📄 মুসলমানের বাজার
আসবাগ বিন নাবাতাহ্ বলেন, আমি আলী رضي الله عنه-এর সাথে বাইরে বের হলাম। তখন লোকেরা বলল, আমীরুল মুমিনীন, বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকে জায়গা দখল করে নিয়েছে। এ কথা শুনে আলী رضي الله عنه লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, বাজার হচ্ছে মুসলমানদের নামাযের স্থানের মতো, যে আগে আসবে সে যে স্থান গ্রহণ করবে ওই দিন ওইই জায়গা তার। পরবর্তী দিন আবার যে আগে আসবে সে জায়গা তার হবে। (এটা হচ্ছে বাজারে সকলের জন্য উন্মুক্ত জায়গার হুকুম।)
📄 ধোঁকাপ্রাপ্ত কারীয বিন আস সাবাহ
বাতাসের গতিতে কারীয় বিন আব সাবাহ আল হুমাইরী সে তার ঘোড়া নিয়ে মদানের মাঝখানে পৌঁছে গেল এবং চিৎকার করে বলল, কোনো যোদ্ধা আছ? তখন আলী رضي الله عنه-এর বাহিনী থেকে এক এক লোক তার দিকে এগিয়ে এল। কিন্তু সে কারীয়র হাতে নিহত হলো। এরপর কারীয় আবার চিৎকার করে বলল, কোনো যোদ্ধা আছ? তখন আলী رضي الله عنه-এর দল থেকে আরেকজন লোক তার দিকে এগিয়ে এল। সেও কারীয়র হাতে নিহত হলো। এরপর কারীয় আবারো চিৎকার করে বলল, কোনো যোদ্ধা আছ?
তখন আলী رضي الله عنه-এর দল থেকে আরেকজন লোক তার দিকে এগিয়ে এল। সেও কারীয়র হাতে নিহত হলো। এভাবে তিনজন লোক এক ব্যক্তির হাতে নিহত হওয়ার কারণে মুসলিম বাহিনী মর্মাহত ও ভীতু হয়ে পড়ে। তাদের প্রথম কাতারের সৈন্যরা পিছনের দিকে যেতে লাগল। আলী رضي الله عنه যখন দেখলেন তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে তখন তিনি নিজেই কারীয়র মোকাবিলা করার জন্য ছুটে গেলেন। তিনি তাকে এক আঘাতে শেষ করে দিলেন। এরপর তিনি বারবার চিৎকার করে মধুযোদ্ধা করার আহ্বান করলেন এবং তাদের একেক এক তিনজনের সাথে লড়াই করে তাদেরেকা হত্যা করলেন। তারপর তিনি বললেন, হে লোক সকল, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, الْشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ فَمَنِ اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ “সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাস। আর সম্মান রক্ষা করাও বদলা রয়েছে। সুতরাং যারা তোমাদের ওপর জবরদস্তি করেছে, তোমরা তাদের ওপর জবরদস্তি কর, যেমন জবরদস্তি তারা তোমাদের ওপর করেছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা পরহেযগার, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।” (সুরা বাকারা : ১৯৪)। এরপর তিনি আপন জায়গায় ফিরে এলেন।
টিকাঃ
৮১৬. আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব মিনাল ইসলামি ইসতিফাহান, ৪৪ পৃ.।
📄 ফাতিমা রা.-এর জানাযা পড়ালেন আবু বকর রা.
ফাতেমা رضي الله عنها মারবী ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর আবু বকর, ওমর, উসমান, যুবায়ের, আব্দুর রহমান বিন আওফ رضي الله عنهم উপস্থিত হলেন। ফাতেমা رضي الله عنها-এর লাশ গোসল দিয়ে নিয়ে আসা হলে, আলী رضي الله عنه বললেন, আবু বকর! আপনি সামনে গিয়ে জানাযা পড়ান। আবু বকর رضي الله عنه বললেন, হাসাবের বাবা, তুমি জানাযা পড়াও। তখন আলী رضي الله عنه বললেন, আবু বকর! আল্লাহর কসম করে বলি, আপনি ছাড়া কেউ তার জানাযা পড়াবে না। অতঃপর আবু বকর رضي الله عنه ফাতেমা رضي الله عنها-এর জানাযা পড়ালেন। মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় আছে যে, ফাতেমা رضي الله عنها-এর জানাযার নামাযের ইমামতি আলী رضي الله عنه করেছেন। আর এ মতটাই অধিক নির্ভরযোগ্য।
📄 শোক ও দুঃখ
আমীরুল মু'মিনীন আলী -এর দেহ থেকে দেওয়ার একদিন পর তাঁর পুত্র হাসান - দু'ঘের ছায়ায় ঢাকা চেহারা নিয়ে বের হয়ে টলমল করে চলতে লাগলেন। হাঁটতে হাঁটতে তিনি একদল যুবক ও বৃদ্ধদের সামনে এসে খুব দুব ও শোকের সাথে বলতে লাগলেন, গতকাল তোমাদের থেকে এমন এক ব্যক্তি আলাদা হয়ে গেছেন যাকে পূর্ববর্তীরাও জ্ঞানের দিক থেকে অতিক্রম করতে পারেনি। আর পরবর্তীরাও পারবে না। রাসূল তাঁর হাতে পতাকা দিয়েছিলেন। তিনি বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত ফিরে আসেননি। তিনি কোনো শর্ব বা রুমা রেখে যাননি। তবে সাতশত দিরহাম রেখেছিলেন তা দ্বারা তিনি একজন খাদেম কিনতে চেয়েছিলেন।
টিকাঃ
৭৬৮. আল মুসনাদ লিল আহমাদ, ১খ ৯৮, ৯৯ পৃ. ও আবূদাউদ, ১০০ পৃ.।