📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 হিজরি সালের ইতিহাস

📄 হিজরি সালের ইতিহাস


ঈমান থেকে এক এক লোক হিজরী মুমিনীন ওমর বিন খাত্তাব রা.-এর কাছে আসল। সে তাঁকে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনারা কী তারিখের ভিত্তিতে ঘটনাগুলো লিখে রাখেন না। অমুক মাসে অমুক ঘটনা ঘটেছে, বা অমুক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ওমর রা. বললেন, না। এরপর লোকটি ফিরে চলে গেল, কিন্তু বিষয়টি ওমর রা.-এর চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। তিনি ব্যাপারটি নিয়ে গভীরভবে চিন্তা করে দেখলেন। অবশেষে তিনি একটি সন চালু করার প্রয়োজন মনে করলেন। আর এ কারণে তিনি মুহাজির ও আনসারদেরকে এক জায়গায় একত্রিত করলেন। তারা সকলে একত্রিত হয়ে বসার পর তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমরা কোন সময় থেকে সন ভিত্তিক ইতিহাস লেখা শুরু করব? তাঁর এ প্রশ্নে অনেকক্ষণ পর্যন্ত সকলে চুপ করে রইল। এরপর একজন বলল, রাসূল রা.-এর ইন্তেকাল থেকে, আবার কেউ বলল, রাসূল রা.-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির সময় থেকে। তখন আলী রা. আওয়াজ উঁচু করে বললেন, আমীরুল মুমিনীন, রাসূল রা. যেদিন শিরকের ভূমি থেকে বের হয়ে এসেছিলেন সেদিন থেকে আমরা ইতিহাস লেখা শুরু করব। অর্থাৎ রাসূল রা. যেদিন হিজরত করতে মক্কা ত্যাগ করলেন ততদিন থেকে।
তখন সকলে তাঁর কথা গ্রহণ করে নিয়েছে এবং এর ওপর ঐকমত্য হয়েছে。

টিকাঃ
৫০২ তারীখুল মদিনাতিল মুনাওয়ারা, ২য় খণ্ড, ৭৩৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মেরেছেন আলী রা.

📄 এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মেরেছেন আলী রা.


বায়তুল্লাহর পাশে এক ব্যক্তির চিৎকার আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল। এক যুবক মানুষের ভিড় ঠেলে চিৎকার করতে করতে এসে আমীরুল মুমিনীন ওমর রা.-এর সামনে উপস্থিত হলো। তখন সে বোঝাবঝের মতো অভিনয় করে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আলী বিন আবু তালিব থেকে আমার অধিকার আদায় করে দিন। ওমর রা. বললেন, তাঁর কী হয়েছে? সে বলল, সে আমার চোখে থাপ্পড় মেরেছে। ওমর রা. তখন সেই স্থানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এমন সময় আলী রা. সেখান দিয়ে যেতে লাগলেন।
তখন ওমর রা. আলী রা.-কে বললেন, হাসানের বাবা, তুমি কী এর চোখে থাপ্পড় মেরেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমীরুল মুমিনীন। ওমর রা. বললেন, কেন? তিনি বললেন, আমি তাকে দেখেছি সে তাওয়াফের সময় মুমিনদের গোপন অঙ্গসমূহের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে। ওমর রা. বললেন, হাসানের বাবা, তুমি ভালো করেছ。

টিকাঃ
৫০৩ আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব মিনাল ইমাম ইল্লা ইসতিফাতান, ৬৯ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তিনটি বিষয় আলী রা.-এর স্বতন্ত্রতা

📄 তিনটি বিষয় আলী রা.-এর স্বতন্ত্রতা


খুবই আগ্রহের সাথে লোকজন ওমর রা.-এর মজলিসে বসে তাঁর উপদেশ শুনছিল। তখন তিনি বললেন, আলীকে স্বতন্ত্র এমন তিনটি জিনিস দেওয়া হলো, তার থেকে একটি পাওয়াও আমার কাছে সকল নেয়ামত থেকেও উত্তম। মানুষ আগ্রহের সাথে বলল, হে আমীরুল মুমিনীন, সেগুলো কী কী? তিনি বললেন, সে নবী রা.-এর মেয়ে ফাতেমাকে বিয়ে করেছে, মসজিদ তার বাসস্থান, সেখানে তাঁর জন্য যা করা জায়েয আমার জন্য জায়েয নেই এবং সে খায়বারের দিন পতাকা বহন করেছে。

টিকাঃ
৫০৪ তারিখুন খুলাফা ২৭২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ইয়ামানে আলী রা.-এর প্রেরণ

📄 ইয়ামানে আলী রা.-এর প্রেরণ


তখন আলী রা. মাত্র নব তরুণ। মসৃণ হাত ও কোমল ত্বকবিশিষ্ট। রাসূল রা. যখন তাঁকে ইয়েমেনের উদ্দেশে পাঠালেন তখন তিনি মাত্র চব্বিশ বছর অতিক্রম করেছেন। আলী রা. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে ইয়েমেনে পাঠাচ্ছেন, মানুষতো আমাকে বিচারকার্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে অথচ এ ব্যাপারে আমার কোনো জ্ঞান নেই। তাঁর কথা শুনে নবী রা. মৃদু হেসে সালাফ বললেন, আমার কাছে আস। তিনি তাঁর কাছে আসলেন, নবী রা. তাঁর বুকে নিজ পবিত্র হাত দ্বারা মৃদু আঘাত করলেন। তারপর নবী রা. বললেন, আল্লাহ তুমি তাঁর জিহ্বা দৃঢ় কর এবং তাঁর অন্তরকে হেদায়েত দাও। ..........আলী যখন তোমার সামনে দুষ্কর চিন্তাপ্রার্থী বসবে তখন তুমি তাদের প্রথমপক্ষ থেকে যেভাবে অভিযোগ শুনছো দ্বিতীয়পক্ষ থেকেও তেমন না শুনা পর্যন্ত বিচারও করবে না। যখন তুমি দুইপক্ষের কথা শুনে বিচার করবে তখন তোমার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে। আলী রা. বললেন, সে সভার শপথ! যিনি বৃষ্টি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন প্রাণী, এরপর থেকে কখনো আমি দুই ব্যক্তির মাঝে ফয়সালা করতে সন্দিহান হইনি。

টিকাঃ
৫০৫ মুসনাদে আহমাদ, ১ ম খণ্ড, ৯৯-১০০ ও তিরমিযী ২ য় খণ্ড, ৩৯৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00