শুন মাজাহিম, আমরা চাঁদ সূর্যের জন্য বের হচ্ছি না আমরা পরম প্রতাপশালী এক আল্লাহর জন্য বের হচ্ছি।
📄 হাজ্জাজের শোষণের ক্ষেত্রগুলো
কোনো এক দুপুরে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) নেতৃস্থানীয় লোকদের নিয়ে পরামর্শে বসলেন, হাজ্জাজের শোষণের ক্ষেত্রগুলো কীভাবে শোষণমুক্ত করা যায়, এ নিয়ে পরামর্শ করতে লাগলেন।
তিনি যার কাছে এ সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলেন প্রত্যেকে বলল, আমীরুল মুমিনীন তখনতো আপনার কর্তৃত্বও ছিল না আপনার শাসনকালও ছিল না, কাজেই দুষ্কৃর্তার কিছুই নেই।
তিনি একের পর এক সবাইকে জিজ্ঞেস করার পর তাঁর পুত্র আব্দুল মালিকের কাছে এলেন।
তিনি তাকে বললেন, হে আমার ছেলে! আমি যে বিষয়ে পরামর্শ করছি এ ব্যাপারে তোমার মতামত কি?
আব্দুল মালিক বললেন, হাজ্জাজের জুলুম নির্যাতন প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়ে প্রতিরোধ না করায় আল্লাহ তাআ'লা তাকে হাজ্জাজের জুলুমের ভেতরের শামিল করবেন না, এ ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা নেই।
তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয বললেন, তুমি যদি আমার ছেলে না হতে তাহলে আমি অবশ্যই বলতাম, তুমি সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তি।