📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ওয়ালীদকে হত্যা করেছেন আলী রা.

📄 ওয়ালীদকে হত্যা করেছেন আলী রা.


বদরের যুদ্ধের দিন উতবা বিন রবীআ খুব অহংকারের সাথে তার ভাই ও ছেলের সাথে মগব্দুর করার জন্য বের হলো। এরপর সে হিংস্র-মনোভাবে তার আওয়াজকে বাঘের মতো উঁচু করে বলতে লাগল, মগব্দুর করার মতো কেউ আছ?
তখন মুসলমানদের দল থেকে তিনজন আনসারী যুবক মোকাবিলা করার জন্য তাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন।
তারা বলল, তোমরা কারা?
তখন বললেন, আমরা আনসারদের একদল।
তারা বলল, তোমাদেরকে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।
তারপর তারা ডেকে বলল, মুহাম্মাদ, আমাদের জন্য আমাদের গোত্র থেকে আমাদের সমপর্যায়ের লোকদেরকে পাঠাও।
তখন নবী ﷺ বললেন, উবায়দা বিন হারিস দাঁড়াও, হামযা দাঁড়াও, আলী দাঁড়াও।
এরপর তাঁরা তিনজন আতঙ্কের লেলিহান শিখার মতো ওদের দিকে ছুটে গেলেন।
তারা বলল, তোমরা কারা?
তখন মুসলমানেরা এ তিনজন বীর নিজেদের পরিচয় দিলেন।
তখন তারা বলল, এবার ঠিক আছে, তোমরা আমাদের সমপর্যায়ের।
হামযা رضي الله عنه শায়বা বিন রবীআর সাথে লড়াই করলেন। হামযা رضي الله عنه এমন এক আঘাত করলেন, তার আঘাতে রবীআ নিহত হলো। আলী رضي الله عنه ওয়ালীদ বিন শায়বার সাথে লড়াই করলেন। তিনিও ওয়ালীদকে হত্যা করতে সক্ষম হলেন। আর উবায়দা رضي الله عنه উতবা বিন রবীআর সাথে লড়াই করলেন। তারা উভয়কে একে অপরকে আঘাত করলেন। পরে হামযা رضي الله عنه ও আলী رضي الله عنه ছুটে গিয়ে উতবাকে হত্যা করলেন। বদরের যুদ্ধে কাফেরদের পক্ষ থেকে আসা তিনজনই মুসলমানদের হাতে নিহত হলো。

টিকাঃ
৫০৫ সিরাতু ইবনে হিশাম, ২য় খণ্ড, ২৭১ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সত্যকে অপছন্দকারী এক ব্যক্তি

📄 সত্যকে অপছন্দকারী এক ব্যক্তি


চঞ্চল উৎপাদনকারী, কোঠারাগত চোখবিশিষ্ট চেহারায় অভিজ্ঞতার ছাপবিশিষ্ট এক লোক আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন খাত্তাব رضي الله عنه-এর পাশে বসল। তার জিহ্বা তাসবীহ জপছিল।
ওমর رضي الله عنه লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, কী অবস্থায় সকাল কাটালে?
লোকটি বিষাদ ও দিশেহারা অবস্থায় বলল, আমি সকাল কাটালাম ফিতনাকে পছন্দ করে, সত্যকে অপছন্দ করে, অযথা সালাত পড়ে, আকাশে আল্লাহ্র কাছে যা নেই জমিনে আমার জন্য তা আছে।
এমন কথা শুনে ওমর رضي الله عنه-এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি ভীষণ রাগান্বিত হলেন। তিনি লোকটির জামার কলার ধরে শাস্তি দিতে নিয়ে যেতে লাগলেন।
এ সবগুলো আলী رضي الله عنه স্বপ্নে দেখছিলেন, এমন দৃশ্য দেখে তিনি হেসে দিলেন। তিনি বললেন, আমীরুল মুমিনীন, সে ফিতনাকে পছন্দ করে, অর্থাৎ সে সম্পদ ও সন্তানকে পছন্দ করে। যেমন আল্লাহ্ তা'আলার বাণী,
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَأَنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌۭ
আর জেনে রাখ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি অকল্যাদের সম্মুখীনকারী। বস্তুত আল্লাহ্র কাছে রয়েছে মহৎ সওয়াব। (সুরা আনফাল: ২৮) সে সত্যকে অপছন্দ করে, অর্থাৎ সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে। আল্লাহ্ তা'আলার বাণী, وَجَاءَتْ سَكْرَةُ الْمَوْتِ بِالْحَقِّ ذَلِكَ مَا كُنْتَ مِنْهُ تَحِيدُ , সরাসরি মৃত্যুযন্ত্রণা নিশ্চিতই আসবে, যা থেকে তুমি ঢালবাহানা করতে। (সুরা কাফ: ১৯)
সে অযথা সালাত পড়েছে, অর্থাৎ অযথা ছাড়া রাসূল ﷺ-এর ওপর দরূদ পড়েছে। দরূদ পাঠ করতে তো অযথা লাগে না। (সালাতের এক অর্থ নামায, অন্য অর্থ দরূদ।)
আকাশে আল্লাহ্র কাছে যা নেই জমিনে তার জন্য তা আছে, অর্থাৎ তার স্ত্রী, সন্তান আছে, কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলার স্ত্রী, সন্তান নেই। তিনি হচ্ছেন একক, স্ত্রী সন্তান তাঁর প্রয়োজন নেই, তিনি জন্মগ্রহণ করেননি, জন্ম দেনও না, তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।
এমন সমাধান শুনে ওমর رضي الله عنه বিস্মিত হয়ে হেসে দিলেন। তিনি আলী رضي الله عنه-এর দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। এরপর বললেন, ওই জাযবা খুবই খারাপ যেখান হাসাবের বাবা নেই। অর্থাৎ আলী رضي الله عنه নেই。

