📄 আলী রা.-এর মর্যাদা
সা’দ বিন আবু ওয়াক্কাস রা. দুই পায়ের উপর কাপড় ছড়িয়ে বসলেন। লোকেরা তাঁর চারদিকে ঘিরে বসলেন। তাঁরা তখন আলী রা. ও আহলে বাইতদের নিয়ে আলোচনা করছিলেন। আলোচনার এক পর্যায়ে সা’দ রা. বললেন, জানো রাসূল রা.-এর তিনটি কথা এমন যা আমার কাছে হুমুকুন নিয়ামত থেকেও উত্তম। (হুমুকুন নিয়ামত অর্থ, লাল উট, যা আরবের কাছে অনেক প্রিয় ছিল, তাই তারা কোনো উত্তম জিনিসের উদাহরণ দিতে গিয়ে তা বলতেন।
রাসূল ﷺ তাঁকে বলেছিলেন, তুমি কী এতে সন্তুষ্ট নও যে, মুসার পক্ষ থেকে হারুন যে মর্যাদায় ছিল, তুমি আমার পক্ষ থেকে সে মর্যাদায় আছ, তবে আমার পরে আর কেউ নবী হবেন না। তিনি তাঁকে উদ্দেশ্য করে আবারবারে তিন বলেছিনে, আমি অবশ্যই পতাকা একজন এমনজনকে হাতে দিবা, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে আর তাকেও আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালোবাসেন। তখন পতাকা নেওয়ার জন্য অনেকে মাথা উঁচু করেছে।
কিন্তু নবী ﷺ বললেন, আলীকে আমার কাছে ডাক। তারপর তিনি তাঁর হাতে পতাকা তুলে দিলেন।
যখন আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেছেন,
إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا
আল্লাহ তো কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে। (সুরা আহযাব : ৩৩)
তখন নবী ﷺ আলী, ফাতেমা, হাসান ও হুসাইনকে ডেকে এনে বললেন, হে আল্লাহ এরাই আমার পরিবার。
টিকাঃ
৯৩১ মুসলিম শরীহ, ৪র্থ খণ্ড, ১৮৭১ নং হাদীস।
📄 হামযা রা.-এর মেয়ে
মক্কা বিজয়ের পর আলী তখনো মক্কা থেকে বের হতে ঘোড়ার ঘাড়ে ঘুমালেন। ঠিক তখন তিনি শুনতে পেলেন হামযা -এর মেয়ে দ্রুত তাঁর দিকে ছুটে আসছে আর চিৎকার করে ডাকছে, চাচা..., চাচা....। তখন আলী তার দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে কাছে টেনে নিল। তারপর তিনি ফাতেমা -কে বললেন, তোমার চাচাতো বোনকে নাও। এরপর হামযা -এর মেয়েকে নিয়ে আলী ও জাফর বিতর্ক করতে লাগলেন। আলী বললেন, তাকে নেওয়ার অধিক হকদার আমি, সে আমার চাচাতো বোন। তখন জাফর বললেন, তাকে নেওয়ার অধিক হকদার আমি, সে আমারও চাচাতো বোন, তাছাড়াও তার খালা আমার স্ত্রী।
ও যাইদ ইবনু জাইদ -ও বললেন, তাকে নেওয়ার অধিক হকদার আমি, কেননা সে আমার ভাইয়ের মেয়ে। রাসূল ﷺ তাকে হামযা -এর ভাই বানিয়ে দিয়েছিলেন। তখন নবী ﷺ মেয়েটিকে তার খালার দাদীর হাতে দিলেন। কেননা খালা তো মায়ের মতোই। তারপর নবী ﷺ মৃদু হেসে আলী -এর দিকে তাকালেন। তিনি তাঁকে বললেন, তুমি আমার, আমি তোমার। ওমর জাফার -কে বললেন, আমার গঠন ও চরিত্রের সাথে তোমার অধিক মিল রয়েছে। আর জায়েদ -কে বললেন, জায়েদ, তুমি আমার ভাই ও আযাদকৃত দাস。
টিকাঃ
৯৩৪ মুসলিম আহযাব, ১৯ খণ্ড, ১১৮-১২৩ ও আবু দাউদ ২য় খণ্ড, ৭১০।
📄 উম্মে কুলসুমের জন্যে প্রস্তাব দিলেন ওমর রা.
আমীরুল মুমিনীন ওমর বিন খাত্তাব আলী বিন আবু তালিবের কাছে তাঁর মেয়ে উম্মে কুলসুমকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলেন। তখন আলী বললেন, আমি আমার মেয়েদেরকে জাফরের ছেলেদের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছি। ওমর বললেন, আলী তাঁকে আমার কাছে বিয়ে দাও, আল্লাহর শপথ! যমিনের ওপর তার সাথে আমার মতো উত্তম ব্যবহার কেউ করবে না। তখন আলী আনন্দের সাথে বললেন, আমি প্রস্তাব গ্রহণ করলাম। আলী প্রস্তাব গ্রহণ করার পর ওমর দ্রুত ওই লোকজনের কাছে গেলেন যারা রাসূল ﷺ-এর মিম্বর ও কবরের মাঝে বসে আল্লাহর যিকির করছিল। তিনি তাদেরকে গিয়ে বললেন, আমার জন্যে বাসনা সাজাও। তারা সাথে সাথে বলল, কার সাথে আমীরুল মুমিনীন? তিনি হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় বললেন, আলীর মেয়ে উম্মে কুলসুমের সাথে। কেননা আমি রাসূল ﷺ-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন আমার বংশ ব্যতীত সকল বংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আমি তাঁর সংরক্ষণে ছিলাম আর তাই আমি চেয়েছি তাঁর আর আমার একটি বংশসূত্র থাকুক。
টিকাঃ
৯৩৫ আল কায়ম, ১৩তম খণ্ড, ৬২৪ পৃঃ।
📄 আমি যার অভিভাবক আলী তাঁর অভিভাবক
নবী ﷺ যখন বিদায় হজ্জ্ব থেকে ফিরে আসছিলেন তখন তিনি মক্কা ও মদিনার মাঝে "গাদিরে খাম" যাত্রাবিরতি নিলেন। তিনি লোকজনের জায়গাটি ঝাড়ু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি ও তাঁর সাহাবায়ে কেরামগণ একত্রিত হয়ে বসলেন। তখন নবী ﷺ বললেন, আমি তোমাদের মাঝে দুইটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, আল্লাহর কিতাব ও আমার সংগ্রামী পরিবার। সুতরাং তোমরা লক্ষ্য রেখো, আমি চলে যাওয়ার পরে তোমরা ওই দুইটি জিনিসের সাথে কেমনভাবে লেগে আছ। কেননা ওই দুইটি হাওয়ে আমার সাথে মিলিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কখনো আলাদা হবে না। তারপর নবী ﷺ বললেন, আল্লাহ আমার অভিভাবক, আর আমি সকল মুমিনীনর অভিভাবক। তারপর তিনি আলী ﷺ-এর হাত ধরে বললেন, আমি যার অভিভাবক এও তাঁর অভিভাবক। তারপর তিনি দুই হাত তুলে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ, যে আলীর সাথে বন্ধুত্ব রাখবে তুমি তার সাথে বন্ধুত্ব রাখ, আর যে আলীর সাথে শত্রুতা করবে তুমি তার সাথে শত্রুতা করিও。
টিকাঃ
৯৩৬ মুসনাদে আহমদ, ৪ খণ্ড, ৩৭৩ পৃঃ。