📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আখেরাতের সফর অনেক দীর্ঘ

📄 আখেরাতের সফর অনেক দীর্ঘ


আলী রাঃ যখন রাতে নামায আদায় করছিলেন, ঠিক তখন আনশার তার বান্ধবী বললেন, ভোর রাতে সেহরী খেয়ে সারা দিন রোযা রাখা অনেক কষ্টকর। আলী রাঃ নামায শেষ করে বললেন, আনশার, আখেরাতের সফর তো অনেক দীর্ঘ। অর্থাৎ আখেরাতে শান্তি পেতে চাইলে তা আরো অধিক কষ্টকর。

টিকাঃ
৪৫৩ উসমান বিন আফফান বিন সালাফী, ২২৭ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সতর্ক অন্তর

📄 সতর্ক অন্তর


আলী রাঃ কুমাঈল বিন যিয়াদকে নিয়ে কবরস্থানের উদ্দেশে বের হলেন। তারপর তিনি পরিপক্ক একটি গাছের নিচে বসলেন। তিনি বললেন, কুমাঈল, স্মরণীয় কথার মধ্যে খাবার মতো কথা, মানুষ তিন ধরনের, আল্লাহওয়ালা আলেম, নাদানের পথের ছাত্র, বর্বর জনগোষ্ঠী। বর্বর জনগোষ্ঠীর, তাদেরকে যেদিকে আহবান করা হয় সেদিকে ছুটে যায়, বাতাস যেদিকে যায় সেদিকেই তারা কাত হয়ে যায়, তারা ইলমের নূর দ্বারা আলোকিত হয় না এবং কোনো দৃঢ়তার পথ অবলম্বন করে না। ইলম সম্পদ থেকেও অধিক মূল্যবান, ইলম তোমাকে পাহারা দিবে, আর সম্পদকে তুমি পাহারা দিতে হবে, ইলম আমল ও ব্যয় করার দ্বারা বুদ্ধি পায় (অর্থাৎ আমল করার দ্বারা ও পাঠ দান করার দ্বারা ইলম বৃদ্ধি পায়), আর সম্পদ মালিক মরে যায়, ইলমের অধিকারী মরে না, তারা যুগ যুগ ধরে থাকে, চোখের দৃষ্টিতে তারা হারিয়ে গেলেও মনের ভেতরে থেকে যায়। (এখানে ইলম অর্থ ইসলামী জ্ঞান)。

টিকাঃ
৪৫৪ আল হাকিম, ৬৫ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আত্ব তুরাব উঠ

📄 আত্ব তুরাব উঠ


কিছুক্ষণ পর নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতিমা রাঃ-এর কাছ হয়ে বের হয়ে মসজিদে গিয়ে শুয়ে রইলেন। ফাতিমা রাঃ-এর কাছে এসে আলী রাঃ-কে না পেয়ে তাঁকে বললেন, আমার চাচাতো ভাই কোথায়? ফাতিমা রাঃ বললেন, তিনি মসজিদে শুয়ে আছেন। নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে এসে দেখলেন আলী রাঃ-এর শরীর থেকে চাদর সরে গেছে, তাঁর পিঠে বালু লেগেছে। এ অবস্থা দেখে নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে তাঁর পিঠ মুছে দিতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, আবু তুরাব (মাটির বাবা) ওঠ। তখন থেকে আলী রাঃ-কে আবু তুরাব নামেও ডাকা হতো。

টিকাঃ
৪৫৫ আবু ছিবয়ানী, ৪থ খণ্ড, ১০৬ পৃ.। ফর্মা – ২১

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমাকে শান্তির মাঝে আসতে দাও

📄 আমাকে শান্তির মাঝে আসতে দাও


আবু বকর রাঃ নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন, আয়েশা রাঃ উচ্চ আওয়াজে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলছেন, আমি জানতে পেরেছি আপনি আমাকে আমার বাবার থেকেও বেশি মহব্বত করেন! রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে এমন উচ্চস্বরে কথা কারণে আবু বকর রাঃ তাঁকে থাপ্পড় দেওয়ার জন্য ছুটে গেলেন। তখন তিনি বলতে লাগলেন, ওই অমুকের মেয়ে, তুমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে উচ্চ আওয়াজে কথা বলছ? কিন্তু তিনি থাপ্পড় দিতে গেলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত ফেললেন। যাতে করে আবু বকর রাঃ আয়েশা রাঃ-কে মারতে না পারেন। এরপর আবু বকর রাঃ রাগ করে বের হয়ে গেলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আয়েশা, দেখছ আমি কীভাবে এ লোক থেকে তোমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছি? অর্থাৎ তাঁর বাবা আবু বকর রাঃ থেকে। এর কিছুক্ষণ পর আবু বকর রাঃ আবার রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আয়েশা রাঃ-এর মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ বিরাজ করছিল। এ দৃশ্য দেখে আবু বকর রাঃ বললেন, আমাকে তোমাদের শান্তিতে আসতে দাও যেমনিভাবে তোমাদের যুদ্ধের সময় আসতে দিয়েছ। (অর্থাৎ কিছু আগে ঘটে যাওয়া পরস্পর হালকা তর্ক-বিতর্ক)。

টিকাঃ
৪৫৬ মুসনাদে ইমাম আহমদ, ৪থ খণ্ড, ২৯৫ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00