📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বাঘ ও বকরি

📄 বাঘ ও বকরি


ওমর বিন আব্দুল আযীযের শাসন আমলে ইসলামী সাম্রাজ্যের এক নবযুগের সূচনা হয়। জুলুম ও শোষণ বন্ধ হয়ে চারিদিকে শান্তির সু-বাতাস বইতে শুরু করে। রাখালরা বলতে লাগল, আল্লাহ্র কোনো সংবাদ! শাসন পরিচালনা করছেন। তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হল, তোমরা তা কীভাবে বুঝলে? রাখালরা বলল, উনি খলিফা হওয়ার পর থেকে রাখালও পর্যন্তও আমাদের বকরিতেও আক্রমণ করছে না। জিসকুল কাসসাব বর্ণনা করেন, ওমর বিন আব্দুল আযীয যখন খলিফা নিযুক্ত হলেন তখন আমি বকরির দুধ দোহন করতাম। একদিন এক রাখালের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যাওয়ার সময় দেখতে পেলাম প্রায় পঁচিশটি বাঘ তার বকরির পাশে ঘোরাফেরা করছে। ইতিপূর্বে কখনো বাঘ না দেখায় আমি ভাবলাম এগুলো হয়তো বড় জাতের কুকুর হবে। আমি রাখালকে বললাম, তোমার বকরিগুলোর মাঝে এত কুকুর কেন? রাখাল বলল, এ ছেলে! এগুলোতো কুকুর না, এগুলো বাঘ।
আমি অবাক হয়ে বলে উঠলাম, اَللهُ سُبْحَانَا وَتَعَالَى বকরির পাশে বাঘ বিচরণ করছে অথচ কোনো ক্ষতি করছে না। রাখাল বলল, যখন মাথা ঠিক হয়ে যাবে তখন পুরো শরীর ঠিক হয়ে যাবে। ............ এ ঘটনাটি হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর শাসনামলে ঘটেছিল।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তোমরা সত্যের পথে আমাদের সহযোগী হও

📄 তোমরা সত্যের পথে আমাদের সহযোগী হও


এক সকালে খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয জনসাধারণের চৌহদ্দর নিতে বেরিয়ে পড়লেন। লোকজন খলিফাকে আসতে দেখে তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়ে গেল। তাদেরেক দাঁড়াতে দেখে তিনি রেগে গিয়ে বললেন, হে লোক সকল! যদি তোমরা দাঁড়িয়ে থাক তাহলে আমিও দাঁড়িয়ে থাকব। আর যদি তোমরা বস তাহলে আমিও বস। কেননা মানুষ তো শুধু বিশ্ব প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। তারপর তিনি বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন, হে লোক সকল! আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্যে কিছু বিধানকে বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। যে তা অনুসরণ করে সে সত্য ও ন্যায়ের ওপরই আছে। আর যে তা বর্জন করবে সে গোমরাহীতে লিপ্ত থাকবে। সুতরাং তোমরা যারা আমাদের সহযোগী করতে চাও তারা ৪ টিটি বিষয়ে সহযোগীতা কর। ১. যারা কোনো প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমাদের কাছে আসতে পাও, তাদেরকে আমাদের কাছে নিয়ে আসা। ২. আমরা যদি গোমরাহীর পথে চলি তবে ন্যায়ের পথ দেখিয়ে দিবে। ৩. সত্যের পথে আমাদেরকে সহযোগিতা করবে, শাসক শাসিতের আমানত যথাযথ সংরক্ষণ করবে। ৪. আমাদের কাছে কারো সমালোচনা করতে পারো না। ৫. যে এ সকল বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করল না সে তো নিজেকেই আমাদের সঙ্গ ও আমাদের কাছে আসা থেকে বঞ্চিত।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমাকে পরামর্শ দাও

