📄 ফাতিমা রা.-এর জানাযা পড়ালেন আবু বকর রা.
ফাতেমা رضي الله عنها মারবী ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর আবু বকর, ওমর, উসমান, যুবায়ের, আব্দুর রহমান বিন আওফ رضي الله عنهم উপস্থিত হলেন। ফাতেমা رضي الله عنها-এর লাশ গোসল দিয়ে নিয়ে আসা হলে, আলী رضي الله عنه বললেন, আবু বকর! আপনি সামনে গিয়ে জানাযা পড়ান। আবু বকর رضي الله عنه বললেন, হাসাবের বাবা, তুমি জানাযা পড়াও। তখন আলী رضي الله عنه বললেন, আবু বকর! আল্লাহর কসম করে বলি, আপনি ছাড়া কেউ তার জানাযা পড়াবে না। অতঃপর আবু বকর رضي الله عنه ফাতেমা رضي الله عنها-এর জানাযা পড়ালেন। মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় আছে যে, ফাতেমা رضي الله عنها-এর জানাযার নামাযের ইমামতি আলী رضي الله عنه করেছেন। আর এ মতটাই অধিক নির্ভরযোগ্য।
📄 শোক ও দুঃখ
আমীরুল মু'মিনীন আলী -এর দেহ থেকে দেওয়ার একদিন পর তাঁর পুত্র হাসান - দু'ঘের ছায়ায় ঢাকা চেহারা নিয়ে বের হয়ে টলমল করে চলতে লাগলেন। হাঁটতে হাঁটতে তিনি একদল যুবক ও বৃদ্ধদের সামনে এসে খুব দুব ও শোকের সাথে বলতে লাগলেন, গতকাল তোমাদের থেকে এমন এক ব্যক্তি আলাদা হয়ে গেছেন যাকে পূর্ববর্তীরাও জ্ঞানের দিক থেকে অতিক্রম করতে পারেনি। আর পরবর্তীরাও পারবে না। রাসূল তাঁর হাতে পতাকা দিয়েছিলেন। তিনি বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত ফিরে আসেননি। তিনি কোনো শর্ব বা রুমা রেখে যাননি। তবে সাতশত দিরহাম রেখেছিলেন তা দ্বারা তিনি একজন খাদেম কিনতে চেয়েছিলেন।
টিকাঃ
৭৬৮. আল মুসনাদ লিল আহমাদ, ১খ ৯৮, ৯৯ পৃ. ও আবূদাউদ, ১০০ পৃ.।
📄 এক লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে
মদিনার নিকট খারবারে ইহুদিদের একটি শক্তিশালী দুর্গ ছিল। দুর্গের প্রাচীরের নিচে সৈন্য ও ঘোড়ার পদঘাতে সর্বদা মুখর হয়ে থাকত। দুর্গের প্রাচীর ছিল অনেক উঁচু। নিচ থেকে সেখানে তীর নিক্ষেপ করে পৌঁছানো যেত না। এ দুর্গের পাশেই নবী তাঁর সাথীদের নিয়ে অবস্থান করলেন।
প্রথম দিন আবু বকর নেতৃত্ব পতাকা নিয়ে তরবারি হাতে বীরের মতো বের হলেন। তাঁর পিছনে পিছনে মুসলমান সেনারাও বের হলেন। তারা সূর্য ডুবে যাওয়া পর্যন্ত কঠিনভাবে যুদ্ধ করলেন, কিন্তু তবুও তাঁরা দুর্গের ভেতরে ঢুকতে পারেননি।
দ্বিতীয় দিন নেতৃত্বের পতাকা নিয়ে উমর বের হলেন। তাঁর নেতৃত্বে মুসলমানগণ কঠিন থেকে কঠিনভাবে যুদ্ধ করেন, কিন্তু সূর্য ডুবে গেলে তবুও দুর্গ জয় হলো না।
তখন নবী বললেন, আগামী কাল অবশ্যই আমি পতাকা এমন এক লোকের হাতে দিব, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে আর তাঁকেও আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন। আল্লাহ তাঁর হাতে বিজয় দান করবেন।
তখন সাহাবায়ে কেরাম প্রত্যেকে সেই রাত কাটিয়েছিল আর এ বিষয় নিয়ে ভাবছিলেন। তাঁরা প্রত্যেকে মনে মনে এ সম্মান পাওয়ার আশা করতে লাগলেন।
উমর বললেন, আমি কখনো নেতৃত্বের লোভ করিনি, তবে সেই দিন করেছিলাম শুধু এ কারণে যে, আমি ওই ব্যক্তি হব যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন।
সকাল বেলা সাহাবায়ে কেরামগণ রাসূল -এর কাছে এসে ভিড় জমাতে লাগলেন। তাঁরা প্রত্যেকে নবী -এর দিকে বারবার তাকাতে লাগলেন। প্রত্যেকে নিজেকে নবী -এর দৃষ্টিতে রাখতে চেষ্টা করলেন, এ আশায় যে, ওই ব্যক্তির মর্যাদা অর্জন করবেন যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন।
সবার মাঝে এক নীরবতা বিরাজ করছিল। অবশেষে নীরবতা ভেঙে রাসূল বললেন, আলী বিন আবূ তালিব কোথায়?
