📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ও জয়নুল আবেদিন

📄 ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) ও জয়নুল আবেদিন


মুসলিম জাহানের খলিফা তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)। তিনি তাঁর নেত্রতূল্য জ্ঞানপিপাসু কিছু সঙ্গী-সাথিদের নিয়ে ইলমে হাদিসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করছিলেন, এরই মাঝে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন যায়নুল আবেদিন আলী বিন হুসাইন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানালেন এবং নিজর পাশের আসনে বসালেন। জ্ঞান চর্চার মজলিসে কিছু সময় অতিবাহিত করে যায়নুল আবেদিন (রহ) ফিরে চললেন। তিনি বের হয়ে যাওয়ায় পর ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তাঁর সঙ্গীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, আব্বাজানরা বলতো, আজকে তোমাদের দেখা লোকদের মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত হিসেবে কাকে পেয়েছে? তাঁর সঙ্গীরা বলল, আমীরুল মু'মিনীনকেই আমরা সর্বাধিক সম্মানিত হিসেবে পেয়েছি। জাহিলী যুগের ন্যায় ইসলামী যুগেও আপনারা আমাদের মাঝে সম্মানিত। তখন ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) বললেন, বিষয়টি এমন নয়; বরং আমার দেখা সবচেয়ে সম্মানী ব্যক্তি হচ্ছেন যায়নুল আবেদিন। যার মতো মর্যাদাভাবান হওয়া প্রত্যেক মানুষেরই কামনা, কিন্তু তিনি কারো মতো হতে চান না। কিছুক্ষণ পর, হারিস বিন উসমান রাহাবী নামক এক যুবক তার পিতাকে নিয়ে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর দরবারে প্রবেশ করল। ওমর যুবকটি সম্পর্কে তার পিতার কাছে বিভিন্ন বিষয়াদি জানতে চাইল। ছেলে সম্পর্কে জানার পর তিনি তার পিতাকে বললেন, আপনি তাকে ফিকহে আকবর শিক্ষা দিন। সে বলল, ফিকহে আকবর কি? তিনি বললেন, ফিকহে আকবর হচ্ছে, অজ্ঞতে তুষ্টি ও কদর্যতাযুক্ত বস্তু অপসারণ করা।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আল্লাহ আপনার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুক

📄 আল্লাহ আপনার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুক


ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ) তখন ফিকহ দরসে বসিয়া এক উপদ্রবে যুবক। কোনো এক প্রয়োজনে তিনি দামেস্কে খলিফা আব্দুল মালিকের দরবারে উপস্থিত হলেন। আব্দুল মালিক তাঁর ব্যক্তিত্ব মুগ্ধ হয়ে নিজের মেয়ে ফাতেমাকে তাঁর সাথে বিয়ে দিলেন। খলিফার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ওমর বললেন, আল্লাহ আপনার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখুন, আপনি উদারভাবে দান করেছেন এবং চাওয়া-পাওয়া পূর্ণ করেছেন। হযরত ওমর আব্দুল মালিক খুব খুবই অবাক হলেন। তখন আব্দুল মালিকের কোনো কোনো পুত্র এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করিতে বলতে লাগল, বাবা! তার কথায় অবাক হওয়ার তো কিছুই নেই, এ ধরনের কথা তো আপনার কাছ থেকে শেখা, সে তো শুধু পুনরাবৃত্তি করেছে। পরে একদিন হযরত ওমর খলিফার দরবারে আসলেন।
খলিফা ভান বলতেন, হে ওমর! তোমার জীবন কেমন চলছে? তিনি বললেন, দুটি মন্দের মাঝে একটি ভালো, এভাবে চলছে হে আমীরুল মুমিনীন।
খলিফা বলতেন, মদ দুটি কী কী? ওমর (রহ) বললেন, يُسْقَوْنَ مِنْ رَحِيْقٍ مَخْتُومٍ خِتَامُهُ مِسْكٌ وَفِيْ ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ অর্থ: মুমিনোনো তারাই যারা সম্পদ বায়ে কৃপণতা করে না আবার অপচয়ও করে না; বরং তারা উভয়ের মাঝামাঝি পন্থা অবলম্বন করে। এরপরও খলিফা আব্দুল মালিক তাঁর উপর তবে অবাক হলেন। তিনি তার ছেলেদেরকে তিরস্কার করে বললেন, এবার বল, এটি কে শিখিয়েছে?

