📄 আবু বকর রা. খেলাফত ফিরিয়ে দিলেন
আবু বকর رضي الله عنه-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার পর তিনি তিনদিন ঘরে বসে রইলেন। প্রতিদিন তিনি ঘর থেকে বের হয়ে রাসূল ﷺ-এর মিম্বরে এসে বলতেন, হে মানুষ সকল, আমি আমার বাইয়াত থেকে তোমাদেরকে মুক্ত করে দিয়েছি, সুতরাং তোমরা তোমাদের পছন্দের কারো কাছে বাইয়াত গ্রহণ করতে পার।
তখন আলী رضي الله عنه বললেন, আল্লাহ্র শপথ! না....... আমরা আপনাকে পরিবর্তনও করব না আর আপনার পদত্যাগও চাই না। হে আপনাকে পেছনে রাখবে অথচ রাসূল ﷺ আপনাকে সামনে রেখেছেন。
টিকাঃ
৫০০ আল কানয, ৭ম খণ্ড, ১৫৪, ৬৩৬ পৃ。
📄 খবীস ইহুদি
এক ইহুদি আলী رضي الله عنه-এর কাছে এসে তাঁকে প্রশ্ন করল, আল্লাহ্ তা'আলা কখন হয়েছেন?
এ কথা শুনার সাথে সাথে আলী رضي الله عنه-এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেছে। তিনি তাঁর কাঁধে হাত রেখে বললেন, যেটা থাকে না, সেটা হয়, তিনি তো ছিলেন, তিনি হওয়ার নয়, কীভাবে হবেন; বরং তিনি ছিলেন, তাঁর পূর্বে কোনো পূর্ব নেই, কোনো সীমানা নেই, তিনিই শেষ সীমানা, তিনি সবকিছুর সীমানার মূল।
তখন ইহুদি লোকটি থমমত খেয়ে বলল, হাসানের বাবা, তুমি ঠিক বলেছ, হাসানের বাবা, তুমি ঠিক বলেছ।
তারপর লোকটির চোখে অশ্রু ভরতে লাগল আর সে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, আর মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল। এ কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে সে আলী رضي الله عنه-এর কাছ থেকে ফিরে গেল।
প্রিয় পাঠক! বিষয়টি একটু জটিল। আল্লাহ্ তা'আলা হননি; বরং তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তার আগে কেউ নেই, কোনোকিছু নেই, তিনিই সব। এই বিশ্বাস হচ্ছে, তাওহীদ。
টিকাঃ
৫০১ তারিখুল খুলাফা, ২৪২ পৃ।
📄 পশমের চাদর
তীব্র শীতে আলী رضي الله عنه ব সে কাঁপছিলেন। তাঁর গায়ে একটিমাত্র পুরাতন পশমের কাপড় ছিল।
এ অবস্থায় দেখে এক ব্যক্তি বলল, আমীরুল মুমিনীন, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা এ সম্পদে আপনার ও আপনার পরিবারের জন্যে অংশ রেখেছেন। আপনি নিজের ব্যাপারে যা করার ইচ্ছা করেছেন, তা করছেন। আপনি কী লক্ষ করছেন না আপনার পার্শ্ব শীতপে কাঁপছে?
তখন আলী رضي الله عنه বললেন, আল্লাহ্র শপথ! আমি তোমাদের সম্পদ থেকে কোনোকিছুই গ্রহণ করব না। আর আমার গায়ের এ পশমের চাদরটি, এটি নিয়ে আমি মদিনা থেকে বের হয়েছি。
টিকাঃ
৫০২ হুলিয়াতুল আউলিয়া, ১ম খণ্ড, ৮৭ পৃ.
📄 আপনি সত্য বলেছেন আমীরুল মুমিনীন
আলী رضي الله عنه-এর কাছে এক মহিলা এসে অশ্রুসিক্ত নয়নে কাঁদতে কাঁদতে বলল, আমার ভাই ছয়শত দিরহাম রেখে মারা গেছে, কিন্তু তার মীরাস বণ্টন করে আমাকে মাত্র এক দিরহাম দেওয়া হয়েছে। এটা জ্ঞানের কাজ?
তখন আলী رضي الله عنه হেসে দিয়ে বললেন, সম্ভবত তোমার ভাই মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এগারোজন ভাই আর তোমাকে রেখে মারা গেছে।
মহিলা আশ্চর্য হয়ে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনার কথা তো ঠিক।
তাহলে মা ছয়ের এক পাবে, সে হিসেবে ১০০ দিরহাম পেল। স্ত্রী আটের এক পাবে, সে হিসেবে ৭৫ দিরহাম পেল। দুই কন্যা দুজনের দুই পাবে, সে হিসেবে ৪০০ দিরহাম। আর বাকি থাকল ২৫ দিরহাম, তা বারো ভাই ও এক বোনের মাঝে ভাগ হবে। এক পুরুষ দুই মহিলার সমান হিসেবে। সুতরাং দুই অংশ বারো ভাইয়ের চব্বিশ অংশ আর এক এক বোনের এক অংশ। মোট পঁচিশ অংশ। প্রতি অংশে এক দিরহাম। সুতরাং সে মহিলাটি এক দিরহাম পেয়েছে。
টিকাঃ
৫০৩ আজীমাতুল ইমাম আজী ১৫০ পৃ.