📄 আবু বকর রা. এগিয়ে
এক লোক আলী -এর কাছে এসে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আনসার ও মুহাজিরদের কী হলো, তারা কেন আবু বকরকে অধিক মর্যাদা দিচ্ছে। অথচ আপনি মর্যাদার দিক দিয়ে তাঁর চেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী, তাঁর আগে ইসলাম গ্রহণকারী, সবদিক দিয়ে তাঁর থেকে অগ্রগামী। লোকটির কথা দ্বারা আলী বুঝতে পারলেন সে খারাপ উদ্দেশ্যে এমন জঘন্য কথা বলছে। তখন তিনি তাকে বললেন, যদি তুমি কোরাইশী হয়ে থাক, তবে আমি মনে করব, তুমি আত্মত্যাগী। লোকটি মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার ধ্বংস হতো!, যদি মুমিনরা আল্লাহর আশ্রয়ে না থাকত; তবে আমি তোমাকে হত্যা করতাম। আবু বকর চার কাজে আমার চেয়ে অগ্রগামী, নেতৃত্ব, হিজরত, হেবা গ্রহণ, সালাম প্রদানে। তোমার ধ্বংস, আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষকে নিন্দা করেছেন অথচ শুধু তাঁর প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
إِن لَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ ٱللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ ثَانِىَ ٱثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِى ٱلْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَـٰحِبِهِۦ لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا তিনি তোমারা তাকে (রাসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ তাঁর সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু'জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। (সূরা তাওবা : ৪০)。
টিকাঃ
৪১৮ মুসতাদরাকুল হাকেম, ৪২ খণ্ড, ২৫৫ ও ৪৪৭ পৃঃ。
📄 আলীকে নিয়ে ভালো ব্যতীত কোনো কথা বলবে না
মসজিদে নববীতে এক লোক আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু-এর পাশে বসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিল। কথা বলতে গিয়ে সে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর বিরুদ্ধে কিছু কথা বলে ফেলল।
তখন ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু খুব রেগে গেলেন। তিনি লোকটিকে ধমক দিয়ে বললেন, তুমি কী এ কবরের অধিবাসীকে চিন?
লোকটি হেসে বলল, হ্যাঁ, তিনি তো নবী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আর আলী, যাঁর ব্যাপারে তুমি কথা বলছিলে। সে হচ্ছে আলী বিন আবু তালিব বিন আব্দুল মুত্তালিব। যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই। সুতরাং তুমি তাকে নিয়ে ভালো ব্যতীত কোনো কথা বলবে না। কেননা তা এ কবরের অধিবাসীকে কষ্ট দিবে (অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট দিবে)。
টিকাঃ
৪১৯ আল কাযম, ৫২ খণ্ড, ৪৬ পৃঃ。
📄 আইন শুধু আল্লাহর
বিশিষ্ট আলেমদের মতো করে জা’দা বিন হুবাইরা আমীরুল মুমিনীন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে বসলেন।
তিনি তাঁকে বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে দুইজন লোক এসেছে। তাদের একজন আপনাকে তার জান, মাল ও পরিবার থেকেও বেশি ভালোবাসে। আর অপরজন, সে যদি পারত তবে আপনাকে জবাই করে দিত। অথচ আপনি ওই লোকের মধ্যে বিচার করতে গিয়ে তার পক্ষে রায় দিলেন, যে আপনাকে ঘৃণা করে। আর ওই ব্যক্তির বিপক্ষে রায় দিলেন, যে আপনাকে ভালোবাসে।
তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, বিচার যদি আমার মতে হতো তবে আমি আমার পছন্দমতো করতাম, কিন্তু বিচার তো শুধু আল্লাহ তা’আলার আইন চলবে。
টিকাঃ
৪২০ আল কাযম, ৫২ খণ্ড, ৪৭৪ পৃঃ。
📄 মাওয়ালী মহিলা ও আরবী মহিলা
এক মাওয়ালী মহিলা ও এক আরবী মহিলা আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে আসল। তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু তাদের উভয়কে এক মিছকাল খনিজ ও ছাব্বিশ দিরহাম করে দিলেন। মাওয়ালী মহিলা খুশি হয়ে তার অংশ নিয়ে চলে গেল, কিন্তু আরবী মহিলা তার অংশ গ্রহণ করল না।
সে তিরস্কার করে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি একে যা দিয়েছেন আমাকেও তা দিলেন! অথচ আমি আরবী মহিলা আর সে মাওয়ালী মহিলা।
তাঁর কথার জবাবে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি আল্লাহর কিতাব দেখে কোথাও ইসমাইল (আ) ও ইসহাক (আ)-এর সন্তানদের মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাইনি。
টিকাঃ
৪২১ বায়হাকী শরীফ, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৩৫৫, ৩৫৬ পৃঃ。