📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 খলিফার দৈনন্দিন খরচ

📄 খলিফার দৈনন্দিন খরচ


ওমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন খেলাফতের দায়িত্ব নিলেন তখন বাইতুল মাল থেকে কোনোকিছু নিতেনও না, খেতেনও না, কিন্তু প্রজাদের পেছনে অনেক সময় ব্যয় করার কারণে তিনি তাঁর ব্যবসায় সময় দিতে পারলেন না। তাই তিনি সাহাবীদের সাথে এ বিষয়ে পরামর্শ করলেন। তখন উসমান বিন আফফান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আপনি বাইতুল মাল থেকে যান আর আপনার পরিবারকেও খাওয়ান। সাইদ বিন যায়েদ ও আমর বিন নুফাইল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একই পরামর্শ দিলেন। এরপর ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, আলী, এ ব্যাপারে তুমি পরামর্শ দাও। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আপনি সকাল ও বিকালের খাবারের খরচ গ্রহণ করুন। তখন ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরামর্শ গ্রহণ করলেন。

টিকাঃ
৪৯৯ আল বিদায়াহ ওয়াল নিহায়াহ, ২৯০ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 গাভী ও গাধা

📄 গাভী ও গাধা


নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-সহ একদম সাহাবীদের সাথে বসেছিলেন। এমন সময় দুইজন লোক বিচার নিয়ে আসল। তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমার একটি গাধা ছিল, এর একটি গাধী ছিল। তার গাধীটি আমার রামাকে মেরে ফেলেছে। মজলিশ থেকে এক লোক বলল, চুপচাপ জবর ও ওপর কোনো জরিমানা নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, আলী, তুমি এদের মাঝে বিচার কর। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাদেরকে বললেন, গাধী ও গাধা উভয়ে কী বাঁধা ছিল না কী ছাড়া ছিল। তারা বলল, গাধাটি বাঁধা ছিল আর গাধীটা ছাড়া ছিল, সাথে তার মালিক ছিল। তখন আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, গাধীর মালিককে গাধার মূল্য পরিশোধ করতে হবে। তাঁর এ বিচারের রায়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খুব খুশি হলেন。

টিকাঃ
৫০০ তাহযীবুল মুশকিলুল আসার বিন আসারী মিলান মিলাস ইলাল ইস্তিফাদাহ, ৬২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আলী রা.-এর প্রতিবাদ

📄 আলী রা.-এর প্রতিবাদ


সুয়াইদ বিন গাফলা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শিয়া সম্প্রদায়ের কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, আমি তাদের দেখতে পেলাম, তারা আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে এমন কিছু খারাপ কথা রটাবে যা তারা করেনি। তখন আমি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে ছুটে গিয়ে এ ব্যাপারে বলি। ওই মুহূর্তে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার হাত ধরে কেঁদে ফেলেন এবং সাথে সাথে মসজিদের মিম্বরে চড়ে বলতে লাগলেন, হে লোক সকল, তোমরা কী এমন দুই ব্যক্তির সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করতে চাও, যারা সত্যের পথে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথী ছিলেন। যারা সৎ কাজের আদেশ দিতেন, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন। যাদের মতো আর কাউকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভালোবাসতেন না। যাদেরকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রাণের মানুষ ব্যতীত শুধু মু’মিন, পরহেজগার ব্যক্তিরাই ভালোবাসত। যাদের প্রতি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সন্তুষ্ট ছিলেন। যাদের মৃত্যুর পরেও তাদের প্রতি মুমিনরা তাদের ওপর সন্তুষ্ট আছেন। এভাবে তাঁরা ন্যায়ানুগ বক্তব্যের মাধ্যমে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু বকর ও ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সম্মান রক্ষা করেছেন。

টিকাঃ
৫০১ উসমান বিন আফফান লিদ সালারী, ১৭৬ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমার জন্যে যা হালাল তোমার জন্যেও তা হালাল

📄 আমার জন্যে যা হালাল তোমার জন্যেও তা হালাল


নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু মানুষকে মসজিদ থেকে বের করে দিলেন, তোমরা আমার এ মসজিদে ঘুমাবে না। তখন মানুষ সকলে বের হয়ে গেল, তাদের সাথে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-ও বের হয়ে গেলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, তুমি মসজিদে ফিরে যাও, কেননা আমার জন্য যা হালাল তা তোমার জন্যও হালাল।

টিকাঃ
৫০২. তাহযীবুন মুনফাদিহুল মুনওয়াফাহ, ২য় খণ্ড, ৬৬ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00