📄 তিনটি বিষয় আলী রা.-এর স্বতন্ত্রতা
খুবই আগ্রহের সাথে লোকজন ওমর রা.-এর মজলিসে বসে তাঁর উপদেশ শুনছিল। তখন তিনি বললেন, আলীকে স্বতন্ত্র এমন তিনটি জিনিস দেওয়া হলো, তার থেকে একটি পাওয়াও আমার কাছে সকল নেয়ামত থেকেও উত্তম। মানুষ আগ্রহের সাথে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন, সেগুলো কী কী? তিনি বললেন, সে নবী রা.-এর মেয়ে ফাতেমাকে বিয়ে করেছে, মসজিদ তার বাসস্থান, সেখানে তাঁর জন্য যা করা জায়েয আমার জন্য জায়েয নেই এবং সে খায়বারের দিন পতাকা বহন করেছে。
টিকাঃ
৫০৪ তারিখুন খুলাফা ২৭২ পৃ.
📄 ইয়ামানে আলী রা.-এর প্রেরণ
তখন আলী রা. মাত্র নব তরুণ। মসৃণ হাত ও কোমল ত্বকবিশিষ্ট। রাসূল রা. যখন তাঁকে ইয়েমেনের উদ্দেশে পাঠালেন তখন তিনি মাত্র চব্বিশ বছর অতিক্রম করেছেন। আলী রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে ইয়েমেনে পাঠাচ্ছেন, মানুষতো আমাকে বিচারকার্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে অথচ এ ব্যাপারে আমার কোনো জ্ঞান নেই। তাঁর কথা শুনে নবী রা. মৃদু হেসে সালাফ বললেন, আমার কাছে আস। তিনি তাঁর কাছে আসলেন, নবী রা. তাঁর বুকে নিজ পবিত্র হাত দ্বারা মৃদু আঘাত করলেন। তারপর নবী রা. বললেন, আল্লাহ তুমি তাঁর জিহ্বা দৃঢ় কর এবং তাঁর অন্তরকে হেদায়েত দাও। ..........আলী যখন তোমার সামনে দুষ্কর চিন্তাপ্রার্থী বসবে তখন তুমি তাদের প্রথমপক্ষ থেকে যেভাবে অভিযোগ শুনছো দ্বিতীয়পক্ষ থেকেও তেমন না শুনা পর্যন্ত বিচারও করবে না। যখন তুমি দুইপক্ষের কথা শুনে বিচার করবে তখন তোমার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। আলী রা. বললেন, সে সভার শপথ! যিনি বৃষ্টি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন প্রাণী, এরপর থেকে কখনো আমি দুই ব্যক্তির মাঝে ফয়সালা করতে সন্দিহান হইনি。
টিকাঃ
৫০৫ মুসনাদে আহমাদ, ১ ম খণ্ড, ৯৯-১০০ ও তিরমিযী ২ য় খণ্ড, ৩৯৪।
📄 আহলে বাইতের প্রজ্ঞা
ইয়ামানে চারজন ব্যক্তি একটি গর্তে পড়ে গেছে। সে গর্তে একটি সিংহ শিকার করতে বসেছিল। যখন প্রথম লোকটি পাড়ে যেতে লাগল সে দ্বিতীয় লোকটিকে ধরে ফেলল। দ্বিতীয়জন তৃতীয়জনকে ধরল, তৃতীয়জন চতুর্থজনকে ধরল। চারজনই গর্তে পড়ে গেল। গর্তে পড়ে যাওয়ার পর সিংহ তাদেরে চারজনকেই আক্রমণ করে ক্ষত-বিক্ষত করে শেষ করে দিল। তখন সে চারজনের অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে তুমুল ঝগড়া শুরু করল। এমনকি তাদের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার উপক্রম হলো। তখন আলী রা. বললেন, আমি তোমাদের মাঝে সমাধান করে দিব। যদি তোমরা আমার বিচারে রাজি থাক তবে তাই হবে। আর না হয় আমি তোমাদের থেকে কিছু সংখ্যক লোককে রাসূল রা.