📄 আলী রা.-এর দান
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মিম্বরের পাশে চাদর মুড়িয়ে বসলেন। তখন তাঁর কাছে এক লোক এসে জিজ্ঞেস করল- ইবনে আব্বাস, কার সম্পর্কে আল্লাহ্র এ আয়াত নাযিল হয়েছে......
وَالَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٧٤﴾
যারা স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের পালনকর্তার কাছে তাদের জন্যে রয়েছে তাদের প্রতিদান। (সূরা বাকারা : ২৭৪)
তিনি বললেন, তা আলী বিন আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তাঁর কাছে চার দিরহাম ছিল। তখন তিনি রাতে এক দিরহাম দান করলেন, দিনে এক দিরহাম দান করলেন, প্রকাশ্যে এক দিরহাম দান করলেন, গোপনে এক দিরহাম দান করলেন।
টিকাঃ
৫০৪. তনবুল ফাওয়াদ, ২৭৪ পৃ.
📄 কে সবচেয়ে উত্তম
মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহ বললেন, আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরে মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কে? তিনি বললেন, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আমি বললাম, এরপর কে? তিনি বললেন, ওমর ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আমি মনে মনে ভাবছিলাম ওমরুর প্রশ্ন করলে হয়তো বা উসমান গণি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)- এর নাম বলবেন। তাই আমি প্রশ্ন না করে বললাম, এরপর কী আপনি? তিনি উত্তরে বললেন, আমি তো সাধারণ মুসলমানদের একজন।
টিকাঃ
৫০৫. বুখারী।
📄 আল্লাহ তোমাকে খুশি করুন
আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রোমবাসীদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করতে লাগলেন। সাহাবীদের কেউ কেউ যুদ্ধের পক্ষে আবার কেউবা বিপক্ষে মত প্রকাশ করলেন। অনেকের পরামর্শ দেওয়ার পর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরামর্শ চাইলেন। তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যুদ্ধ করার জন্য পরামর্শ দিয়ে বললেন, আপনি যদি যুদ্ধ করেন, সফল হবেন। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তুমি তো ভালো সংবাদ দিয়েছ। এরপর তিনি মানুষদের সম্মুখে বক্তৃতা দিয়ে তাদেরেক রোমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিলেন।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আলী, তুমি কীভাবে, কোথা থেকে এ সংবাদ পেয়েছ যে, আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করলে বিজয়ী হবো? আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে এ সংবাদ শুনেছি। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে এ কথা বলার পর তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, হাসাবের বাবা, তুমি আমাকে যে সংবাদ শুনালে তা আমাকে খুবই আনন্দ দিয়েছে। আল্লাহ্ যেন তোমাকেও খুশি করেন।
টিকাঃ
৫০৬. তাহযীবুল ইনয়াকুবী, ২য় খণ্ড, ৬০৬ পৃ.
📄 উসমান রা. ও রাসূল সা.-এর দুই কন্যা
এক বাচাল লোক আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে এসে বলল, নিশ্চয়ই উসমান জাহালামী। তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তুমি কীভাবে জেনেছ? সে বলল, কেননা তিনি অনেক অঘটন ঘটিয়েছেন। তিনি বললেন, তোমার অভিমত কী যদি তোমার মেয়ে থাকে, তুমি কী তাকে পরামর্শ করা ব্যতীতও বিয়ে দেবে? সে বলল, না। তিনি বললেন, তুমি বল নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কী কোনো কাজ করতে আল্লাহ্র সাথে পরামর্শ করতেন নাকি করতেন না? সে বলল: বরঞ্চ তিনি পরামর্শ করতেন। তিনি বললেন, আর আল্লাহ্ কী তাঁকে ভালোটা পছন্দ করে দিতেন নাকি দিতেন না? সে বলল: বরঞ্চ আল্লাহ্ তাঁকে ভালোটাই পছন্দ করে দিতেন। তিনি বললেন, তাহলে এবার বল উসমানের সাথে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মেয়ের বিয়ে কী আল্লাহ্ তা’আলা পছন্দ করে দিয়েছেন নাকি দেননি? সে বলল, হ্যাঁ, আল্লাহ্ তা’আলা পছন্দ করে দিয়েছেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি তোমাকে মারার জন্য তরবারি উন্মুক্ত করেছি, কিন্তু আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। যদি তুমি এটা ব্যতীতও উলটা কোনো কথা বলতে তবে অবশ্যই আমি তোমার ঘাড়ে আঘাত করতাম।
টিকাঃ
৫০৭. সুনানুতাম্বু কানফিহুল উযাল, ২য় খণ্ড, ১৬-১৮ পৃ.