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এটা আমার জন্যে ভালো তোমাদের জন্যে খারাপ

📄 এটা আমার জন্যে ভালো তোমাদের জন্যে খারাপ


মুসলিম জাহানের খলিফা তখন ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক। খেলাফতের বিরোধিতা করার অপরাধে এক খারাজীকে দরবারে হাজির করা হলো। খলিফা আল ওয়ালিদ লোকটির শাস্তির ব্যাপারে ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-সহ তার অন্যান্য নিকটস্থ ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বলছিলেন। আল ওয়ালিদ খারাজী লোকটিকে তিরস্কার করে বললেন, খলিফা আব্দুল মালিকের ব্যাপারে তুমি কি বলেছ? খারাজী লোকটি বলল, আমি এমন লোকের ব্যাপারে বলেছিলাম যার সামনে দুটি বিষয় পেশ করা হলো। প্রথমত, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা, কিন্তু সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা গ্রহণ করেছে। তার উপর আল্লাহর অভিশাপ ও গজব পতিত হোক। তার মুখে এ কথা শুনে খলিফা আল ওয়ালিদ ভীষণ রেগে গেলেন। তিনি ওমর বিন আব্দুল আযীযের দিকে তাকিয়ে বললেন, এ পাপীর শাস্তির ব্যাপারে তোমার মত কি?
হযরত ওমর চুপ করে রইলেন। আল ওয়ালিদ আবার বললেন, তোমার কি হয়েছে, তুমি কথা বলছ না কেন? ওমর (রহ) বললেন, আমীরুল মুমিনীন আপনি আমাকে এর থেকে মুক্ত রাখুন। আল ওয়ালিদ বললেন, আমি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছি তুমি বল। তখন তিনি বললেন, লোকটি আপনার পিনাতে যেমন গালি দিয়েছে আপনিও তাকে তেমন গালি দিয়ে দিন। আর যদি ক্ষমা করে দেন সেটা হবে সর্বোত্তম। আল্লাহ তাআ'লা বলেন, وَالَّذِينَ صَبَرُواْ ابْتِغَاء وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُواْ الصَّلاَةَ وَأَنفَقُواْ مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَؤُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُوْلَئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ অর্থ: অবশ্যই যে সবর করে ও ক্ষমা করে নিশ্চত এটা সহিষ্ণুতার কাজ। (সূরা শুরা: ৪৩) তাঁর কথা শুনে ওয়ালিদের রাগ আরো বেড়ে গেল। তিনি জিব্রাদ খালিদ বিন রায়হানের দিকে তাকালেন, যে এতক্ষণ ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-এর শিরচ্ছেদের নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় তরবারিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু খলিফা ওয়ালিদ কোনো নির্দেশ না দিয়েই আসন ছেড়ে উঠে গেলেন। ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহ)-ও ফিরে যাওয়ার মনস্থ করলেন। তিনি জিব্রাদ খালিদকে তিরস্কার করে বললেন, দুর্ভাগ্য, তুমি তো দেখছি ওয়ালিদের নির্দেশ পালন করতে ধাপ মুক্ত করো। জিব্রাদ খালেদ বলল, কাবার রবের শপথ! অবশ্যই আমি তার নির্দেশ মান্য করব। তিনি বললেন, তবে জেনে রাখ, সেটা আমার জন্য কল্যাণকর আর তোমাদের জন্য অকল্যাণকর।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আপনার আজকের প্রজারা কিয়ামতের দিন আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী

📄 আপনার আজকের প্রজারা কিয়ামতের দিন আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী


পুণ্যভূমি মদিনাতে রাসূল ﷺ-এর হিজরতের পর অতিবাহিতও হয়ে গেল সাতানব্বইটি বসন্ত। মুসলিম জাহানের খলিফা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক ও তার চাচাতো ভাই ওমর প্রশাসানের সাথে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছিলেন। লক্ষ লক্ষ হাজীও আল্লাহর দরবারে কাকুতি মিনতি করতে দেখে খলিফা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বিষণ্নতা কণ্ঠে ওমর (রহ)-কে লক্ষ্য করে বললেন, আল্লাহ ব্যতীত এদের সঠিক সংখ্যা বলা যেমন কারো পক্ষে সম্ভব নয়, তদ্রূপ এদের রিফিকের ব্যবস্থা তিনি ব্যতীত অন্য কারো করা সক্ষম নয়। ওমর (রহ) খলিফাকে বললেন, আমীরুল মুমিনীন আজকে আপনি যাদেরকে দেখছেন আপনার প্রজা, এরাই কিয়ামতের দিন আল্লাহর আদালতে আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে। খলিফা সুলাইমান বললেন, আল্লাহ তোমাকে এদের দ্বারা পরীক্ষায় ফেলুন। ধারাবাহিকভাবে হজ্বের কার্যক্রম শেষ করে খলিফা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক মদিনার দিকে রওনা দেন। তিনি মদিনায় এসে এখানকার অভিজাত ও সম্মানিত লোকদেরকে ডেকে মূল্যবান উপহার প্রদান করেন। তারপর তিনি ওমর বিন আব্দুল আযীযকে বললেন, আবু হাফস! আমি যা করেছি তা তোমার কেমন লাগল? তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আমি যতটুকু লক্ষ্য করেছি, আপনি ধনীদেরকে আরও ধনী বানিয়ে দিলেন আর গরিবদেরকে তাদের দূরবস্থায় ছেড়ে দিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00