📄 আল্লাহ তোমার কথাকে দৃঢ় করুন
আল্লাহ তা'আলা সুরা বাকারার কিছু আয়াত নাযিল করার পর রাসূল ﷺ আলী رضي الله عنه-কে মক্কায় পাঠাতে চাইলেন। তখন আলী رضي الله عنه বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো স্পষ্টভাষী নই, আর আমি বক্তাও নই। নবী ﷺ বললেন, হয় আমি যাব, না হয় তুমি যাবে। আলী رضي الله عنه বললেন, যদি না যেয়ে কোনো উপায় না থাকে তবে আমি যাব। এরপর নবী ﷺ তাঁর মুখে হাত রেখে বললেন, যাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তোমার ভাষাকে দৃঢ় করবেন এবং তোমার অন্তরকে হেদায়েত দিবেন। এরপর আলী رضي الله عنه সফর শুরু করলেন। অবশেষে তিনি আবু বকর رضي الله عنه-এর কাছে পৌঁছালেন। তিনি সেই হজ্বের আমীর ছিলেন। আলী رضي الله عنه তাঁর থেকে নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন। আবু বকর رضي الله عنه খুত্বা দিয়ে নামাযের ইমামতি করার পর আলী رضي الله عنه দাঁড়ালেন। তিনি মানুষদেরকে সুরা বাকারার সেই আয়াতগুলো শোনালেন। যখন আবু বকর رضي الله عنه হজ্ব থেকে ফিরে এলেন তখন তিনি আফসোসের সাথে রাসূল ﷺ-কে বললেন, আমার ব্যাপারে কী কিছু নাযিল হয়েছে? নবী ﷺ বললেন, না, .........আবু বকর তুমি কী এতে খুশি নও যে, তুমি ত্বরীতে আমার সাথি ছিলে এবং হাত্বও আমার সাথি থাকবে? এ কথা বলার পর আবু বকর رضي الله عنه খুশি হয়ে বললেন, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল।
📄 আহলে বাইতের সন্তুষ্টি
ফাতেমা رضي الله عنها অসুস্থ হলে আবু বকর رضي الله عنه তাঁকে দেখতে আসেন। তিনি এসে ঘরে প্রবেশ করার অনুমতি চাইলেন। আলী رضي الله عنه বললেন, ফাতেমা, ইনি আবু বকর, তোমার কাছে আসার অনুমতি চাচ্ছেন। ফাতেমা رضي الله عنها বললেন, আমি তাঁকে আসার অনুমতি দিব, তুমি কী তা পছন্দ করবে। আলী رضي الله عنه বললেন, হ্যাঁ। তখন ফাতেমা رضي الله عنها তাঁকে ঘরে আসার অনুমতি দিলেন। তখন তিনি ঘরে প্রবেশ করে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি ঘর, সম্পদ, পরিবার, আত্মীয়স্বজন ছেড়ে শুধু আল্লাহ, রাসূল ও আহলে বাইতের সন্তুষ্টির জন্য এসেছি। তারপর তিনি ফাতেমা رضي الله عنها-কে সন্তুষ্ট করার জন্যে আরো অনেক কথা বললেন। শেষ পর্যন্ত ফাতেমা رضي الله عنها খুশি হয়ে গেলেন।
📄 মুনাফিকদের লক্ষণ
আলী رضي الله عنه-এর মতে, মুনাফিকদের তিনটি আলামত।
-এরা যখন একা থাকে তখন খুব অলস হয়।
-যখন মানুষের কাছে আসে তখন খুব কর্মঠ বা পটু হয়।
-তাদের কাজের প্রশংসা করলে কাজ বেশি করে করতে থাকে, আর নিন্দা জানালে, কাজের গতি কমিয়ে দেয়।
টিকাঃ
৮১০. হুলিয়াতুল আউলিয়া, ১ম খণ্ড, ৮৭ পৃ.
📄 নবী সা.-এর সাহাবীদের গুণাগুণ
খুব আত্মমর্যাদাবোধ ও তাকওয়ার সাথে আমীরুল মুমিনীন আলী رضي الله عنه মিহরাবে দাঁড়ালেন। তিনি ফজরের নামায আদায় করলেন। তাঁর ইমামতিতে কুফাবাসীরা নামায আদায় করেছে। নামায শেষ করার পর তিনি চিন্তিত মনে বসলেন, আর লোকজন তাঁর আশপাশে বসেছিল। কিছুক্ষণ পর সূর্য উদিত হলো। সূর্যের আলোতে মসজিদও আলোকিত হয়ে গেল। সূর্য ওঠার পর আলী رضي الله عنه উঠে দুই রাকাত নামায আদায় করলেন। তারপর তিনি হাত ও মাথা নাড়িয়ে আফসোসের সাথে বলতে লাগলেন, আমি মুহাম্মাদ ﷺ-এর সাহাবীদেরকে দেখেছি, কিন্তু আমি আজ কোনো কিছুই দেখছি না, যা তাদের সাথে সাদৃশ্য রাখে। তারা সকালে উঠত, তখন তাদের চোখে ও কপালে রাত আল্লাহর সিজদায় কাটানোর চিহ্ন দেখা যেত। তারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করত, এমনকি দীর্ঘক্ষণ বসার কারণে এক থেকে অন্য পায়ে গন্ডগোলটি করে বসত। তারা যখন আল্লাহকে স্মরণ করত তখন তারা নুয়ে পড়ত যেমন বাতাসে গাছে নুয়ে পড়ে। তাদের চোখে অশ্রু ঝরত এমনকি তাদের কাপড় ভিজে যেত।