📄 আমাকে পরামর্শ দাও


ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি তাঁর সঙ্গী সালেম বিন আব্দুল্লাহ, মুহাম্মাদ বিন কা'ব ও রাজা বিন হাইয়্যানকে নিয়ে পরামর্শে বসলেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তো দেখছ খিলাফতের দায়িত্ব নিয়ে আমি মহা পরীক্ষায় পড়েছি, কাজেই কি করলে ভালো হয় এ ব্যাপারে তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও।
সালেম বললেন, আমীরুল মুমিনীন আপনি যদি পরকালের আযাব থেকে মুক্তি পেতে চান তবে দুনিয়ার ভোগবিলাস ত্যাগ করুন। আর এ ত্যাগ যেন মৃত্যু পর্যন্ত হয়। মুহাম্মদ বললেন, আমীরুল মুমিনীন আপনি যদি পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে চান তবে মুসলমানদের বড়দের পিতা হিসেবে, যুবকদের ভাই হিসেবে ও ছোটদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করুন। এরপর আপনি আপনার পিতামহের মর্যাদা দিন, ভাইদেরকে সম্মান করুন আর সন্তানদের প্রতি সহানুভূতিশীল হন। রাজা বিন হাইয়্যান বললেন, আপনি যদি আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি পেতে চান তাহলে নিজের জন্যে যা পছন্দ করছেন সর্বসাধারণের জন্যেও তা পছন্দ করুন। নিজের জন্যে যা অপছন্দ করছেন অন্যান্যের জন্যেও তা অপছন্দ করুন। তবেই আপনি চিন্তাহীনভাবে যে কোনো সময় মৃত্যুবরণ করতে পারবেন।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 যখন আপনি অটল থাকবেন তারাও অটল থাকবে

📄 যখন আপনি অটল থাকবেন তারাও অটল থাকবে


ওমর বিন আব্দুল আযীয ইয়াজিদ বিন আলেমসের কাছে চিঠি লিখে তাঁদেরকে তাঁর কাছে আসার জন্য অনুরোধ করলেন, কিন্তু বিখ্যাত বুযুর্গ হাসান বসরী তখন পেটের অসুখে আক্রান্ত ছিলেন। তাই তিনি ওমরের কাছে যেতে না পেরে একটি চিঠি লিখে পাঠালেন। তাতে তিনি লিখলেন, আমীরুল মুমিনীন! যখন আপনি অটল থাকবেন তারও অটল থাকবে। আর আপনি যদি বিচ্যুত হন তারও বিচ্যুত হবে। হে আমীরুল মুমিনীন! যদি নূহ (আ)-এর মতো আপনার হায়াত হয়, সুলাইমানের (আ)-এর মতো আপনার রাজত্ব হয়, ইবরাহীম (আ)-এর মতো আপনার ইয়াক্বীন হয়, লোকমান (আ)-এর মতো আপনার প্রজ্ঞা হয় তবুও আপনি শেষ পরিণতির ব্যাপারে অবহেলা করবেন না। কেননা শেষ পরিণতি জান্নাত বা জাহান্নام। হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীযের কাছে এ চিঠি আসলে তিনি তা চোখের ওপর ধরে কান্না শুরু করলেন। তারপর তিনি আফসোস সাথে বলতে লাগলেন, আমার জন্যে নূহের হায়াত, সুলাইমানের রাজত্ব, লোকমানের প্রজ্ঞা? যদি তা আমি লাভ করি তবে আমার জন্যে আবশ্যক পূর্ববর্তীদের পেয়ালা দ্বারা পানি পান করা। অর্থাৎ তাদের অনুসরণ করা। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) একদিন তাঁর প্রধান প্রহরী ওমর বিন মুজফিরেরকে বলল, যদি তুমি কখনো দেখ আমি সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছি তবে নির্দ্বিধায় আমার জামার কলার ধরে বলবে, ওমর একি করছ?
বর্ণিত আছে যে, ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর সালেম বিন আবু সালেম নামের এক আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিকে ডেকে এনে বললেন, সালেম, আমার ভয় হচ্ছে আমি মনে হয় আল্লাহ্র আযাব থেকে মুক্তি পাব না। সালেম (রহ) বললেন, আমি তোমার ব্যাপারে ভয় করছি যদি না তুমি ভয় না কর, আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে একটি রত্ন রেখেছের। সে সেখানে পাপ করে, আল্লাহ তাকে সে পাপ থেকে মুক্ত করে দেন। আমরাতো অনেক গুনাহর মাঝে লিপ্ত, আমরা সে ঘরেই প্রবেশ করব চাই আমরা সেখানে থাকতে চাই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00