-এর কাছে পাঠাব। তখন তিনি তোমাদের মাঝে সমাধান করে দিবেন। এরপর তিনি বিচারে সমাধান দিয়ে বললেন, যারা এ গর্তে করেছে তোমরা তাদের থেকে দিয়াত (রক্তপণ) হিসেবে এক-চতুর্থাংশ, এক-তৃতীয়াংশ, অর্ধেক ও পূর্ণ একজগের রক্তপণ গ্রহণ কর। সুতরাং যে প্রথমে গর্তে পড়েছে তাঁর অভিভাবকরা এক-চতুর্থাংশ পাবে, কেননা সে দ্বিতীয়জনকে গর্তে ফেলেছে। এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তির অভিভাবকরা এক তৃতীয়াংশ পাবে, কেননা সে তার পরের ব্যক্তিকে ফেলেছে। এরপর তৃতীয় ব্যক্তির অভিভাবকরা অর্ধেক পাবে, কেননা সে চতুর্থ ব্যক্তিকে ফেলেছে। আর চতুর্থ ব্যক্তির অভিভাবকরা পূর্ণ একজনের রক্তপণ পাবে। কিন্তু তারা তাঁর এ বিচারে মানতে অস্বীকার করল। তাই তারা রাসূল রা.-এর কাছে এ বিচার নিয়ে আসল। তারা রাসূল রা.-এর কাছে বিচারটি পেশ করল এবং আলী রা.-এর দেওয়া রায়টি বর্ণনা করল। তখন রাসূল রা. আলী রা.-এর রায়কে বহাল রাখলেন। আর বললেন, সকল প্রশংসা সে আল্লাহ তা‘আলার যিনি আহলে বাইতের মধ্যে প্রজ্ঞা রেখেছেন。
টিকাঃ
৫০৬ তারিখুল মুমিনীন আলী বিন আবী তালিব, ৬৮ পৃ.
📄 আলী রা.-এর ইসলাম গ্রহণ
অবশ্য বয়সে একদিন আলী রা. রাসূল রা.-এর ঘরে আসলেন। তিনি এসে দেখলেন রাসূল রা. ও তাঁর পবিত্র স্ত্রী খাদিজা রা. নামায আদায় করছিলেন। তখন আলী রা. আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, মুহাম্মদ, এটা কী? নবী রা. তাঁর দিকে হাস্যেজ্জ্বল চেহারায় এসে বললেন, এটা আল্লাহর ধর্ম, যে ধর্ম আল্লাহ নিজের জন্য পছন্দ করেছেন এবং সে ধর্ম দিয়ে তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন। সুতরাং আমি তোমাকে আহ্বান করছি শরিকবিহীন আল্লাহর দিকে, তাঁর ইবাদতের দিকে ও লাত, উযযাকে অস্বীকার করার দিকে। তখন আলী রা. বললেন, এটা এমন একটি বিষয় যা আমি আর কখনো শুনিনি। সুতরাং আমি আবু তালিবের (বাবার) সাথে পরামর্শ না করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। কিন্তু নবী রা. প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার আগে তাঁর এ কথা মানুষের সামনে প্রকাশিত হওয়াকে অপছন্দ করতেন। আর তাই তিনি তাঁকে বললেন, আলী, যদি তুমি ইসলাম গ্রহণ না কর, তবে তা কাউকে বলবে না। আলী রা. ওই রাতে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে লাগলেন। ভাবতে ভাবতে ভাবনার মাঝেই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অন্তরে ঈমানের আলো দিয়ে দিলেন। সকাল হওয়ার পর তিনি খুব দ্রুত নবী রা.-এর কাছে এসে বললেন, মুহাম্মদ, আপনি আমার কাছে কী পেশ করেছেন? নবী রা. বললেন, তুমি এ কথার সাক্ষ্য দিবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর সাথে সাথে লাত ও উযযাকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর অংশীদার স্থাপন থেকে পবিত্র থাকবে। রাসূল রা.-এর এ কথাগুলো শুনে আলী রা. তখন ইসলাম গ্রহণ করে নিলেন এবং ইসলাম প্রকাশ্যে আসার আগ পর্যন্ত আবু তালিবের ভয়ে গোপনে গোপনে রাসূল রা.-এর কাছে আসা-যাওয়া করতেন。
টিকাঃ
৫০৭ আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৩য় খণ্ড, ২৯ পৃ.