📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বিক্রেতা ও দাসী

📄 বিক্রেতা ও দাসী


একদিন আবু মাতার নামে এক লোক নামায শেষে মসজিদ থেকে বের হলো। এমন সময় পিছন থেকে একটি আওয়াজ তার কানে ভেসে এল যে, তোমার লুঙ্গি (প্যান্ট) উপরে ওঠাও, কেননা তা তোমার প্রতি অধিক ভয়ের নিদর্শন, তোমার কাপড়কে ময়লা থেকে রক্ষাকারী, আর মাথায় কিছু রাখ যদি তুমি মুসলমান হয়ে থাক। অর্থাৎ পাগড়ী বা টুপি দ্বারা মাথা ঢেকে রাখ। তখন লোকটি ফিরে তাকিয়ে দেখল তিনি হচ্ছেন আলী । তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিল। তিনি ইঁটটুকে ইঁটটুকে উঠিয়ে বাজারে গেলেন। তিনি সেখানে গিয়ে বললেন, তোমরা বেচাকেনা কর তবে বেচাকেনা করতে গিয়ে বারবার কসম খেয়ো না। কেননা কসমের দ্বারা পণ্যকে শেষ করে দেয়, বরকতও দূর করে দেয়। এরপর তিনি এক খেজুর বিক্রেতার কাছে দেখলেন সেখানে একটি দাসী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ো।
সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, আমি এই খেচর থেকে এক দিরহাম দিয়ে খেজুর ক্রয় করেছিলাম, কিন্তু আমার মালিক সে খেজুর নিতে অস্বীকৃতি জানানো, তিনি আমাকে দিরহাম ফিরিয়ে দিতেও বললেন। এ ঘটনা শুনে আলী  বিক্রেতাকে বললেন, তুমি খেজুর নিয়ে তাকে দিরহাম ফিরিয়ে দাও। কেননা দাসীটি তো কাজে বাধ্য, কিন্তু বিক্রেতা দিরহাম ফিরিয়ে দিতে চাইল না; বরং খুব অহংকার ও ঔদ্ধত্য পোষণ করল। আলী -এর সাথে সে উচু আওয়াজে কথা বলতে লাগল। তখন আবু মাতার বিক্রেতাকে বলল, তুমি কী জান, যিনি তোমার সাথে কথা বলছেন তিনি কে? সে বলল, না......... কে আর হবে? আবু মাতার বলল, তিনি হচ্ছেন আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব। এ কথা শুনে পালকের ভেতরে বিক্রেতার চেহারাটা উড়ি ছড়িয়ে পড়ল। সে সাথে সাথে দাসীটি থেকে খেজুর নিয়ে তার দিরহাম ফিরিয়ে দিল। এরপর সে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমি চাই আপনি আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকুন। তখন আলী  বললেন, আমি তোমার ওপর ততক্ষণ সন্তুষ্ট হব না যতক্ষণ না তুমি ক্রেতাদের অধিকার ভালোভাবে আদায় কর না。

টিকাঃ
৯৪০ মুসনাদু কাসফুল মাদ্বানেহ, ৫৯ খণ্ড, ৫২৭ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আবু বকর রা. এগিয়ে

📄 আবু বকর রা. এগিয়ে


এক লোক আলী -এর কাছে এসে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আনসার ও মুহাজিরদের কী হলো, তারা কেন আবু বকরকে অধিক মর্যাদা দিচ্ছে। অথচ আপনি মর্যাদার দিক দিয়ে তাঁর চেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী, তাঁর আগে ইসলাম গ্রহণকারী, সবদিক দিয়ে তাঁর থেকে অগ্রগামী। লোকটির কথা দ্বারা আলী  বুঝতে পারলেন সে খারাপ উদ্দেশ্যে এমন জঘন্য কথা বলছে। তখন তিনি তাকে বললেন, যদি তুমি কোরাইশী হয়ে থাক, তবে আমি মনে করব, তুমি আত্মত্যাগী। লোকটি মাথা নেড়ে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমার ধ্বংস হতো!, যদি মুমিনরা আল্লাহর আশ্রয়ে না থাকত; তবে আমি তোমাকে হত্যা করতাম। আবু বকর চার কাজে আমার চেয়ে অগ্রগামী, নেতৃত্ব, হিজরত, হেবা গ্রহণ, সালাম প্রদানে। তোমার ধ্বংস, আল্লাহ তা'আলা সকল মানুষকে নিন্দা করেছেন অথচ শুধু তাঁর প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন,
إِن لَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ ٱللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ ثَانِىَ ٱثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِى ٱلْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَـٰحِبِهِۦ لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا তিনি তোমারা তাকে (রাসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ তাঁর সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু'জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। (সূরা তাওবা : ৪০)。

টিকাঃ
৪১৮ মুসতাদরাকুল হাকেম, ৪২ খণ্ড, ২৫৫ ও ৪৪৭ পৃঃ。

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আলীকে নিয়ে ভালো ব্যতীত কোনো কথা বলবে না

📄 আলীকে নিয়ে ভালো ব্যতীত কোনো কথা বলবে না


মসজিদে নববীতে এক লোক আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু-এর পাশে বসে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছিল। কথা বলতে গিয়ে সে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর বিরুদ্ধে কিছু কথা বলে ফেলল।
তখন ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু খুব রেগে গেলেন। তিনি লোকটিকে ধমক দিয়ে বললেন, তুমি কী এ কবরের অধিবাসীকে চিন?
লোকটি হেসে বলল, হ্যাঁ, তিনি তো নবী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আর আলী, যাঁর ব্যাপারে তুমি কথা বলছিলে। সে হচ্ছে আলী বিন আবু তালিব বিন আব্দুল মুত্তালিব। যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাতো ভাই। সুতরাং তুমি তাকে নিয়ে ভালো ব্যতীত কোনো কথা বলবে না। কেননা তা এ কবরের অধিবাসীকে কষ্ট দিবে (অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট দিবে)。

টিকাঃ
৪১৯ আল কাযম, ৫২ খণ্ড, ৪৬ পৃঃ。

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আইন শুধু আল্লাহর

📄 আইন শুধু আল্লাহর


বিশিষ্ট আলেমদের মতো করে জা’দা বিন হুবাইরা আমীরুল মুমিনীন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে বসলেন।
তিনি তাঁকে বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনার কাছে দুইজন লোক এসেছে। তাদের একজন আপনাকে তার জান, মাল ও পরিবার থেকেও বেশি ভালোবাসে। আর অপরজন, সে যদি পারত তবে আপনাকে জবাই করে দিত। অথচ আপনি ওই লোকের মধ্যে বিচার করতে গিয়ে তার পক্ষে রায় দিলেন, যে আপনাকে ঘৃণা করে। আর ওই ব্যক্তির বিপক্ষে রায় দিলেন, যে আপনাকে ভালোবাসে।
তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, বিচার যদি আমার মতে হতো তবে আমি আমার পছন্দমতো করতাম, কিন্তু বিচার তো শুধু আল্লাহ তা’আলার আইন চলবে。

টিকাঃ
৪২০ আল কাযম, ৫২ খণ্ড, ৪৭৪ পৃঃ。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00