📄 ইহুদি ও বাগান
একদিন আলী রাঃ ক্ষুধার্থ অবস্থায় ঘর হলেন। শীতের তীব্র অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাঁপছিল। তাঁর কাঁধে একটি চামড়া ছিল। তিনি সেই চামড়াটি দিয়ে তা কেটে একটি টুকরা নিয়ে তা চাদরের ভেতরে দিয়ে বুক বাঁধলেন। যাতকের ঠান্ডা থেকে বাঁচতে পারেন। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমার ঘরে কিছুই নেই, যদি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ঘরে কিছু থাকত তবে অবশ্যই তিনি আমার জন্যে কিছু পাঠাতেন। তারপর তিনি মদিনার শেষ সীমানার দিকে পা বাড়ালেন। তিনি শীতের কাঁপন ও ক্ষুধার যাতনা নিয়ে যাচ্ছিলেন। চলার সময় এক ইহুদি তাঁকে তার বাগানের দেওয়ালের ফাঁক দিয়ে দেখতে পেলেন। সে বলল, হে বেদুইন, তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেন, আমার খুব শীত লাগছে ও খুব ক্ষুধা লেগেছে। তখন ইহুদি বলল, তুমি কী আমাকে পানি দিবে? প্রতি বালতি একটি খেজুরের বিনিময়ে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি রাজি হওয়ায় ইহুদি বাগানের দরজা খুলে দিল। তিনি বাগানে প্রবেশ করে বালতি ভরে পানি আনতে লাগলেন। প্রত্যেক বালতি পানি আনার পর ইহুদি তাঁকে একটি করে খেজুর দিত। এভাবে খেজুর নিতে নিতে তাঁর হাত ভরে গেল। তখন আলী রাঃ বললেন, এখন আমার যথেষ্ট হয়েছে। তিনি খেজুরগুলো খেয়ে সামান্য পানি পান করলেন। তারপর তিনি নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে গেলেন। নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে মসজিদে বসে ছিলেন। আলী রাঃ অন্যান্য সাহাবীদের সাথে বসে গেলেন। এমন সময় মূসা'আব বিন উমায়ের রাঃ ছেঁড়া একটি কাপড় গায়ে দিয়ে আসলেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে দেখতে পেয়ে তাঁর পূর্ববর্তী অবস্থার কথা চিন্তা করলেন আর বর্তমানে এমন করুণ অবস্থার কথা ভেবে কেঁদে দিলেন। মূসা'আব রাঃ ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বে খুবই বিলাসিতা করে চলতেন। তারপর তিনি বললেন, তোমরা তখন কেমন থাকবে যখন দুপুরের একটি জামা গায়ে দিবে, আর সন্ধ্যায় আরেকটি গায়ে দিবে এবং কা'বা ঘর যেভাবে কাপড় দ্বারা ঢাকা হয়, তোমাদের ঘরও সেভাবে কাপড় দিয়ে ঢাকবে। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, সে সময় তো আমরা খুব ভালো থাকব, তখন আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেশি থাকবে এ কারণে আমরা ইবাদত করার বেশি সুযোগ পাব। নবী রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না....... বরং তোমরা সে সময় থেকে এখন থাকলে ভালো আছো。
টিকাঃ
৪৪৬ মাজমা, ১০ম খণ্ড, ১৫৪ পৃ. ও আল কান্য, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৬১২ পৃ.
📄 এক মহিলা তার স্বামীর ব্যাপারে অপবাদ দিল
এক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে এসে আলী রাঃ-কে বলল, আমার স্বামী আমার অনুমতি ছাড়া আমার দাসীর সাথে সহবাস করেছে, অর্থাৎ যিনা করেছে। তখন আলী রাঃ স্বামীকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী বল? সে বলল, আমি তার অনুমতি নিয়ে দাসীর সাথে সহবাস করেছি। তখন আলী রাঃ মহিলাটিকে ভয় দেখিয়ে বললেন, যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে আমি তোমার স্বামীকে রজম করব (পাথর মেরে হত্যা করব) আর যদি তুমি মিথ্যাবাদী হয়ে থাক, তবে মিথ্যা অপরাধের শাস্তিস্বরূপ তোমাকে আশিটি বেত্রাঘাত করব। এমন সময় নামাযের সময় হলো, তখন তিনি মহিলাটিকে এ কথা বলে নামাযে চলে গেলেন। এদিকে মহিলাটি বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেল। দুই দিকেই বিপদ, যদি সে নিজেকে সত্যবাদী সাব্যস্ত করে তবে তার স্বামী মারা যাবে, আর যদি সে নিজেকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করে তবে তাকে আশি বেত্রাঘাত খেতে হবে। মহিলাটি কোনো দিশা না পেয়ে পালিয়ে গেল। নামায শেষে আলী রাঃ মহিলাটিকে পাননি, কিন্তু না পেয়ে তিনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেননি। প্রিয় পাঠক! এখানে আলী রাঃ মহিলাটিকে মিথ্যা অপবাদ দিতে দেখে ভয় দেখিয়ে এ শাস্তির কথা বলেন। তবে বিচারটির রায় এর থেকে একটু ভিন্ন。
টিকাঃ
৪৫১ আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবি তালিব মিনাল ইসলাম ইবনিল হিশাম, ৭০ পৃ.
📄 তোমার আমল নিয়ে আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করি
আকাশ ভরা দুঃখ নিয়ে মানুষেরা আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন খাত্তাব রাঃ-এর মৃত্যুদেহ রাখল। মানুষেরা তাঁকে কানকথা বলতে চাইলে তৎপূর্বে সদকা প্রদান করবে, এটা তোমাদের জন্য শ্রেয় ও পবিত্র হওয়ার ভালো উপায়। যদি তোমরা সক্ষম না হও তবে আল্লাহ্ তা'আলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সূরা মুজাদালা: ১২) আলী রাঃ আসলেন। তিনি তাঁর ভালো আল্লাহ্র কাছে রহমতের দোয়া করলেন। তাঁর চোখে অশ্রু ঝরছিল। তারপর তিনি খাটের কিনারা ধরে বললেন, আপনার আমল ব্যতীত আর কোনো আমল নিয়ে আমি আল্লাহ্র সাথে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করি না। আমার ধারণা আল্লাহ্ তা'আলা অবশ্যই আপনাকে আপনার দুই সাথির সাথে রাখবেন। এটা এ কারণে বলছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনতাম, তিনি বলতেন, "আমি, আবু বকর ও ওমর গিয়েছি" "আমি, আবু বকর ও ওমর এসেছি।"
টিকাঃ
৪৫২ উমদাতুল ক্বারী, ৪র্থ খণ্ড, ৩৬৮ পৃ.
📄 আখেরাতের সফর অনেক দীর্ঘ
আলী রাঃ যখন রাতে নামায আদায় করছিলেন, ঠিক তখন আনশার তার বান্ধবী বললেন, ভোর রাতে সেহরী খেয়ে সারা দিন রোযা রাখা অনেক কষ্টকর। আলী রাঃ নামায শেষ করে বললেন, আনশার, আখেরাতের সফর তো অনেক দীর্ঘ। অর্থাৎ আখেরাতে শান্তি পেতে চাইলে তা আরো অধিক কষ্টকর。
টিকাঃ
৪৫৩ উসমান বিন আফফান বিন সালাফী, ২২৭ পৃ.