📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আপনি ঘুমাচ্ছেন আর আপনার প্রজারা দরজায়

📄 আপনি ঘুমাচ্ছেন আর আপনার প্রজারা দরজায়


এক সকালে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) জনসাধারণের বিচারকার্য নিয়ে বসলেন। সকাল গড়িয়ে যখন দুপুর হলো ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। তিনি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে চাইলেন। তাঁর জনসাধারণকে লক্ষ্য করে বললেন, আমি ফিরে আসা পর্যন্ত তোমরা তোমাদের জায়গায় থাক। এরপর তিনি বিশ্রাম নিতে চলে গেলেন। ইতোমধ্যে তাঁর ছেলে আব্দুল মালিক বিচারালয়ে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি মানুষদেরকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, তিনি ভেতরে গেছেন। এরপর তাঁর ছেলে তাঁর কাছে ভেতরে প্রবেশ করার অনুমতি চান। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। সে বলল, আমীরুল মুমিনীন! আপনি কেন ভেতরে এলেন? তিনি বললেন, আমি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে এসেছি। সে বলল, আপনার মৃত্যু চলে আসবে অথচ আপনার প্রজারা দরজায় আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে আর আপনি তাদের আড়ালে লুকিয়ে আছেন। এমন মৃত্যু থেকে কি আপনি নিরাপদ? এ কথা শুনে হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয সাথে সাথে কক্ষ থেকে বের হয়ে মানুষের সামনে উপস্থিত হলেন। তখন আব্দুল মালিক বললেন, আমীরুল মুমিনীন! আপনার যখন ইচ্ছা চুন, আল্লাহর শপথ! আমার ভয় হচ্ছে এটি আমার আর আপনার ওপর বিজয়ী হয়ে যাবে। হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন.........। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ তা'আলার যিনি সাহল, আব্দুল মালিক ও মাজাহিমের দ্বারা আমার পিঠ মজবুত করেছেন। উল্লিখিত সাহল হচ্ছে তার ভাই, আব্দুল মালিক তার পুত্র আর মাজাহিম তাঁর গোলাম।
এবং সবাই ছিলেন ওমর (রহ)-এর বিভিন্ন কাজের সহায়ক, অবশ্য এরা সকলে তাঁর শাসনকালেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বিশ্বস্ত উপদেশ প্রদানকারী

📄 বিশ্বস্ত উপদেশ প্রদানকারী


সুলাইমান বিন আব্দুল মালিকের মৃত্যুর পর মুসলিম জাহানের খলিফা তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয। এরই মাঝে একদিন ওমরের দরবারে নগ্ন ভদ্র সভার এক ব্যক্তি এলেন। এই লোকটি ওমরকে উপদেশ দিয়ে বললেন, আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হও, তাঁর আদেশ পালন নিজেকে সম্পূর্ণ কর, আর আল্লাহর কাছে যা আছে তার আশা করুন। কেননা আল্লাহর কাছে স্থায়ী কল্যাণ ও মসিবতের বিনিময় রয়েছে। লক্ষ্য করুন, আপনি সুলাইমানের জন্যে যে ব্যাপারে ভয় করছেন নিজের জন্যেও সে ব্যাপারে ভয় করুন। এরপর লোকটি ফিরে গেলেন, তাঁর কাছে থাকা উপদেশগুলো যথাযথভাবে বলতে পারায় তার অন্তর জুড়িতে ভরে গেল। লোকটির কথাগুলো ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল আর তিনি বলতে লাগলে, আমার ওপর তা আবশ্যক.........। যখন লোকটি আবার আসল তখন তিনি তাকে বললেন, তুমি আমাকে এ কথাগুলো কেন বলছ? লোকটি খুব আদবের সাথে বলল, যদি আপনি আমাকে নিরাপত্তা দেন তাহলে আমি বলতে পারি। তিনি বললেন, তুমি নিরাপদ। লোকটি বললেন, আমি দেখলাম আপনি লম্বা জামা পরছেন, চুলগুলো খুব পরিপাটি করে রাখছেন, আপনার শরীর থেকে সুগন্ধি ছড়াচ্ছে, তখন আমি আশ্চর্য হলাম, তবুও আল্লাহ্ তা'আলা কীভাবে আপনাকে তাঁর দ্বীনের ঘাড়ে চাপিয়ে রেখেছেন। হযরত ওমর খিলাফতের দায়িত্ব যখন আপনার ওপর আসে তখন আপনার পরিত্যজ্য জেনে আপনাকে এগুলো বলা নিজের কর্তব্য মনে করলাম। লোকটির কথা শুনে ওমর রুষ্ট চোখের ওপর ছেড়ে দিয়ে বললেন, যাও! যদি আপনি আমাদের দেশে আমার সাথে বসবাস করেন তাহলে আপনি আমাদের নিরাপত্তায়। আর যদি বাইরে থাকেন তাহলে আল্লাহর হিফাজতে।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 খালিদ বিন রাইয়ানকে অপসারণ

📄 খালিদ বিন রাইয়ানকে অপসারণ


ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের জুলুম ও অত্যাচারী কর্মের সহযোগী খালিদ বিন রাইয়ানকে অপসারণ করেন। এ জুলুম সবসময় গর্ব অহংকার করে বেড়াত।
এরপর হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! আমিতো শুধু তোমার সন্তুষ্টির জন্যই এ লোকটিকে বরখাস্ত করেছি। সুতরাং তুমি কখনো তাকে পুনর্য়াতনা কর না। বর্ণিত আছে যে, কোনো সম্মানিত লোক খালিদ বিন রায়ইয়ান এর ব্যাপারে কোনোকিছুই বর্ণনা করেননি।
মানুষ বলত, খালিদ বিন রায়ইয়ানকে কি হয়েছে? সে কি মারা গেছে না জীবিত আছে?

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আল্লাহর ওপর ভরসা

📄 আল্লাহর ওপর ভরসা


একদিন সকালে ওমর বিন আব্দুল আযীয তার গোলাম মাজাহেমকে সাথে নিয়ে মদিনা থেকে বের হলেন। (চাঁদের একটি অবস্থানের স্থান) দাররারে চাঁদ দেখে তাঁর গোলাম মাজাহিম এ সময় বের হওয়া অপছন্দ করলেন। তাই সে ওমর বিন আব্দুল আযীযকে বলল, আপনি চাঁদের দিকে দেখেননি, আজ চাঁদ কত উজ্জ্বল দেখাচ্ছে?
হযরত ওমর চাঁদের দিকে লক্ষ্য করে তাঁর গোলামকে বললেন, মনে হয় তুমি দাবররান সম্পর্কে আমাকে জ্ঞান দিচ্ছ?
শুন মাজাহিম, আমরা চাঁদ সূর্যের জন্য বের হচ্ছি না আমরা পরম প্রতাপশালী এক আল্লাহর জন্য বের হচ্ছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00