📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মিথ্যার সাক্ষ্যদাতা

📄 মিথ্যার সাক্ষ্যদাতা


আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর সামনে দুই ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে এসেছে। তারা দুইজন তাঁর কাছে ওই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে সাক্ষ্য দিচ্ছে, কিন্তু চোর দাবি করছে সে চুরি করেনি।
তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু ভালোভাবে ওই সাক্ষ্যদাতার দিকে তাকালেন। তার চোখে স্পষ্ট হয়ে গেল তারা দুইজন মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছে।
তখন তিনি তাদেরকে মিথ্যা সাক্ষ্য পরিমাপ বর্ণনা করে শুনালেন এবং এর শর্ত সম্পর্কে অবগত করলেন।
তারপর তিনি তাদেরকে ফিরে গিয়ে পরে আসতে বললেন, কিন্তু তিনি তাদেরকে পরে ডেকে আর পেলেন না। তখন তিনি ওই লোকটিকে ছেড়ে দিলেন。

টিকাঃ
৪২৮ তারীখুল খুলাফা, ২৬৯ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন

📄 আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন


একদিন ছিনকায় এক লোক মোটা কাপড় পরিহিত অবস্থায় আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-কে এসে তাঁর সামনে বসল।
তারপর সে স্পর্ধার সাথে বলল, হে সর্দার, আপনি আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন।
তিনি বললেন, যেটা অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ, তুমি সেখানে হাঁটতে পারবে না।
লোকটি আবার বলল, আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন।
তিনি বললেন, বিশাল সাগর, তুমি তাতে সাঁতরাতে পারবে না।
লোকটি আবার বলল, আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন।
তিনি বললেন, আল্লাহ্র গোপন রাখা বিষয়, তুমি তা প্রকাশ করতে যেয়ো না।
লোকটি আবার বলল, আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন।
তিনি বললেন, হে প্রশ্নকারী, আল্লাহ্ কি তুমি যা চেয়েছ তা সৃষ্টি করেছেন না তিনি যা চেয়েছেন তা সৃষ্টি করেছেন?
লোকটি বলল; বরং তিনি যা চেয়েছেন তাই সৃষ্টি করেছেন।
তিনি বললেন, সুতরাং আল্লাহ্ যা চেয়েছেন তা তুমি করতে থাক。

টিকাঃ
৪২৯ তারীখুল খুলাফা, ২৯৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমাদেরকে দেবতা বানিয়ে দিন

📄 আমাদেরকে দেবতা বানিয়ে দিন


হিলসা আর বিষহয়ভরা মনে এক ইঁদীটা টাটা করে তার হাত নাড়িয়ে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল, তোমরা ঝগড়া করার পর তোমাদের নবীকে দায়িত্ব করেছ।
সে কী বুঝাতে চেয়েছ তা বুঝতে পেরে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমরা আমাদের নবীকে অমান্য করে ঝগড়া করিনি; বরং তাঁকে মানার জন্যই ঝগড়া করেছি।
আর তোমাদের পা সাগর থেকে কূলে না উঠতেই তোমরা তোমাদের নবীকে বলেছ, আমাদেরকে দেবতা বানিয়ে দিন।
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’আলা ইহুদি জাতিকে সাগর পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে ফেরাউন থেকে মুক্তি দিলেন, কিন্তু কূলে উঠার পর তারা মূসা (আ)-কে বলল, আমাদেরকে একজন দেবতা বানিয়ে দিন যাকে আমরা ইবাদত করতে পারি।
তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, .......... ٱجْعَل لَّنَآ إِلَـٰهًا كَمَا لَهُمْ ءَالِهَةٌ
তাদের যেমন দেবতা আছে, আমাদের জন্য তেমন একটি দেবতা বানিয়ে দিন। (সূরা আ’রাফ : ১৩৮)

টিকাঃ
৪৩০ রওযুল আযহার, ১ই খণ্ড, ৩৭৯ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমার চারটি কথা স্মরণ করে রাখ

📄 আমার চারটি কথা স্মরণ করে রাখ


ইবনে মুজলিম মুমিনীন আলী رضي الله عنه-কে আযাত করার পর তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত হয়ে গেলেন। তাঁর ছেলে হাসান رضي الله عنه কাঁদাতে কাঁদতে তাঁর কাছে আসলেন।
তখন আলী رضي الله عنه তাকে বললেন, হে আমার ছেলে, তুমি আমার চার, চারটি কথা স্মরণ করে রাখ।
হাসান رضي الله عنه বললেন, সে চার, চারটি কথা কী কী?
তিনি বললেন, সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে বিবেক, সবচেয়ে দারিদ্র্যতা হচ্ছে বিবেকহীন হওয়া, সবচেয়ে বর্বরতা হচ্ছে অহংকারিত্ব, সবচেয়ে সম্মান হচ্ছে উত্তম চরিত্র।
হাসান رضي الله عنه বললেন, বাকি চারটি কী কী?
তিনি বললেন, তুমি আহামক থেকে দূরে থাকবে, কেননা সে তোমার উপকার করতে গিয়ে ক্ষতি করে ফেলবে। তুমি মিথ্যাবাদী থেকে দূরে থাকবে, কেননা সে তোমার কাছে রাখার জিনিস দূরে নিয়ে যাবে আর দূরে রাখার জিনিস কাছে নিয়ে আসবে। তুমি কৃপণ থেকে দূরে থাকবে, কেননা সে তোমার প্রয়োজনীয় কাজে তোমার পাশে থাকবে না। তুমি পাপী থেকে দূরে থাকবে, কেননা সে মন্দ্য জিনিসের জন্য তোমাকে বিক্রি করে দিবে。

টিকাঃ
৪৯৯ তারিখুল খুলাফা, ২৪২ পৃ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00