📄 আমাদেরকে দেবতা বানিয়ে দিন
হিলসা আর বিষহয়ভরা মনে এক ইঁদীটা টাটা করে তার হাত নাড়িয়ে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল, তোমরা ঝগড়া করার পর তোমাদের নবীকে দায়িত্ব করেছ।
সে কী বুঝাতে চেয়েছ তা বুঝতে পেরে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমরা আমাদের নবীকে অমান্য করে ঝগড়া করিনি; বরং তাঁকে মানার জন্যই ঝগড়া করেছি।
আর তোমাদের পা সাগর থেকে কূলে না উঠতেই তোমরা তোমাদের নবীকে বলেছ, আমাদেরকে দেবতা বানিয়ে দিন।
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’আলা ইহুদি জাতিকে সাগর পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে ফেরাউন থেকে মুক্তি দিলেন, কিন্তু কূলে উঠার পর তারা মূসা (আ)-কে বলল, আমাদেরকে একজন দেবতা বানিয়ে দিন যাকে আমরা ইবাদত করতে পারি।
তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, .......... ٱجْعَل لَّنَآ إِلَـٰهًا كَمَا لَهُمْ ءَالِهَةٌ
তাদের যেমন দেবতা আছে, আমাদের জন্য তেমন একটি দেবতা বানিয়ে দিন। (সূরা আ’রাফ : ১৩৮)
টিকাঃ
৪৩০ রওযুল আযহার, ১ই খণ্ড, ৩৭৯ পৃ.
📄 আমার চারটি কথা স্মরণ করে রাখ
ইবনে মুজলিম মুমিনীন আলী رضي الله عنه-কে আযাত করার পর তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয়ে গেলেন। তাঁর ছেলে হাসান رضي الله عنه কাঁদাতে কাঁদতে তাঁর কাছে আসলেন।
তখন আলী رضي الله عنه তাকে বললেন, হে আমার ছেলে, তুমি আমার চার, চারটি কথা স্মরণ করে রাখ।
হাসান رضي الله عنه বললেন, সে চার, চারটি কথা কী কী?
তিনি বললেন, সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে বিবেক, সবচেয়ে দারিদ্র্যতা হচ্ছে বিবেকহীন হওয়া, সবচেয়ে বর্বরতা হচ্ছে অহংকারিত্ব, সবচেয়ে সম্মান হচ্ছে উত্তম চরিত্র।
হাসান رضي الله عنه বললেন, বাকি চারটি কী কী?
তিনি বললেন, তুমি আহামক থেকে দূরে থাকবে, কেননা সে তোমার উপকার করতে গিয়ে ক্ষতি করে ফেলবে। তুমি মিথ্যাবাদী থেকে দূরে থাকবে, কেননা সে তোমার কাছে রাখার জিনিস দূরে নিয়ে যাবে আর দূরে রাখার জিনিস কাছে নিয়ে আসবে। তুমি কৃপণ থেকে দূরে থাকবে, কেননা সে তোমার প্রয়োজনীয় কাজে তোমার পাশে থাকবে না। তুমি পাপী থেকে দূরে থাকবে, কেননা সে মন্দ্য জিনিসের জন্য তোমাকে বিক্রি করে দিবে。
টিকাঃ
৪৯৯ তারিখুল খুলাফা, ২৪২ পৃ।
📄 আবু বকর রা. খেলাফত ফিরিয়ে দিলেন
আবু বকর رضي الله عنه-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার পর তিনি তিনদিন ঘরে বসে রইলেন। প্রতিদিন তিনি ঘর থেকে বের হয়ে রাসূল ﷺ-এর মিম্বরে এসে বলতেন, হে মানুষ সকল, আমি আমার বাইয়াত থেকে তোমাদেরকে মুক্ত করে দিয়েছি, সুতরাং তোমরা তোমাদের পছন্দের কারো কাছে বাইয়াত গ্রহণ করতে পার।
তখন আলী رضي الله عنه বললেন, আল্লাহ্র শপথ! না....... আমরা আপনাকে পরিবর্তনও করব না আর আপনার পদত্যাগও চাই না। হে আপনাকে পেছনে রাখবে অথচ রাসূল ﷺ আপনাকে সামনে রেখেছেন。
টিকাঃ
৫০০ আল কানয, ৭ম খণ্ড, ১৫৪, ৬৩৬ পৃ。
📄 খবীস ইহুদি
এক ইহুদি আলী رضي الله عنه-এর কাছে এসে তাঁকে প্রশ্ন করল, আল্লাহ্ তা'আলা কখন হয়েছেন?
এ কথা শুনার সাথে সাথে আলী رضي الله عنه-এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেছে। তিনি তাঁর কাঁধে হাত রেখে বললেন, যেটা থাকে না, সেটা হয়, তিনি তো ছিলেন, তিনি হওয়ার নয়, কীভাবে হবেন; বরং তিনি ছিলেন, তাঁর পূর্বে কোনো পূর্ব নেই, কোনো সীমানা নেই, তিনিই শেষ সীমানা, তিনি সবকিছুর সীমানার মূল।
তখন ইহুদি লোকটি থমমত খেয়ে বলল, হাসানের বাবা, তুমি ঠিক বলেছ, হাসানের বাবা, তুমি ঠিক বলেছ।
তারপর লোকটির চোখে অশ্রু ভরতে লাগল আর সে বলল, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, আর মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল। এ কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে সে আলী رضي الله عنه-এর কাছ থেকে ফিরে গেল।
প্রিয় পাঠক! বিষয়টি একটু জটিল। আল্লাহ্ তা'আলা হননি; বরং তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন। তার আগে কেউ নেই, কোনোকিছু নেই, তিনিই সব। এই বিশ্বাস হচ্ছে, তাওহীদ。
টিকাঃ
৫০১ তারিখুল খুলাফা, ২৪২ পৃ।