टिकाः
৫০৬ আজীমাতু আলী (রা), ২২৭, ১২৪ পৃ।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ক্ষমা প্রার্থনা করলেন আবু সুফিয়ান

📄 ক্ষমা প্রার্থনা করলেন আবু সুফিয়ান


কুরাইশরা রাসূল ﷺ-এর সাথে কৃত চুক্তি ছিড়ে ফেলে দিল। ফলে রাসূল ﷺ তাদের বিরুদ্ধে অভিযান করার জন্য প্রস্তুতি নিতে লাগলেন। খবরটি কোরাইশদের কানে বাতাসের বেগে পৌঁছে গেল। তখন তারা আবু সুফিয়ানকে রাসূল ﷺ-এর কাছে কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য ও নতুন চুক্তি সম্পাদন করার জন্য পাঠাল।
আবু সুফিয়ান মদিনায় এসে مسلمانوں কাছে গেল, তারা যাতে তাকে রাসূল ﷺ-এর সাথে চুক্তি সম্পাদন করতে সাহায্য করে, কিন্তু কেউ পাত্তা দিল না।
অবশেষে আবু সুফিয়ান নিরাশ হয়ে খালি হাতে মক্কা ফিরে এল।
তখন সে বলল, আমি আবু বকরের কাছে গেলাম, কিন্তু তাঁর থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি।
তারপর ওমরের কাছে গেলাম, তাকে আরো বেশি ভয়ঙ্কর হিসেবে দেখতে পেলাম। ওমর বলল, আমি তোমাদের জন্য রাসূল ﷺ-এর কাছে সুপারিশ করব! আল্লাহ্র শপথ! আমি যদি একটি পিঁপড়া ও পাই তবে তা দ্বারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।
এরপর আমি আলীর কাছে গেলাম। আমি তাঁকে সবার চেয়ে কোমল হিসেবে পেলাম。

টিকাঃ
৫০৭ হুলিয়াতুর রাসূল, ৩১২, ৩১০ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর খেলাফতের অধিক যোগ্য

📄 আবু বকর খেলাফতের অধিক যোগ্য


হযরত আবু বকর রাঃ মিম্বর উঁচিয়ে ওপর পেশ করে বললেন, আমি কোনো দিন বা কোনো রাত ক্ষমতার লোভ করিনি। আমি এর প্রতি আগ্রহীও না এবং কখনো আল্লাহ্র কাছে গোপনে বা প্রকাশ্যে তা চাইনি; বরং আমি ফেতনার ভয় করি। নেতৃত্বের মাঝে আমার প্রগাঢ়তা নেই, কিন্তু তবুও আমাকে এমন এক দায়িত্বের মাঝে পরিবে দেওয়া হয়েছে তাকওয়া ব্যতীত এর অন্য কোনো যোগ্যতা আমার নেই। আমি সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষকে আমার জায়গায় চাচ্ছি। তখন আলী রাঃ ও তালহা রাঃ বললেন, আমরা অন্য কোনো কারণে আবু বকর রাঃ-এর খেলাফতের ব্যাপারে রাগ করিনি। আমরা তো রাগ করেছি পরামর্শ করার সময় আমাদেরে জিজ্ঞেস করা হয়নি। আমরা তো রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরে আবু বকরকে ই কাজবের সবচেয়ে যোগ্য হিসেবে দেখছি। তিনি হিজরতে গুহায় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গী ছিলেন, তিনি কোরআনে বলা দুইজনের একজন ব্যক্তি ছিলেন, আমরা তাঁর মর্যাদা ও সম্মান সম্পর্কে অবগত আছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁকে নামাযের ইমামতি করার নির্দেশ দিয়েছেন。

টিকাঃ
৪৫০ আল হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৬৭৬ পৃ. ও বাইহাকী, ৮য় খণ্ড, ১৫২ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00