📄 শান্তি, যুদ্ধ নয়
মক্কা বিজয়ের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালিদ বিন ওয়ালিদ রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বিভিন্ন গোত্রের কাছে দ্বীনের পথে আহ্বানকারী হিসেবে প্রেরণ করলেন, যোদ্ধা হিসেবে নয়।
খালিদ রদিয়াল্লাহু আনহু যখন বনু খুজাইমার কাছে গেলেন তখন এক লোক মানুষকে যুদ্ধের দিকে আহ্বান করতে লাগল। খালিদ রদিয়াল্লাহু আনহু তার দিকে ছুটে গিয়ে তাকে হত্যা করলেন।
এ সংবাদটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কানে গেলে তিনি খুব রেগে গেলেন এবং খালিদ যা করেছে তার জন্যে আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা চাইলেন। তারপর তিনি আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-কে শান্তির দূত হিসেবে विभिन्न गोত্রে পাঠালেন।
তিনি তাকে বললেন, আলী, তুমি ওই গোত্রের কাছে গিয়ে তাদের কর্ম দেখবে এবং তাদের জাহিলী (খারাপ) কাজগুলো তোমার পায়ের নিচে রাখবে。
টিকাঃ
৪২৭ তারীখুল খুলাফা, ২৯১ পৃ.
📄 মিথ্যার সাক্ষ্যদাতা
আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর সামনে দুই ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে এসেছে। তারা দুইজন তাঁর কাছে ওই ব্যক্তি চুরি করেছে বলে সাক্ষ্য দিচ্ছে, কিন্তু চোর দাবি করছে সে চুরি করেনি।
তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু ভালোভাবে ওই সাক্ষ্যদাতার দিকে তাকালেন। তার চোখে স্পষ্ট হয়ে গেল তারা দুইজন মিথ্যা সাক্ষ্য দিচ্ছে।
তখন তিনি তাদেরকে মিথ্যা সাক্ষ্য পরিমাপ বর্ণনা করে শুনালেন এবং এর শর্ত সম্পর্কে অবগত করলেন।
তারপর তিনি তাদেরকে ফিরে গিয়ে পরে আসতে বললেন, কিন্তু তিনি তাদেরকে পরে ডেকে আর পেলেন না। তখন তিনি ওই লোকটিকে ছেড়ে দিলেন。
টিকাঃ
৪২৮ তারীখুল খুলাফা, ২৬৯ পৃ.
📄 আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন
একদিন ছিনকায় এক লোক মোটা কাপড় পরিহিত অবস্থায় আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-কে এসে তাঁর সামনে বসল।
তারপর সে স্পর্ধার সাথে বলল, হে সর্দার, আপনি আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন।
তিনি বললেন, যেটা অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ, তুমি সেখানে হাঁটতে পারবে না।
লোকটি আবার বলল, আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন।
তিনি বললেন, বিশাল সাগর, তুমি তাতে সাঁতরাতে পারবে না।
লোকটি আবার বলল, আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন।
তিনি বললেন, আল্লাহ্র গোপন রাখা বিষয়, তুমি তা প্রকাশ করতে যেয়ো না।
লোকটি আবার বলল, আমাকে তাকদীর সম্পর্কে বলুন।
তিনি বললেন, হে প্রশ্নকারী, আল্লাহ্ কি তুমি যা চেয়েছ তা সৃষ্টি করেছেন না তিনি যা চেয়েছেন তা সৃষ্টি করেছেন?
লোকটি বলল; বরং তিনি যা চেয়েছেন তাই সৃষ্টি করেছেন।
তিনি বললেন, সুতরাং আল্লাহ্ যা চেয়েছেন তা তুমি করতে থাক。
টিকাঃ
৪২৯ তারীখুল খুলাফা, ২৯৮ পৃ.
📄 আমাদেরকে দেবতা বানিয়ে দিন
হিলসা আর বিষহয়ভরা মনে এক ইঁদীটা টাটা করে তার হাত নাড়িয়ে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল, তোমরা ঝগড়া করার পর তোমাদের নবীকে দায়িত্ব করেছ।
সে কী বুঝাতে চেয়েছ তা বুঝতে পেরে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমরা আমাদের নবীকে অমান্য করে ঝগড়া করিনি; বরং তাঁকে মানার জন্যই ঝগড়া করেছি।
আর তোমাদের পা সাগর থেকে কূলে না উঠতেই তোমরা তোমাদের নবীকে বলেছ, আমাদেরকে দেবতা বানিয়ে দিন।
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’আলা ইহুদি জাতিকে সাগর পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়ে ফেরাউন থেকে মুক্তি দিলেন, কিন্তু কূলে উঠার পর তারা মূসা (আ)-কে বলল, আমাদেরকে একজন দেবতা বানিয়ে দিন যাকে আমরা ইবাদত করতে পারি।
তাদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, .......... ٱجْعَل لَّنَآ إِلَـٰهًا كَمَا لَهُمْ ءَالِهَةٌ
তাদের যেমন দেবতা আছে, আমাদের জন্য তেমন একটি দেবতা বানিয়ে দিন। (সূরা আ’রাফ : ১৩৮)
টিকাঃ
৪৩০ রওযুল আযহার, ১ই খণ্ড, ৩৭৯ পৃ.