📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আত্ব তুরাব উঠ

📄 আত্ব তুরাব উঠ


কিছুক্ষণ পর নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতিমা রাঃ-এর কাছ হয়ে বের হয়ে মসজিদে গিয়ে শুয়ে রইলেন। ফাতিমা রাঃ-এর কাছে এসে আলী রাঃ-কে না পেয়ে তাঁকে বললেন, আমার চাচাতো ভাই কোথায়? ফাতিমা রাঃ বললেন, তিনি মসজিদে শুয়ে আছেন। নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে এসে দেখলেন আলী রাঃ-এর শরীর থেকে চাদর সরে গেছে, তাঁর পিঠে বালু লেগেছে। এ অবস্থা দেখে নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে তাঁর পিঠ মুছে দিতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, আবু তুরাব (মাটির বাবা) ওঠ। তখন থেকে আলী রাঃ-কে আবু তুরাব নামেও ডাকা হতো。

টিকাঃ
৪৫৫ আবু ছিবয়ানী, ৪থ খণ্ড, ১০৬ পৃ.। ফর্মা – ২১

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমাকে শান্তির মাঝে আসতে দাও

📄 আমাকে শান্তির মাঝে আসতে দাও


আবু বকর রাঃ নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন, আয়েশা রাঃ উচ্চ আওয়াজে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলছেন, আমি জানতে পেরেছি আপনি আমাকে আমার বাবার থেকেও বেশি মহব্বত করেন! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে এমন উচ্চস্বরে কথা কারণে আবু বকর রাঃ তাঁকে থাপ্পড় দেওয়ার জন্য ছুটে গেলেন। তখন তিনি বলতে লাগলেন, ওই অমুকের মেয়ে, তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে উচ্চ আওয়াজে কথা বলছ? কিন্তু তিনি থাপ্পড় দিতে গেলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত ফেললেন। যাতে করে আবু বকর রাঃ আয়েশা রাঃ-কে মারতে না পারেন। এরপর আবু বকর রাঃ রাগ করে বের হয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আয়েশা, দেখছ আমি কীভাবে এ লোক থেকে তোমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছি? অর্থাৎ তাঁর বাবা আবু বকর রাঃ থেকে। এর কিছুক্ষণ পর আবু বকর রাঃ আবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আয়েশা রাঃ-এর মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ বিরাজ করছিল। এ দৃশ্য দেখে আবু বকর রাঃ বললেন, আমাকে তোমাদের শান্তিতে আসতে দাও যেমনিভাবে তোমাদের যুদ্ধের সময় আসতে দিয়েছ। (অর্থাৎ কিছু আগে ঘটে যাওয়া পরস্পর হালকা তর্ক-বিতর্ক)。

টিকাঃ
৪৫৬ মুসনাদে ইমাম আহমদ, ৪থ খণ্ড, ২৯৫ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 রাসায়নিক পরীক্ষায় আলী রা.

📄 রাসায়নিক পরীক্ষায় আলী রা.


ওমর রাঃ-এর কাছে এক মহিলা আসলেন। এক যুবকের সাথে অবৈধ মেলামেশা করতে চেয়েছিল, কিন্তু যুবক তাকে সুযোগ না দেওয়ায় সে যুবককে ফাঁসাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করল। সে একটি ডিম ভেঙে নিজের কাপড় ও উরুর মাঝে মেখে নিল। তারপর সে ওমর রাঃ-এর কাছে এসে যুবকের নামে অভিযোগ করে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগল, আমীরুল মুমিনীন, এ যুবক আমার সাথে অবৈধ কাজ করেছে, সে সমাজে আমার সম্মান নষ্ট করেছে। ওমর রাঃ তাঁর অভিযোগ শুনে মহিলাদেরকে বললেন, তোমরা দেখ তো তার গায়ে কিসের আলামত? তারা দেখে বলল, এগুলো বীর্যের আলামত। তখন ওমর রাঃ যুবকটিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। যুবকটি তাঁর কাছে কাকুতি-মিনতি করে বলল, আমীরুল মুমিনীন, সে আমাকে খারাপ কাজের দিকে আহবান করেছে, কিন্তু আমি নিজেকে সংরক্ষণ করেছি।
তখন উমর আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, তুমি এদের ব্যাপারে কী মনে কর। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মহিলার পরিহিত কাপড়টি ও গরম পানি নিয়ে আসতে বললেন। কাপড়টি নিয়ে আসলে তিনি তাতে পানি মারলেন। পানি মারার পর কাপড়ে মাখা জিনের কদম মুখে দিয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যেতে লাগল। তিনি আরো বেশি নিশ্চিত হওয়ার জন্যে তা জিহ্বায় নিয়ে স্বাদ দেখলেন। তিনি তাতে ডিমের স্বাদ পেলেন। তখন ওই মহিলাকে কঠোরভাবে ধমকানোর পর মহিলাটি সব স্বীকার করল。

টিকাঃ
৪৯৭ আবু দাউদ কুল কিতাব, ৪১ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 জুতা সেলাইকারী

📄 জুতা সেলাইকারী


কোরাইশদের কিছু সংখ্যক লোক নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, মুহাম্মাদ, আমরা আপনার প্রতিবেশী ও মিত্র, আমাদের কিছু দাস আপনার কাছে চলে এসেছেন, দ্বীন ও ইসলামী জ্ঞানের প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ নেই। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বললেন, তুমি কী বল? আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তারা সত্য বলেছে, তারা আপনার প্রতিবেশী। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারাও রও পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী বল? আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, তারা সত্য বলেছে, তারা আপনার প্রতিবেশী। তাঁর উত্তরে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা রও পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি বললেন, হে কোরাইশদের দল, আল্লাহ্র শপথ! আল্লাহ্ তা'আলা তোমাদের মাঝে তোমাদের মধ্য থেকে এমন এক লোককে পাঠাবেন, যার অন্তরকে আল্লাহ্ তা'আলা ঈমানের মাধ্যমে পরীক্ষিত করেছেন, সে তোমাদের প্রত্যেককে বা কিছু লোককে দ্বীনের জন্যে প্রহার করবে। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি, হে আল্লাহ্র রাসূল! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, আমি, হে আল্লাহ্র রাসূল! নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, না, ওই ব্যক্তি হচ্ছে যে জুতা সেলাই করেছে। এর আগে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে একটি জুতা দিয়েছিলেন সেলাই করার জন্যে。

টিকাঃ
৪৯৮ আবু দাউদ শরীফ, ৩য় খণ্ড, ৬৪৫ পৃ. ও বাইহাকী, ৮ম খণ্ড, ২২৯ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00