📄 আইন শুধু আল্লাহর
বিশিষ্ট আলেমদের মতো করে জা’দা বিন হুবাইরা আমীরুল মুমিনীন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে বসলেন।
তিনি তাঁকে বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে দুইজন লোক এসেছে। তাদের একজন আপনাকে তার জান, মাল ও পরিবার থেকেও বেশি ভালোবাসে। আর অপরজন, সে যদি পারত তবে আপনাকে জবাই করে দিত। অথচ আপনি ওই লোকের মধ্যে বিচার করতে গিয়ে তার পক্ষে রায় দিলেন, যে আপনাকে ঘৃণা করে। আর ওই ব্যক্তির বিপক্ষে রায় দিলেন, যে আপনাকে ভালোবাসে।
তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, বিচার যদি আমার মতে হতো তবে আমি আমার পছন্দমতো করতাম, কিন্তু বিচার তো শুধু আল্লাহ তা’আলার আইন চলবে。
টিকাঃ
৪২০ আল কাযম, ৫২ খণ্ড, ৪৭৪ পৃঃ。
📄 মাওয়ালী মহিলা ও আরবী মহিলা
এক মাওয়ালী মহিলা ও এক আরবী মহিলা আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে আসল। তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু তাদের উভয়কে এক মিছকাল খনিজ ও ছাব্বিশ দিরহাম করে দিলেন। মাওয়ালী মহিলা খুশি হয়ে তার অংশ নিয়ে চলে গেল, কিন্তু আরবী মহিলা তার অংশ গ্রহণ করল না।
সে তিরস্কার করে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি একে যা দিয়েছেন আমাকেও তা দিলেন! অথচ আমি আরবী মহিলা আর সে মাওয়ালী মহিলা।
তাঁর কথার জবাবে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি আল্লাহর কিতাব দেখে কোথাও ইসমাইল (আ) ও ইসহাক (আ)-এর সন্তানদের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি。
টিকাঃ
৪২১ বায়হাকী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩৫৫, ৩৫৬ পৃঃ。
📄 প্রহরী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট
মেয়াদ উত্তীর্ণ একটি দেয়ালের নিচে বসে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু দুই লোকের মাঝে বিচার করছিলেন।
তখন এক লোক বলল, হে সর্দার, কিছুক্ষণের মধ্যে দেয়ালটি ভেঙে আপনার উপর পড়বে।
তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু পূর্ব ঈমানের সাথে বললেন, প্রহরী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। এই বলে তিনি সেখানে ওই দুই লোকের বিচার করতে লাগলেন।
আলী রদিয়াল্লাহু আনহু তাদের মাঝে বিচার শেষ করে ওই স্থান থেকে উঠে রওনা দেওয়ার পর দেয়ালটি ভেঙে পড়ল。
টিকাঃ
৪২২ তারীখুল কুলাফা, ২৯৪ পৃঃ.
📄 চোর দাস
আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর সামনে শিকলে বন্দি এক দাস। চুরি করার অপরাধে তাকে বন্দি করা হয়েছে।
আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি কি চুরি করেছ?
দাসটি দু'বারে তরা অস্বস্তিতে বলল, হ্যাঁ, আমীরুল মুমিনীন।
চুরির শাস্তিস্বরূপ আলী রদিয়াল্লাহু আনহু তার হাত কেটে দিলেন। হাত কাটার পর যখন গোলামটি ফিরে যেতে লাগল, পথে তার সাথে সালমান ফার্সী রদিয়াল্লাহু আনহু ও ইবনে কওয়্যার সাথে দেখা হলো।
তখন ইবনে কওয়্যার টাট্টু করে বলল, কে তোমার হাত কেটেছে?
দাসটি বলল, আমীরুল মুমিনীন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু。
তখন ইবনে কওয়্যার টাট্টু করে বলল, সে তোমার হাত কেটেছে আর তুমি তার প্রশংসা করছ! (অর্থাৎ তাঁকে আমীরুল মুমিনীন বলে সম্বোধন করছ!)
দাসটি দৃঢ়তার সাথে বলল, আমি কেন তাঁকে ভালোবাসব না আর তাঁর প্রশংসা করব না, তিনি তো ন্যায়বিচারে আমার হাত কেটেছেন এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন。
টিকাঃ
৪২৩ মু'জামুল ক্বারী সাহাবা, ৯২ পৃঃ。