📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মেরেছেন আলী রা.

📄 এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মেরেছেন আলী রা.


বায়তুল্লাহর পাশে এক ব্যক্তির চিৎকার আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল। এক যুবক মানুষের ভিড় ঠেলে চিৎকার করতে করতে এসে আমীরুল মুমিনীন ওমর রা.-এর সামনে উপস্থিত হলো। তখন সে বোঝাবঝের মতো অভিনয় করে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আলী বিন আবু তালিব থেকে আমার অধিকার আদায় করে দিন। ওমর রা. বললেন, তাঁর কী হয়েছে? সে বলল, সে আমার চোখে থাপ্পড় মেরেছে। ওমর রা. তখন সেই স্থানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এমন সময় আলী রা. সেখান দিয়ে যেতে লাগলেন।
তখন ওমর রা. আলী রা.-কে বললেন, হাসানের বাবা, তুমি কী এর চোখে থাপ্পড় মেরেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমীরুল মুমিনীন। ওমর রা. বললেন, কেন? তিনি বললেন, আমি তাকে দেখেছি সে তাওয়াফের সময় মুমিনদের গোপন অঙ্গসমূহের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে। ওমর রা. বললেন, হাসানের বাবা, তুমি ভালো করেছ。

টিকাঃ
৫০৩ আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব মিনাল ইমাম ইল্লা ইসতিফাতান, ৬৯ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তিনটি বিষয় আলী রা.-এর স্বতন্ত্রতা

📄 তিনটি বিষয় আলী রা.-এর স্বতন্ত্রতা


খুবই আগ্রহের সাথে লোকজন ওমর রা.-এর মজলিসে বসে তাঁর উপদেশ শুনছিল। তখন তিনি বললেন, আলীকে স্বতন্ত্র এমন তিনটি জিনিস দেওয়া হলো, তার থেকে একটি পাওয়াও আমার কাছে সকল নেয়ামত থেকেও উত্তম। মানুষ আগ্রহের সাথে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন, সেগুলো কী কী? তিনি বললেন, সে নবী রা.-এর মেয়ে ফাতেমাকে বিয়ে করেছে, মসজিদ তার বাসস্থান, সেখানে তাঁর জন্য যা করা জায়েয আমার জন্য জায়েয নেই এবং সে খায়বারের দিন পতাকা বহন করেছে。

টিকাঃ
৫০৪ তারিখুন খুলাফা ২৭২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ইয়ামানে আলী রা.-এর প্রেরণ

📄 ইয়ামানে আলী রা.-এর প্রেরণ


তখন আলী রা. মাত্র নব তরুণ। মসৃণ হাত ও কোমল ত্বকবিশিষ্ট। রাসূল রা. যখন তাঁকে ইয়েমেনের উদ্দেশে পাঠালেন তখন তিনি মাত্র চব্বিশ বছর অতিক্রম করেছেন। আলী রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে ইয়েমেনে পাঠাচ্ছেন, মানুষতো আমাকে বিচারকার্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে অথচ এ ব্যাপারে আমার কোনো জ্ঞান নেই। তাঁর কথা শুনে নবী রা. মৃদু হেসে সালাফ বললেন, আমার কাছে আস। তিনি তাঁর কাছে আসলেন, নবী রা. তাঁর বুকে নিজ পবিত্র হাত দ্বারা মৃদু আঘাত করলেন। তারপর নবী রা. বললেন, আল্লাহ তুমি তাঁর জিহ্বা দৃঢ় কর এবং তাঁর অন্তরকে হেদায়েত দাও। ..........আলী যখন তোমার সামনে দুষ্কর চিন্তাপ্রার্থী বসবে তখন তুমি তাদের প্রথমপক্ষ থেকে যেভাবে অভিযোগ শুনছো দ্বিতীয়পক্ষ থেকেও তেমন না শুনা পর্যন্ত বিচারও করবে না। যখন তুমি দুইপক্ষের কথা শুনে বিচার করবে তখন তোমার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। আলী রা. বললেন, সে সভার শপথ! যিনি বৃষ্টি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন প্রাণী, এরপর থেকে কখনো আমি দুই ব্যক্তির মাঝে ফয়সালা করতে সন্দিহান হইনি。

টিকাঃ
৫০৫ মুসনাদে আহমাদ, ১ ম খণ্ড, ৯৯-১০০ ও তিরমিযী ২ য় খণ্ড, ৩৯৪।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আহলে বাইতের প্রজ্ঞা

📄 আহলে বাইতের প্রজ্ঞা


ইয়ামানে চারজন ব্যক্তি একটি গর্তে পড়ে গেছে। সে গর্তে একটি সিংহ শিকার করতে বসেছিল। যখন প্রথম লোকটি পাড়ে যেতে লাগল সে দ্বিতীয় লোকটিকে ধরে ফেলল। দ্বিতীয়জন তৃতীয়জনকে ধরল, তৃতীয়জন চতুর্থজনকে ধরল। চারজনই গর্তে পড়ে গেল। গর্তে পড়ে যাওয়ার পর সিংহ তাদেরে চারজনকেই আক্রমণ করে ক্ষত-বিক্ষত করে শেষ করে দিল। তখন সে চারজনের অভিভাবকরা বিষয়টি নিয়ে তুমুল ঝগড়া শুরু করল। এমনকি তাদের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাওয়ার উপক্রম হলো। তখন আলী রা. বললেন, আমি তোমাদের মাঝে সমাধান করে দিব। যদি তোমরা আমার বিচারে রাজি থাক তবে তাই হবে। আর না হয় আমি তোমাদের থেকে কিছু সংখ্যক লোককে রাসূল রা.-এর কাছে পাঠাব। তখন তিনি তোমাদের মাঝে সমাধান করে দিবেন। এরপর তিনি বিচারে সমাধান দিয়ে বললেন, যারা এ গর্তে করেছে তোমরা তাদের থেকে দিয়াত (রক্তপণ) হিসেবে এক-চতুর্থাংশ, এক-তৃতীয়াংশ, অর্ধেক ও পূর্ণ একজগের রক্তপণ গ্রহণ কর। সুতরাং যে প্রথমে গর্তে পড়েছে তাঁর অভিভাবকরা এক-চতুর্থাংশ পাবে, কেননা সে দ্বিতীয়জনকে গর্তে ফেলেছে। এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তির অভিভাবকরা এক তৃতীয়াংশ পাবে, কেননা সে তার পরের ব্যক্তিকে ফেলেছে। এরপর তৃতীয় ব্যক্তির অভিভাবকরা অর্ধেক পাবে, কেননা সে চতুর্থ ব্যক্তিকে ফেলেছে। আর চতুর্থ ব্যক্তির অভিভাবকরা পূর্ণ একজনের রক্তপণ পাবে। কিন্তু তারা তাঁর এ বিচারে মানতে অস্বীকার করল। তাই তারা রাসূল রা.-এর কাছে এ বিচার নিয়ে আসল। তারা রাসূল রা.-এর কাছে বিচারটি পেশ করল এবং আলী রা.-এর দেওয়া রায়টি বর্ণনা করল। তখন রাসূল রা. আলী রা.-এর রায়কে বহাল রাখলেন। আর বললেন, সকল প্রশংসা সে আল্লাহ তা‘আলার যিনি আহলে বাইতের মধ্যে প্রজ্ঞা রেখেছেন。

টিকাঃ
৫০৬ তারিখুল মুমিনীন আলী বিন আবী তালিব, ৬৮ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00