📄 খুলাফায়ে রাশেদীন
জান ও দ্বীনদারিটা অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিনিধি দলগুলো আলী ﷺ-এর কাছে আসতে লাগল। তাদের সবার সামনে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তি ছিল, যার মাথায় সাদা পাগড়ি বাঁধা ছিল। সে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমরা আপনাকে বলতে এসেছি, আপনি সুতরাং বলেছেন, "হে আল্লাহ, আপনি আমাদের সংশোধন করুন যেমন খুলাফায়ে রাশেদীনকে সংশোধন করেছেন।" খুলাফায়ে রাশেদীন কারা?
এ প্রশ্ন তাঁর চোখ অশ্রুতে ভরে দিল। তিনি বললেন, তাঁরা হচ্ছেন আমার বন্ধু আবু বকর ও ওমর । যারা হেদায়েতের ইমাম ও শাম্বুল ইসলাম। রাসূল ﷺ-এর পর যারা অনুকারী। যে তাঁদের অনুসরণ করবে সে মুক্তি পেয়ে যাবে, যে তাঁদের পথচিহ্ন অনুসরণ করবে সে সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে। আর যে তাঁদেরকে আঁকড়ে ধরবে সে আল্লাহর দলের অন্তর্গত。
টিকাঃ
৯৩৮ তারিখুল খুলাফা ২৭২ পৃঃ।
📄 সাতজন আমীর
আমীরুল মুমিনীন আলী ﷺ-এর কাছে আসবাখান এলাকা থেকে অনেক সম্পদ এল। তিনি তা সাত ভাগ করলেন। সে সম্পদের ভেতরে একটি কুটিরা পাওয়া গেল। আলী ﷺ সে রুটিকেও সাত ভাগ করে প্রত্যেক ভাগে এক টুকরা করে রাখলেন। তারপর তিনি সাতজন আমীরকে ডাকলেন। তিনি তাদের মধ্যে লটারি দিলেন। লটারির মাধ্যমে কে কার পরে অংশগ্রহণ করবে তা নির্ধারণ করলেন。
টিকাঃ
৯৩৭ আল ইস্তি'জাব, ৩য় খণ্ড, ৪১৯ পৃ.। ফদ্রা----২০
📄 আবু বকর রা.-এর জন্যে আলী রা.-এর পরামর্শ
আবু বকর জিহাদের ইচ্ছায় বাহনে চড়ে বের হলেন, কিন্তু আলী তাঁর বাহনের লাগাম ধরে বললেন, আপনি কোথায় যাচ্ছেন? আমি আপনাকে সে কথাই বলব যা আমরা রাসূল ﷺ-কে বলতাম, আপনি আপনার তরবারিকে কোষবদ্ধ করুন, আপনি নিজে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আমাদেরকে ডুবে রাখবেন না এবং মদীনায় ফিরে যান। আল্লাহর শপথ! আপনি যদি আপনার নিজের ব্যাপারে আমাদেরকে শক্তিও রাখেন তাহলে ইসলামের কোনো শৃঙ্খলা থাকবে না। তখন আবু বকর বললেন, না, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাদেরকে শক্তিও করব না; বরং তোমাদেরকে সান্ত্বনা দিব। এরপর আবু বকর ফুল কিসাও ও ফুল কিসাকে গিয়ে যুদ্ধ করেন এবং মুনাফিকদেরকে হত্যা করে বিজয়ী হয়ে ফিরে আসেন। এ যুদ্ধের পর থেকে তিনি আলী -এর নির্দেশমতো মদীনায় অবস্থান নিলেন。
টিকাঃ
৯৩৯ তারিখুল খুলাফা, ২৮৮ পৃ.
📄 বিক্রেতা ও দাসী
একদিন আবু মাতার নামে এক লোক নামায শেষে মসজিদ থেকে বের হলো। এমন সময় পিছন থেকে একটি আওয়াজ তার কানে ভেসে এল যে, তোমার লুঙ্গি (প্যান্ট) উপরে ওঠাও, কেননা তা তোমার প্রতি অধিক ভয়ের নিদর্শন, তোমার কাপড়কে ময়লা থেকে রক্ষাকারী, আর মাথায় কিছু রাখ যদি তুমি মুসলমান হয়ে থাক। অর্থাৎ পাগড়ী বা টুপি দ্বারা মাথা ঢেকে রাখ। তখন লোকটি ফিরে তাকিয়ে দেখল তিনি হচ্ছেন আলী । তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিল। তিনি ইঁটটুকে ইঁটটুকে উঠিয়ে বাজারে গেলেন। তিনি সেখানে গিয়ে বললেন, তোমরা বেচাকেনা কর তবে বেচাকেনা করতে গিয়ে বারবার কসম খেয়ো না। কেননা কসমের দ্বারা পণ্যকে শেষ করে দেয়, বরকতও দূর করে দেয়। এরপর তিনি এক খেজুর বিক্রেতার কাছে দেখলেন সেখানে একটি দাসী দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ো।
সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, আমি এই খেচর থেকে এক দিরহাম দিয়ে খেজুর ক্রয় করেছিলাম, কিন্তু আমার মালিক সে খেজুর নিতে অস্বীকৃতি জানানো, তিনি আমাকে দিরহাম ফিরিয়ে দিতেও বললেন। এ ঘটনা শুনে আলী বিক্রেতাকে বললেন, তুমি খেজুর নিয়ে তাকে দিরহাম ফিরিয়ে দাও। কেননা দাসীটি তো কাজে বাধ্য, কিন্তু বিক্রেতা দিরহাম ফিরিয়ে দিতে চাইল না; বরং খুব অহংকার ও ঔদ্ধত্য পোষণ করল। আলী -এর সাথে সে উচু আওয়াজে কথা বলতে লাগল। তখন আবু মাতার বিক্রেতাকে বলল, তুমি কী জান, যিনি তোমার সাথে কথা বলছেন তিনি কে? সে বলল, না......... কে আর হবে? আবু মাতার বলল, তিনি হচ্ছেন আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব। এ কথা শুনে পালকের ভেতরে বিক্রেতার চেহারাটা উড়ি ছড়িয়ে পড়ল। সে সাথে সাথে দাসীটি থেকে খেজুর নিয়ে তার দিরহাম ফিরিয়ে দিল। এরপর সে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আমি চাই আপনি আমার ওপর সন্তুষ্ট থাকুন। তখন আলী বললেন, আমি তোমার ওপর ততক্ষণ সন্তুষ্ট হব না যতক্ষণ না তুমি ক্রেতাদের অধিকার ভালোভাবে আদায় কর না。
টিকাঃ
৯৪০ মুসনাদু কাসফুল মাদ্বানেহ, ৫৯ খণ্ড, ৫২৭ পৃ.