📄 গাভী ও গাধা
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-সহ একদম সাহাবীদের সাথে বসেছিলেন। এমন সময় দুইজন লোক বিচার নিয়ে আসল। তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমার একটি গাধা ছিল, এর একটি গাধী ছিল। তার গাধীটি আমার রামাকে মেরে ফেলেছে। মজলিশ থেকে এক লোক বলল, চুপচাপ জবর ও ওপর কোনো জরিমানা নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, আলী, তুমি এদের মাঝে বিচার কর। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাদেরকে বললেন, গাধী ও গাধা উভয়ে কী বাঁধা ছিল না কী ছাড়া ছিল। তারা বলল, গাধাটি বাঁধা ছিল আর গাধীটা ছাড়া ছিল, সাথে তার মালিক ছিল। তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, গাধীর মালিককে গাধার মূল্য পরিশোধ করতে হবে। তাঁর এ বিচারের রায়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুব খুশি হলেন。
টিকাঃ
৫০০ তাহযীবুল মুশকিলুল আসার বিন আসারী মিলান মিলাস ইলাল ইস্তিফাদাহ, ৬২ পৃ.
📄 আলী রা.-এর প্রতিবাদ
সুয়াইদ বিন গাফলা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শিয়া সম্প্রদায়ের কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমি তাদের দেখতে পেলাম, তারা আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে এমন কিছু খারাপ কথা রটাবে যা তারা করেনি। তখন আমি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে ছুটে গিয়ে এ ব্যাপারে বলি। ওই মুহূর্তে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার হাত ধরে কেঁদে ফেলেন এবং সাথে সাথে মসজিদের মিম্বরে চড়ে বলতে লাগলেন, হে লোক সকল, তোমরা কী এমন দুই ব্যক্তির সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করতে চাও, যারা সত্যের পথে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথী ছিলেন। যারা সৎ কাজের আদেশ দিতেন, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন। যাদের মতো আর কাউকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভালোবাসতেন না। যাদেরকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রাণের মানুষ ব্যতীত শুধু মু’মিন, পরহেজগার ব্যক্তিরাই ভালোবাসত। যাদের প্রতি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্তুষ্ট ছিলেন। যাদের মৃত্যুর পরেও তাদের প্রতি মুমিনরা তাদের ওপর সন্তুষ্ট আছেন। এভাবে তাঁরা ন্যায়ানুগ বক্তব্যের মাধ্যমে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সম্মান রক্ষা করেছেন。
টিকাঃ
৫০১ উসমান বিন আফফান লিদ সালারী, ১৭৬ পৃ.
📄 আমার জন্যে যা হালাল তোমার জন্যেও তা হালাল
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু মানুষকে মসজিদ থেকে বের করে দিলেন, তোমরা আমার এ মসজিদে ঘুমাবে না। তখন মানুষ সকলে বের হয়ে গেল, তাদের সাথে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-ও বের হয়ে গেলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, তুমি মসজিদে ফিরে যাও, কেননা আমার জন্য যা হালাল তা তোমার জন্যও হালাল।
টিকাঃ
৫০২. তাহযীবুন মুনফাদিহুল মুনওয়াফাহ, ২য় খণ্ড, ৬৬ পৃ.
📄 খেজুর সংগ্রহ করছেন আলী রা.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফাতেমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে বললেন, আমার দুই নাতি কোথায়? অর্থাৎ হাসান, হুসাইন। ফাতেমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, তারা সকালে উঠেছি, অথচ আমাদের ঘরে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি তাদেরকে নিয়ে যাচ্ছি, কেননা আমার ভয় হচ্ছে তোমার কাছে খাবারের জন্য কান্না করবে, অথচ তোমার কাছে তো কিছুই নেই। এরপর সে তাদেরকে নিয়ে অমুক ইহুদীর কাছে গিয়েছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য সে ইহুদীর দোকানে রওনা দিলেন। তিনি সেখানে গিয়ে হাসান ও হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে একটি খেজুর গাছের নিচে খেলাধুলা করতে দেখলেন। তাদের হাতে খেজুর ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আলী, তীব্র গরম শুরু হওয়ার আগে তুমি কী আমার এ দুই নাতিকে নিয়ে গিয়ে যাবে না। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমরা সকাল কাটাতেছি, অথচ আমাদের ঘরে খাওয়ার মতো কিছুই নেই। যদি আপনি একটু বসতেন তাহলে আমি ফাতেমার জন্য কিছু খেজুর সংগ্রহ করে নিতাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসে বসে অপেক্ষা করলেন আর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) খেজুর সংগ্রহ করতে লাগলেন। তারপর তিনি তা একটি ছোট ব্যাগে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে আসলেন।
তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসানকে কোলে নিয়ে চলতে লাগলেন, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হুসাইনকেও কোলে নিয়ে চলতে লাগলেন।
টিকাঃ
৫০৩. উসমানুল ওয়ারাহরি, ৪৪ খণ্ড, ১১৯ পৃ.