📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 খেজুর সংগ্রহ করছেন আলী রা.

📄 খেজুর সংগ্রহ করছেন আলী রা.


নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাতেমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে বললেন, আমার দুই নাতি কোথায়? অর্থাৎ হাসান, হুসাইন। ফাতেমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, তারা সকালে উঠেছি, অথচ আমাদের ঘরে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি তাদেরকে নিয়ে যাচ্ছি, কেননা আমার ভয় হচ্ছে তোমার কাছে খাবারের জন্য কান্না করবে, অথচ তোমার কাছে তো কিছুই নেই। এরপর সে তাদেরকে নিয়ে অমুক ইহুদীর কাছে গিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য সে ইহুদীর দোকানে রওনা দিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে একটি খেজুর গাছের নিচে খেলাধুলা করতে দেখলেন। তাদের হাতে খেজুর ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আলী, তীব্র গরম শুরু হওয়ার আগে তুমি কী আমার এ দুই নাতিকে নিয়ে গিয়ে যাবে না। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমরা সকাল কাটাতেছি, অথচ আমাদের ঘরে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। যদি আপনি একটু বসতেন তাহলে আমি ফাতেমার জন্য কিছু খেজুর সংগ্রহ করে নিতাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে বসে অপেক্ষা করলেন আর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খেজুর সংগ্রহ করতে লাগলেন। তারপর তিনি তা একটি ছোট ব্যাগে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন।

তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসানকে কোলে নিয়ে চলতে লাগলেন, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হুসাইনকেও কোলে নিয়ে চলতে লাগলেন।

টিকাঃ
৫০৩. উসমানুল ওয়ারাহরি, ৪৪ খণ্ড, ১১৯ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আলী রা.-এর দান

📄 আলী রা.-এর দান


ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মিম্বরের পাশে চাদর মুড়িয়ে বসলেন। তখন তাঁর কাছে এক লোক এসে জিজ্ঞেস করল- ইবনে আব্বাস, কার সম্পর্কে আল্লাহ্র এ আয়াত নাযিল হয়েছে......
وَالَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ﴿٢٧٤﴾
যারা স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে তাদের পালনকর্তার কাছে তাদের জন্যে রয়েছে তাদের প্রতিদান। (সূরা বাকারা : ২৭৪)
তিনি বললেন, তা আলী বিন আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তাঁর কাছে চার দিরহাম ছিল। তখন তিনি রাতে এক দিরহাম দান করলেন, দিনে এক দিরহাম দান করলেন, প্রকাশ্যে এক দিরহাম দান করলেন, গোপনে এক দিরহাম দান করলেন।

টিকাঃ
৫০৪. তনবুল ফাওয়াদ, ২৭৪ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 কে সবচেয়ে উত্তম

📄 কে সবচেয়ে উত্তম


মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহ বললেন, আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরে মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম কে? তিনি বললেন, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আমি বললাম, এরপর কে? তিনি বললেন, ওমর ফারুক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। আমি মনে মনে ভাবছিলাম ওমরুর প্রশ্ন করলে হয়তো বা উসমান গণি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)- এর নাম বলবেন। তাই আমি প্রশ্ন না করে বললাম, এরপর কী আপনি? তিনি উত্তরে বললেন, আমি তো সাধারণ মুসলমানদের একজন।

টিকাঃ
৫০৫. বুখারী।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আল্লাহ তোমাকে খুশি করুন

📄 আল্লাহ তোমাকে খুশি করুন


আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রোমবাসীদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করতে লাগলেন। সাহাবীদের কেউ কেউ যুদ্ধের পক্ষে আবার কেউবা বিপক্ষে মত প্রকাশ করলেন। অনেকের পরামর্শ দেওয়ার পর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরামর্শ চাইলেন। তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যুদ্ধ করার জন্য পরামর্শ দিয়ে বললেন, আপনি যদি যুদ্ধ করেন, সফল হবেন। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তুমি তো ভালো সংবাদ দিয়েছ। এরপর তিনি মানুষদের সম্মুখে বক্তৃতা দিয়ে তাদেরেক রোমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিলেন।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করলেন, আলী, তুমি কীভাবে, কোথা থেকে এ সংবাদ পেয়েছ যে, আমি তাদের সাথে যুদ্ধ করলে বিজয়ী হবো? আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে এ সংবাদ শুনেছি। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁকে এ কথা বলার পর তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, হাসাবের বাবা, তুমি আমাকে যে সংবাদ শুনালে তা আমাকে খুবই আনন্দ দিয়েছে। আল্লাহ্ যেন তোমাকেও খুশি করেন।

টিকাঃ
৫০৬. তাহযীবুল ইনয়াকুবী, ২য় খণ্ড, ৬০৬ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00