📄 আমি তোমাদের থেকে উত্তম নই
হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয নিজের খেলাফতের প্রথম দিনে মানুষের প্রতি দেওয়া ভাষণ থেকে শুরু করে নিজের জীবন-ইতিহাস ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাঁর প্রথম ভাষণ... বুত্ৰ নস্ৰ ও বিনয়ে সাথে হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয মিশরে পা রাখলেন। এরপর তিনি বললেন, হে মানুষ সকল!......... নিশ্চয় তোমাদের নবীর পর আর কোনো নবী আসবেন না। তোমাদের কিতাবের পর আর কোনো কিতাব নাযিল হবে না, কাজেই আল্লাহ তা'আলা যা হালাল ঘোষণা করেছেন কিয়ামত পর্যন্ত তা হালাল হিসেবে বহাল থাকবে। জেনে রাখ! আমি বিচারক নই; বরং আমি তাঁর বিধানের বাস্তবায়নকারী। আমি বিশ্বাস প্রবর্তনকারী নই। আমি আল্লাহর অবাধ্য হলে আমার আনুগত্য করা তোমাদের জন্যে আবশ্যক নয়। আমি তোমাদের থেকে উত্তমও নই। ব্যবধান এতটুকু- আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বোঝা আমার ওপর দিয়ে দিলেন।
📄 বাঘ ও বকরি
ওমর বিন আব্দুল আযীযের শাসন আমলে ইসলামী সাম্রাজ্যের এক নবযুগের সূচনা হয়। জুলুম ও শোষণ বন্ধ হয়ে চারিদিকে শান্তির সু-বাতাস বইতে শুরু করে। রাখালরা বলতে লাগল, আল্লাহ্র কোনো সংবাদ! শাসন পরিচালনা করছেন। তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হল, তোমরা তা কীভাবে বুঝলে? রাখালরা বলল, উনি খলিফা হওয়ার পর থেকে রাখালও পর্যন্তও আমাদের বকরিতেও আক্রমণ করছে না। জিসকুল কাসসাব বর্ণনা করেন, ওমর বিন আব্দুল আযীয যখন খলিফা নিযুক্ত হলেন তখন আমি বকরির দুধ দোহন করতাম। একদিন এক রাখালের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যাওয়ার সময় দেখতে পেলাম প্রায় পঁচিশটি বাঘ তার বকরির পাশে ঘোরাফেরা করছে। ইতিপূর্বে কখনো বাঘ না দেখায় আমি ভাবলাম এগুলো হয়তো বড় জাতের কুকুর হবে। আমি রাখালকে বললাম, তোমার বকরিগুলোর মাঝে এত কুকুর কেন? রাখাল বলল, এ ছেলে! এগুলোতো কুকুর না, এগুলো বাঘ।
আমি অবাক হয়ে বলে উঠলাম, اَللهُ سُبْحَانَا وَتَعَالَى বকরির পাশে বাঘ বিচরণ করছে অথচ কোনো ক্ষতি করছে না। রাখাল বলল, যখন মাথা ঠিক হয়ে যাবে তখন পুরো শরীর ঠিক হয়ে যাবে। ............ এ ঘটনাটি হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর শাসনামলে ঘটেছিল।
📄 তোমরা সত্যের পথে আমাদের সহযোগী হও
এক সকালে খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয জনসাধারণের চৌহদ্দর নিতে বেরিয়ে পড়লেন। লোকজন খলিফাকে আসতে দেখে তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়ে গেল। তাদেরেক দাঁড়াতে দেখে তিনি রেগে গিয়ে বললেন, হে লোক সকল! যদি তোমরা দাঁড়িয়ে থাক তাহলে আমিও দাঁড়িয়ে থাকব। আর যদি তোমরা বস তাহলে আমিও বস। কেননা মানুষ তো শুধু বিশ্ব প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। তারপর তিনি বিভিন্ন বিষয় বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন, হে লোক সকল! আল্লাহ তা'আলা তোমাদের জন্যে কিছু বিধানকে বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন। যে তা অনুসরণ করে সে সত্য ও ন্যায়ের ওপরই আছে। আর যে তা বর্জন করবে সে গোমরাহীতে লিপ্ত থাকবে। সুতরাং তোমরা যারা আমাদের সহযোগী করতে চাও তারা ৪ টিটি বিষয়ে সহযোগীতা কর। ১. যারা কোনো প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও আমাদের কাছে আসতে পাও, তাদেরকে আমাদের কাছে নিয়ে আসা। ২. আমরা যদি গোমরাহীর পথে চলি তবে ন্যায়ের পথ দেখিয়ে দিবে। ৩. সত্যের পথে আমাদেরকে সহযোগিতা করবে, শাসক শাসিতের আমানত যথাযথ সংরক্ষণ করবে। ৪. আমাদের কাছে কারো সমালোচনা করতে পারো না। ৫. যে এ সকল বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করল না সে তো নিজেকেই আমাদের সঙ্গ ও আমাদের কাছে আসা থেকে বঞ্চিত।
📄 আমাকে পরামর্শ দাও
ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর তিনি তাঁর সঙ্গী সালেম বিন আব্দুল্লাহ, মুহাম্মাদ বিন কা'ব ও রাজা বিন হাইয়্যানকে নিয়ে পরামর্শে বসলেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা তো দেখছ খিলাফতের দায়িত্ব নিয়ে আমি মহা পরীক্ষায় পড়েছি, কাজেই কি করলে ভালো হয় এ ব্যাপারে তোমরা আমাকে পরামর্শ দাও।
সালেম বললেন, আমীরুল মুমিনীন আপনি যদি পরকালের আযাব থেকে মুক্তি পেতে চান তবে দুনিয়ার ভোগবিলাস ত্যাগ করুন। আর এ ত্যাগ যেন মৃত্যু পর্যন্ত হয়। মুহাম্মদ বললেন, আমীরুল মুমিনীন আপনি যদি পরকালের শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে চান তবে মুসলমানদের বড়দের পিতা হিসেবে, যুবকদের ভাই হিসেবে ও ছোটদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করুন। এরপর আপনি আপনার পিতামহের মর্যাদা দিন, ভাইদেরকে সম্মান করুন আর সন্তানদের প্রতি সহানুভূতিশীল হন। রাজা বিন হাইয়্যান বললেন, আপনি যদি আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি পেতে চান তাহলে নিজের জন্যে যা পছন্দ করছেন সর্বসাধারণের জন্যেও তা পছন্দ করুন। নিজের জন্যে যা অপছন্দ করছেন অন্যান্যের জন্যেও তা অপছন্দ করুন। তবেই আপনি চিন্তাহীনভাবে যে কোনো সময় মৃত্যুবরণ করতে পারবেন।