📄 খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) কাঁদছেন
গভীর রাতে সুন্দর সৃষ্টি বীর ঘুমিয়ে বিভোর হয়ে আছে, খলিফা ওমর বিন আব্দুল আযীয তখন আরামের ঘুম ত্যাগ করে দু'রাকাত নামাজ আদায় করার পর তাঁর দু'হাতের উপর মাথা রেখে উচ্চ কণ্ঠে দু'হাতে কাঁদতে লাগলেন। তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বলেন, তিনি এত জোরে কান্না করছিলেন যে, আমার ভয় হচ্ছিল, তাঁর কলিজা ফেটে ক্রুশই হবে না যাবে। তিনি সকাল পর্যন্ত এভাবেই কাঁদলেন। পরের দিন রাখা অবস্থায় তাঁর সকাল হলো। তাঁর স্ত্রী ফাতেমা তাঁর নিকটবর্তী হয়ে বললেন, আপনি কী গত রাতের পূর্বে ঘুটে যাওয়া এমন কোনো কারণে কান্না করেছেন? তিনি বললেন, ইঁয়া, আমাকে আমার মতো থাকতে দাও, তুমি তোমার মতো থাক।
তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বললেন, আমি অবশ্যই আপনার থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে। তিনি বললেন, তবে শুন, আমি নিজেকে নিয়ে ভাবতে গিয়ে দেখলাম যে, উম্মতের ছোট বড় সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারে আমাকে অভিভাবক নিযুক্ত করা হয়েছে। অতঃপর গরিব, ক্ষুধার্ত, অসহায়, সাহায্যপ্রার্থী, বঞ্চনাহারা, যুদ্ধবন্দি তাদের ন্যায় অন্যান্য যারা আছে তাদের চিন্তাও আমার মাথায় আসল। আমিতো তাদের জন্য কিছুই করতে পারিনি। আমি জানি আল্লাহ তাআ'লা আমাকে কিয়ামতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। মুহাম্মদ ﷺ-ও নিশ্চয় তাদের মাঝে উপস্থিত থাকবেন। তখন তো আল্লাহর আদালতে পেশ করার মতো কোনো যুক্তিও আমার থাকবে না। সে চিন্তায় আমাকে ভীতু করেছে। যে ভয় আমার চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত করেছে। আমি বিষয়টি তোমাকে খুলে বললাম, এবার তুমি উপদেশ গ্রহণ করতে পার আবার নাও করতে পার।
📄 ফাতেমার অলংকার
খলিফা আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান নিজের কন্যাকে তাঁর ভাতিজা ওমর বিন আব্দুল আযীযের সাথে বিয়ে দিলেন এবং তাঁর মেয়েকে তিনি অনেক বেশি স্বর্ণালংকার প্রদান করলেন। কিন্তু তিনি যখন খলিফা নিযুক্ত হলেন সেদিন রাতে তিনি তাঁর স্ত্রী ফাতেমাকে বললেন, ফাতেমা তুমি এ সকল স্বর্ণালংকার-মণিযুক্ত বায়তুল মাল ফিরিয়ে দিবে, না হয় আমাকে অনুমতি দাও আমি তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি। কেননা তুমি, আমি আর এ স্বর্ণালংকার-মণিযুক্ত এক ঘরে থাকা আমি পছন্দ করি না। তাঁর স্ত্রী ফাতেমা বললেন, আমীরুল মুমিনীন! বরং আপনি আমাকে যা। তারপর তাঁর স্ত্রী নির্দেশনাক্রম বায়তুল মাল জমা দিয়ে দিলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর পর ইয়াযিদ বিন আব্দুল মালিক খলিফা নিযুক্ত হলে, সে তার বোন ফাতেমাকে বলল, ফাতেমা! তুমি তোমার যে সমস্ত অলংকার বায়তুল মাল জমা দিয়েছ, সেগুলো কিন্তু তোমার বৈধ সম্পদ। সেগুলো এখনো বায়তুল মাল সংরক্ষিত আছে তবে বেশিদিন থাকবে না। তুমি কি চাও আমি সেগুলো তোমাকে ফিরিয়ে দিই। ফাতেমা সহজ-সরলভাবে বললেন, আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন আব্দুল আযীয চেয়েছেন আমি এগুলো বায়তুল মাল জমা দিয়ে দেই। আমিও আর নির্দেশের অনুসরণ করে সেগুলো ত্যাগ করেছি। আর আমি এমন নই যে, জীবিত অবস্থায় তাঁকে মান্য করলাম আর এখন মৃত্যুর পর তাঁর অবাধ্য হবো। নিষ্ঠুর ইয়াজিদ এমন কথা শুনে ফাতেমাকে তার পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল।
📄 আমি তোমাদের থেকে উত্তম নই
হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয নিজের খেলাফতের প্রথম দিনে মানুষের প্রতি দেওয়া ভাষণ থেকে শুরু করে নিজের জীবন-ইতিহাস ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। তাঁর প্রথম ভাষণ... বুত্ৰ নস্ৰ ও বিনয়ে সাথে হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয মিশরে পা রাখলেন। এরপর তিনি বললেন, হে মানুষ সকল!......... নিশ্চয় তোমাদের নবীর পর আর কোনো নবী আসবেন না। তোমাদের কিতাবের পর আর কোনো কিতাব নাযিল হবে না, কাজেই আল্লাহ তা'আলা যা হালাল ঘোষণা করেছেন কিয়ামত পর্যন্ত তা হালাল হিসেবে বহাল থাকবে। জেনে রাখ! আমি বিচারক নই; বরং আমি তাঁর বিধানের বাস্তবায়নকারী। আমি বিশ্বাস প্রবর্তনকারী নই। আমি আল্লাহর অবাধ্য হলে আমার আনুগত্য করা তোমাদের জন্যে আবশ্যক নয়। আমি তোমাদের থেকে উত্তমও নই। ব্যবধান এতটুকু- আল্লাহ তা'আলা তোমাদের বোঝা আমার ওপর দিয়ে দিলেন।
📄 বাঘ ও বকরি
ওমর বিন আব্দুল আযীযের শাসন আমলে ইসলামী সাম্রাজ্যের এক নবযুগের সূচনা হয়। জুলুম ও শোষণ বন্ধ হয়ে চারিদিকে শান্তির সু-বাতাস বইতে শুরু করে। রাখালরা বলতে লাগল, আল্লাহ্র কোনো সংবাদ! শাসন পরিচালনা করছেন। তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হল, তোমরা তা কীভাবে বুঝলে? রাখালরা বলল, উনি খলিফা হওয়ার পর থেকে রাখালও পর্যন্তও আমাদের বকরিতেও আক্রমণ করছে না। জিসকুল কাসসাব বর্ণনা করেন, ওমর বিন আব্দুল আযীয যখন খলিফা নিযুক্ত হলেন তখন আমি বকরির দুধ দোহন করতাম। একদিন এক রাখালের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে যাওয়ার সময় দেখতে পেলাম প্রায় পঁচিশটি বাঘ তার বকরির পাশে ঘোরাফেরা করছে। ইতিপূর্বে কখনো বাঘ না দেখায় আমি ভাবলাম এগুলো হয়তো বড় জাতের কুকুর হবে। আমি রাখালকে বললাম, তোমার বকরিগুলোর মাঝে এত কুকুর কেন? রাখাল বলল, এ ছেলে! এগুলোতো কুকুর না, এগুলো বাঘ।
আমি অবাক হয়ে বলে উঠলাম, اَللهُ سُبْحَانَا وَتَعَالَى বকরির পাশে বাঘ বিচরণ করছে অথচ কোনো ক্ষতি করছে না। রাখাল বলল, যখন মাথা ঠিক হয়ে যাবে তখন পুরো শরীর ঠিক হয়ে যাবে। ............ এ ঘটনাটি হযরত ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর শাসনামলে ঘটেছিল।