📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 প্রজাদেরকে সৎকাজের প্রতি উৎসাহিতকরণ

📄 প্রজাদেরকে সৎকাজের প্রতি উৎসাহিতকরণ


আমীরুল মুমিনীন আলী رضي الله عنه খেলাফতি আসীন হওয়ার পর প্রজাদেরকে বেশি বেশি সৎকাজের আদেশ দিলেন এবং অসৎকাজের নিষেধ করতেন। একদিন আমীরুল মুমিনীন আলী رضي الله عنه খুৎবা দিতে দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার পর বললেন, হে লোক সকল, তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংসের কারণ, তারা যখন পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ছিল তখন তাদের ধর্মযাজকেরা তাদেরকে পাপ থেকে বিরত থাকত না। তাই আল্লাহ্ পক্ষ থেকে শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করেছিল। অতএব তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মতো তোমাদের ওপর শাস্তি আসার পূর্বেই সৎকাজ কর এবং অসৎকাজ থেকে বিরত থাক। জেনে রাখ, নিশ্চয়ই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ রিযিক কমায় না এবং বয়স্যও কমায় না।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মুসলমানের বাজার

📄 মুসলমানের বাজার


আসবাগ বিন নাবাতাহ্ বলেন, আমি আলী رضي الله عنه-এর সাথে বাইরে বের হলাম। তখন লোকেরা বলল, আমীরুল মুমিনীন, বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকে জায়গা দখল করে নিয়েছে। এ কথা শুনে আলী رضي الله عنه লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, বাজার হচ্ছে মুসলমানদের নামাযের স্থানের মতো, যে আগে আসবে সে যে স্থান গ্রহণ করবে ওই দিন ওইই জায়গা তার। পরবর্তী দিন আবার যে আগে আসবে সে জায়গা তার হবে। (এটা হচ্ছে বাজারে সকলের জন্য উন্মুক্ত জায়গার হুকুম।)

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ধোঁকাপ্রাপ্ত কারীয বিন আস সাবাহ

📄 ধোঁকাপ্রাপ্ত কারীয বিন আস সাবাহ


বাতাসের গতিতে কারীয় বিন আব সাবাহ আল হুমাইরী সে তার ঘোড়া নিয়ে মদানের মাঝখানে পৌঁছে গেল এবং চিৎকার করে বলল, কোনো যোদ্ধা আছ? তখন আলী رضي الله عنه-এর বাহিনী থেকে এক এক লোক তার দিকে এগিয়ে এল। কিন্তু সে কারীয়র হাতে নিহত হলো। এরপর কারীয় আবার চিৎকার করে বলল, কোনো যোদ্ধা আছ? তখন আলী رضي الله عنه-এর দল থেকে আরেকজন লোক তার দিকে এগিয়ে এল। সেও কারীয়র হাতে নিহত হলো। এরপর কারীয় আবারো চিৎকার করে বলল, কোনো যোদ্ধা আছ?
তখন আলী رضي الله عنه-এর দল থেকে আরেকজন লোক তার দিকে এগিয়ে এল। সেও কারীয়র হাতে নিহত হলো। এভাবে তিনজন লোক এক ব্যক্তির হাতে নিহত হওয়ার কারণে মুসলিম বাহিনী মর্মাহত ও ভীতু হয়ে পড়ে। তাদের প্রথম কাতারের সৈন্যরা পিছনের দিকে যেতে লাগল। আলী رضي الله عنه যখন দেখলেন তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে তখন তিনি নিজেই কারীয়র মোকাবিলা করার জন্য ছুটে গেলেন। তিনি তাকে এক আঘাতে শেষ করে দিলেন। এরপর তিনি বারবার চিৎকার করে মধুযোদ্ধা করার আহ্বান করলেন এবং তাদের একেক এক তিনজনের সাথে লড়াই করে তাদেরেকা হত্যা করলেন। তারপর তিনি বললেন, হে লোক সকল, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, الْشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ فَمَنِ اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ “সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাস। আর সম্মান রক্ষা করাও বদলা রয়েছে। সুতরাং যারা তোমাদের ওপর জবরদস্তি করেছে, তোমরা তাদের ওপর জবরদস্তি কর, যেমন জবরদস্তি তারা তোমাদের ওপর করেছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা পরহেযগার, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।” (সুরা বাকারা : ১৯৪)। এরপর তিনি আপন জায়গায় ফিরে এলেন।

টিকাঃ
৮১৬. আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব মিনাল ইসলামি ইসতিফাহান, ৪৪ পৃ.।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ফাতিমা রা.-এর জানাযা পড়ালেন আবু বকর রা.

📄 ফাতিমা রা.-এর জানাযা পড়ালেন আবু বকর রা.


ফাতেমা رضي الله عنها মারবী ও ইশার মধ্যবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর আবু বকর, ওমর, উসমান, যুবায়ের, আব্দুর রহমান বিন আওফ رضي الله عنهم উপস্থিত হলেন। ফাতেমা رضي الله عنها-এর লাশ গোসল দিয়ে নিয়ে আসা হলে, আলী رضي الله عنه বললেন, আবু বকর! আপনি সামনে গিয়ে জানাযা পড়ান। আবু বকর رضي الله عنه বললেন, হাসাবের বাবা, তুমি জানাযা পড়াও। তখন আলী رضي الله عنه বললেন, আবু বকর! আল্লাহর কসম করে বলি, আপনি ছাড়া কেউ তার জানাযা পড়াবে না। অতঃপর আবু বকর رضي الله عنه ফাতেমা رضي الله عنها-এর জানাযা পড়ালেন। মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় আছে যে, ফাতেমা رضي الله عنها-এর জানাযার নামাযের ইমামতি আলী رضي الله عنه করেছেন। আর এ মতটাই অধিক নির্ভরযোগ্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00