তখন তাঁর কাছে আলী আসলেন। সে রাতে আলী -এর চোখ উঠছিল।
নবী তাঁকে বললেন, তোমার কী হয়েছে?
তিনি বললেন, আমার চোখ উঠেছে।
নবী বললেন, আমার কাছে আস।
তিনি নবী -এর কাছে আসলে, নবী নিজের সালা মোবারক তাঁর চোখে লাগিয়ে দিলেন, এতে তাঁর চোখ ভালো হয়ে গেল। এরপর তিনি তাঁকে বললেন, এ পতাকা ধর, এটি নিয়ে চলতে থাক যতক্ষণ না আল্লাহ তা'আলা বিজয় দান করেন।
আলী বললেন, হে আল্লাহর রাসূল,...........আমি তাদের সাথে ততক্ষণ যুদ্ধ করব যতক্ষণ না তারা আমাদের মতো হয়।
নবী বললেন, তারা মমদানে নেমে আসা পর্যন্ত ভূমি অপেক্ষা করবে, তারপর তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করবে এবং আল্লাহ তা'আলা তাদের ওপর কী আবশ্যক করেছে তা তাদেরকে অবগত করাবে। আল্লাহ্র শপথ! আল্লাহ তা'আলা তোমার দ্বারা একজন ব্যক্তিকে হেদায়েত দান করা তোমার জন্যে হুমরুন্নিয়ামাত থেকেও উত্তম। (আরবরা উত্তম কোনো কিছু বুঝাতে বলত “হুমরুন্নিয়ামাত” অর্থ হচ্ছে লাল উট, যা আরবদের কাছে খুব প্রিয় ছিল)।
আলী যখন দুর্গের কাছে গেলেন তখন এক ইহুদি দুর্গের উপর থেকে বলল, তুমি কে?
তিনি বললেন, আলী বিন আবূ তালিব।
ইহুদি বলল, তোমরা উচ্চ মর্যাদাবান হয়েছ, আর মূসা (আ)-এর ওপর যা নাযিল হয়েছে তাও মর্যাদাবান হয়েছে।
টিকাঃ
৭৬৯. বুখারী শরীফ, ৪খ ৪৩, ৭৫ ও মুসলিম শরীফ, ৪খ ৮৯, ১৯৭।
📄 মৃতব্যক্তি তার ঋণের কাছে বন্ধক
এক দুপুরে লোকদের কাছে আহরণ করে একটি জানাযা আসল। মৃত ব্যক্তির জানাযায় নামায পড়ানোর জন্য তাঁর পরিবারের লোকেরা নবী -কে খুঁজতে লাগল।
নবী বললেন, তোমাদের এ সাথির ওপর ঋণ আছে?
তারা বলল, দুই দিনার।
এ কথা শুনে নবী ওই ব্যক্তির জানাযা পড়া থেকে বিরত থাকলেন। তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা তোমাদের সাথির জানাযা পড়। যার ওপর ঋণ থাকত নবী তাঁর জানাযার নামায আদায় করতেন না। তখন আলী খুব ভয় করলেন যে, মৃতব্যক্তি নবী -এর দোওয়া পাওয়ার বরকত থেকে বঞ্চিত হয়ে কবরে যাবে, তাই তিনি দ্রুত নবী -এর কাছে গিয়ে বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল, দুই দিনারের দায়িত্ব আমার, মৃতব্যক্তি তা থেকে মুক্ত।
তখন নবী মৃতব্যক্তির নামায আদায় করলেন। তারপর তিনি আলীকে বললেন, আল্লাহ তা'আলা তোমাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন...... আল্লাহ তোমার যুদ্ধ করুন, যেমনিভাবে তুমি তোমার ভাইয়ের ঋণের দায়িত্ব নিয়ে তাকে মুক্ত করেছ। প্রত্যেক মৃতব্যক্তি তার ঋণের কাছে বন্ধক। যে ব্যক্তি কোনো মৃতব্যক্তির ঋণের দায়িত্ব নিবে আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতোর দিন তার ঋণের দায়িত্ব নিবেন।
টিকাঃ
৭৭০. ইমাম আলী বিন আবূ তালিব, জি মুহাম্মাদ রশীদ রিযা ১৭ পৃ.।