📄 তোমার আমল নিয়ে আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করি
আকাশ ভরা দুঃখ নিয়ে মানুষেরা আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন খাত্তাব রাঃ-এর মৃত্যুদেহ রাখল। মানুষেরা তাঁকে কানকথা বলতে চাইলে তৎপূর্বে সদকা প্রদান করবে, এটা তোমাদের জন্য শ্রেয় ও পবিত্র হওয়ার ভালো উপায়। যদি তোমরা সক্ষম না হও তবে আল্লাহ্ তা'আলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সূরা মুজাদালা: ১২) আলী রাঃ আসলেন। তিনি তাঁর ভালো আল্লাহ্র কাছে রহমতের দোয়া করলেন। তাঁর চোখে অশ্রু ঝরছিল। তারপর তিনি খাটের কিনারা ধরে বললেন, আপনার আমল ব্যতীত আর কোনো আমল নিয়ে আমি আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করি না। আমার ধারণা আল্লাহ্ তা'আলা অবশ্যই আপনাকে আপনার দুই সাথির সাথে রাখবেন। এটা এ কারণে বলছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনতাম, তিনি বলতেন, "আমি, আবু বকর ও ওমর গিয়েছি" "আমি, আবু বকর ও ওমর এসেছি।"
টিকাঃ
৪৫২ উমদাতুল ক্বারী, ৪র্থ খণ্ড, ৩৬৮ পৃ.
📄 আখেরাতের সফর অনেক দীর্ঘ
আলী রাঃ যখন রাতে নামায আদায় করছিলেন, ঠিক তখন আনশার তার বান্ধবী বললেন, ভোর রাতে সেহরী খেয়ে সারা দিন রোযা রাখা অনেক কষ্টকর। আলী রাঃ নামায শেষ করে বললেন, আনশার, আখেরাতের সফর তো অনেক দীর্ঘ। অর্থাৎ আখেরাতে শান্তি পেতে চাইলে তা আরো অধিক কষ্টকর。
টিকাঃ
৪৫৩ উসমান বিন আফফান বিন সালাফী, ২২৭ পৃ.
📄 সতর্ক অন্তর
আলী রাঃ কুমাঈল বিন যিয়াদকে নিয়ে কবরস্থানের উদ্দেশে বের হলেন। তারপর তিনি পরিপক্ক একটি গাছের নিচে বসলেন। তিনি বললেন, কুমাঈল, স্মরণীয় কথার মধ্যে খাবার মতো কথা, মানুষ তিন ধরনের, আল্লাহওয়ালা আলেম, নাদানের পথের ছাত্র, বর্বর জনগোষ্ঠী। বর্বর জনগোষ্ঠীর, তাদেরকে যেদিকে আহবান করা হয় সেদিকে ছুটে যায়, বাতাস যেদিকে যায় সেদিকেই তারা কাত হয়ে যায়, তারা ইলমের নূর দ্বারা আলোকিত হয় না এবং কোনো দৃঢ়তার পথ অবলম্বন করে না। ইলম সম্পদ থেকেও অধিক মূল্যবান, ইলম তোমাকে পাহারা দিবে, আর সম্পদকে তুমি পাহারা দিতে হবে, ইলম আমল ও ব্যয় করার দ্বারা বুদ্ধি পায় (অর্থাৎ আমল করার দ্বারা ও পাঠ দান করার দ্বারা ইলম বৃদ্ধি পায়), আর সম্পদ মালিক মরে যায়, ইলমের অধিকারী মরে না, তারা যুগ যুগ ধরে থাকে, চোখের দৃষ্টিতে তারা হারিয়ে গেলেও মনের ভেতরে থেকে যায়। (এখানে ইলম অর্থ ইসলামী জ্ঞান)。
টিকাঃ
৪৫৪ আল হাকিম, ৬৫ পৃ.
📄 আত্ব তুরাব উঠ
কিছুক্ষণ পর নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতিমা রাঃ-এর কাছ হয়ে বের হয়ে মসজিদে গিয়ে শুয়ে রইলেন। ফাতিমা রাঃ-এর কাছে এসে আলী রাঃ-কে না পেয়ে তাঁকে বললেন, আমার চাচাতো ভাই কোথায়? ফাতিমা রাঃ বললেন, তিনি মসজিদে শুয়ে আছেন। নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে এসে দেখলেন আলী রাঃ-এর শরীর থেকে চাদর সরে গেছে, তাঁর পিঠে বালু লেগেছে। এ অবস্থা দেখে নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে তাঁর পিঠ মুছে দিতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, আবু তুরাব (মাটির বাবা) ওঠ। তখন থেকে আলী রাঃ-কে আবু তুরাব নামেও ডাকা হতো。
টিকাঃ
৪৫৫ আবু ছিবয়ানী, ৪থ খণ্ড, ১০৬ পৃ.। ফর্মা – ২১