📄 দুই হতভাগা লোক
উসাইরা যুদ্ধে আলী رضي الله عنه ও আম্মার বিন ইয়াসার رضي الله عنه উভয়কে বন্ধু ছিলেন। রাসূল ﷺ যখন যুদ্ধের ময়দানে অবতরণ করে সেখানে অবস্থান করলেন তখন বনু মুদলাজ গোত্রের কিছু লোককে দেখতে পেলেন তারা তাদের পানির কূপ নির্মাণের কাজ করছিল। তখন আলী رضي الله عنه আম্মার رضي الله عنه-কে বললেন, ইয়াযারের বাবা, তুমি কী এদের কাছে যাবে? তাহলে আমরা দেখতে পাব কীভাবে তাঁরা কাজ করে। আম্মার رضي الله عنه বললেন, যদি তুমি চাও। তখন তারা উভয়ে সেখানে গেলেন, তারা গিয়ে কিছুক্ষণ ধরে ওই লোকদের কাজ দেখলেন। কিছুক্ষণ তাদের কাজ দেখার পর তাঁদের ঘুম পেল। তাঁরা পাশে কবরবিহীন জায়গায় শুয়ে পড়লেন। তাদেরকে এ ঘুম থেকে আর কেউ জাগাতে আসেনি; বরং স্বয়ং রাসূল ﷺ এসে জাগালেন। তিনি তাঁদের একজনের পর অন্যজনকে নিজ পবিত্র মুখ Mubarak দ্বারা নাড়া দিলেন। তারপর তিনি বললেন, পূর্ববর্তীদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগা লোক কে ছিল আমি কী তা তোমাদেরকে বলব না? তারা বললেন, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, হামুদ গোত্রের যে ব্যক্তি সালেহের উটনীকে হত্যা করে রক্তে লাল করেছে। এরপর তিনি বললেন, পরবর্তীদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগা ব্যক্তি কে হবে আমি কী তা তোমাদেরকে বলব না? তারা বললেন, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন, যে তোমার এ জায়গায় আঘাত করবে, তিনি তখন আলী رضي الله عنه-এর শরীরের সে অঙ্গ ধরে দেখালেন।
📄 প্রজাদেরকে সৎকাজের প্রতি উৎসাহিতকরণ
আমীরুল মুমিনীন আলী رضي الله عنه খেলাফতি আসীন হওয়ার পর প্রজাদেরকে বেশি বেশি সৎকাজের আদেশ দিলেন এবং অসৎকাজের নিষেধ করতেন। একদিন আমীরুল মুমিনীন আলী رضي الله عنه খুৎবা দিতে দাঁড়ালেন। তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার পর বললেন, হে লোক সকল, তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংসের কারণ, তারা যখন পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ছিল তখন তাদের ধর্মযাজকেরা তাদেরকে পাপ থেকে বিরত থাকত না। তাই আল্লাহ্ পক্ষ থেকে শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করেছিল। অতএব তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মতো তোমাদের ওপর শাস্তি আসার পূর্বেই সৎকাজ কর এবং অসৎকাজ থেকে বিরত থাক। জেনে রাখ, নিশ্চয়ই সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ রিযিক কমায় না এবং বয়স্যও কমায় না।
📄 মুসলমানের বাজার
আসবাগ বিন নাবাতাহ্ বলেন, আমি আলী رضي الله عنه-এর সাথে বাইরে বের হলাম। তখন লোকেরা বলল, আমীরুল মুমিনীন, বাজারের ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকে জায়গা দখল করে নিয়েছে। এ কথা শুনে আলী رضي الله عنه লোকদের উদ্দেশ্যে বললেন, বাজার হচ্ছে মুসলমানদের নামাযের স্থানের মতো, যে আগে আসবে সে যে স্থান গ্রহণ করবে ওই দিন ওইই জায়গা তার। পরবর্তী দিন আবার যে আগে আসবে সে জায়গা তার হবে। (এটা হচ্ছে বাজারে সকলের জন্য উন্মুক্ত জায়গার হুকুম।)
📄 ধোঁকাপ্রাপ্ত কারীয বিন আস সাবাহ
বাতাসের গতিতে কারীয় বিন আব সাবাহ আল হুমাইরী সে তার ঘোড়া নিয়ে মদানের মাঝখানে পৌঁছে গেল এবং চিৎকার করে বলল, কোনো যোদ্ধা আছ? তখন আলী رضي الله عنه-এর বাহিনী থেকে এক এক লোক তার দিকে এগিয়ে এল। কিন্তু সে কারীয়র হাতে নিহত হলো। এরপর কারীয় আবার চিৎকার করে বলল, কোনো যোদ্ধা আছ? তখন আলী رضي الله عنه-এর দল থেকে আরেকজন লোক তার দিকে এগিয়ে এল। সেও কারীয়র হাতে নিহত হলো। এরপর কারীয় আবারো চিৎকার করে বলল, কোনো যোদ্ধা আছ?
তখন আলী رضي الله عنه-এর দল থেকে আরেকজন লোক তার দিকে এগিয়ে এল। সেও কারীয়র হাতে নিহত হলো। এভাবে তিনজন লোক এক ব্যক্তির হাতে নিহত হওয়ার কারণে মুসলিম বাহিনী মর্মাহত ও ভীতু হয়ে পড়ে। তাদের প্রথম কাতারের সৈন্যরা পিছনের দিকে যেতে লাগল। আলী رضي الله عنه যখন দেখলেন তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে তখন তিনি নিজেই কারীয়র মোকাবিলা করার জন্য ছুটে গেলেন। তিনি তাকে এক আঘাতে শেষ করে দিলেন। এরপর তিনি বারবার চিৎকার করে মধুযোদ্ধা করার আহ্বান করলেন এবং তাদের একেক এক তিনজনের সাথে লড়াই করে তাদেরেকা হত্যা করলেন। তারপর তিনি বললেন, হে লোক সকল, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, الْشَّهْرُ الْحَرَامُ بِالشَّهْرِ الْحَرَامِ وَالْحُرُمَاتُ قِصَاصٌ فَمَنِ اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ فَاعْتَدُوا عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا اعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ وَاتَّقُوا اللَّهَ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ “সম্মানিত মাসই সম্মানিত মাস। আর সম্মান রক্ষা করাও বদলা রয়েছে। সুতরাং যারা তোমাদের ওপর জবরদস্তি করেছে, তোমরা তাদের ওপর জবরদস্তি কর, যেমন জবরদস্তি তারা তোমাদের ওপর করেছে। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, যারা পরহেযগার, আল্লাহ তাদের সাথে রয়েছেন।” (সুরা বাকারা : ১৯৪)। এরপর তিনি আপন জায়গায় ফিরে এলেন।
টিকাঃ
৮১৬. আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব মিনাল ইসলামি ইসতিফাহান, ৪৪ পৃ.।