📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ফকীহের গুণ

📄 ফকীহের গুণ


আলী রা. মেহরাবের পাশে বসেছিলেন। তার পবিত্র জবানে তিনি আল্লাহ তা‘আলার জিকির-আজকার করছিলেন। তখন একদল লোক তাঁকে ঘিরে বসল। তাদের উদ্দেশ্য তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করা। তাদের মধ্যে এক লোক বলল, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি আমাদেরকে ফকীরের গুণাগুণ সম্পর্কে বলুন। (ফকীর বলা হয় যিনি ইসলামী আইনশাস্ত্রে জ্ঞান রাখেন।) তখন আলী রা. দাড়িযে বললেন, জেনে রাখ, আমি তোমাদেরকে ফকীর হওয়ার শর্তসমূহ বলছি। ফকীর ওই ব্যক্তি, যে মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না। আল্লাহর অবাধ্যতাকে মানুষের জন্য সহজ করে দেয় না। আল্লাহর ক্রোধ থেকে তাদেরকে নিরাপদ হওয়ার ধারণা দেয় না। কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে অনাকুতির মুখী হয় না। যে ইবাদত জ্ঞানবিহীন হয় তাতে কোনো কল্যাণ নেই। আর যে জ্ঞানের মাঝে আল্লাহর ভয় নেই তাতেও কোনো কল্যাণ নেই। ওহী তেলাওয়াতেও কল্যাণ নেই যা বুঝে পাঠ করে না。

টিকাঃ
৫১০ হুলিয়াতুল আউলিয়া, ১ ম খণ্ড, ৭৭ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উম্মে সালামা রা. ও আলী রা.

📄 উম্মে সালামা রা. ও আলী রা.


উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. আবু আব্দুল্লাহ আল জাদালী রা.-এর কাছে এসে রাসূল রা.-এর কথাগুলো শুনে আলী রা. তোমাদের সামনে কী রাসূল রা.-কে গালি দেওয়া হবে? তখন তিনি খুব ভীত হয়ে বললেন, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, কীভাবে তা হতে পারে?
তখন উম্মে সালামা রা. বললেন, আলী আর তাঁকে যারা পছন্দ করে তাদেরকে কী গালি দেওয়া হচ্ছে না?....আল্লাহর শপথ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, রাসূল রা. আলীকে ভালোবাসতেন。

টিকাঃ
৫১১ মুসনাদে আহমাদ, ৬ ষ্ঠ খণ্ড, ৩২৩ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 হিজরি সালের ইতিহাস

📄 হিজরি সালের ইতিহাস


ঈমান থেকে এক এক লোক হিজরী মুমিনীন ওমর বিন খাত্তাব রা.-এর কাছে আসল। সে তাঁকে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনারা কী তারিখের ভিত্তিতে ঘটনাগুলো লিখে রাখেন না। অমুক মাসে অমুক ঘটনা ঘটেছে, বা অমুক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ওমর রা. বললেন, না। এরপর লোকটি ফিরে চলে গেল, কিন্তু বিষয়টি ওমর রা.-এর চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। তিনি ব্যাপারটি নিয়ে গভীরভবে চিন্তা করে দেখলেন। অবশেষে তিনি একটি সন চালু করার প্রয়োজন মনে করলেন। আর এ কারণে তিনি মুহাজির ও আনসারদেরকে এক জায়গায় একত্রিত করলেন। তারা সকলে একত্রিত হয়ে বসার পর তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমরা কোন সময় থেকে সন ভিত্তিক ইতিহাস লেখা শুরু করব? তাঁর এ প্রশ্নে অনেকক্ষণ পর্যন্ত সকলে চুপ করে রইল। এরপর একজন বলল, রাসূল রা.-এর ইন্তেকাল থেকে, আবার কেউ বলল, রাসূল রা.-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির সময় থেকে। তখন আলী রা. আওয়াজ উঁচু করে বললেন, আমীরুল মুমিনীন, রাসূল রা. যেদিন শিরকের ভূমি থেকে বের হয়ে এসেছিলেন সেদিন থেকে আমরা ইতিহাস লেখা শুরু করব। অর্থাৎ রাসূল রা. যেদিন হিজরত করতে মক্কা ত্যাগ করলেন ততদিন থেকে।
তখন সকলে তাঁর কথা গ্রহণ করে নিয়েছে এবং এর ওপর ঐকমত্য হয়েছে。

টিকাঃ
৫০২ তারীখুল মদিনাতিল মুনাওয়ারা, ২য় খণ্ড, ৭৩৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মেরেছেন আলী রা.

📄 এক ব্যক্তিকে থাপ্পড় মেরেছেন আলী রা.


বায়তুল্লাহর পাশে এক ব্যক্তির চিৎকার আওয়াজ শুনা যাচ্ছিল। এক যুবক মানুষের ভিড় ঠেলে চিৎকার করতে করতে এসে আমীরুল মুমিনীন ওমর রা.-এর সামনে উপস্থিত হলো। তখন সে বোঝাবঝের মতো অভিনয় করে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আলী বিন আবু তালিব থেকে আমার অধিকার আদায় করে দিন। ওমর রা. বললেন, তাঁর কী হয়েছে? সে বলল, সে আমার চোখে থাপ্পড় মেরেছে। ওমর রা. তখন সেই স্থানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন এমন সময় আলী রা. সেখান দিয়ে যেতে লাগলেন।
তখন ওমর রা. আলী রা.-কে বললেন, হাসানের বাবা, তুমি কী এর চোখে থাপ্পড় মেরেছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমীরুল মুমিনীন। ওমর রা. বললেন, কেন? তিনি বললেন, আমি তাকে দেখেছি সে তাওয়াফের সময় মুমিনদের গোপন অঙ্গসমূহের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে। ওমর রা. বললেন, হাসানের বাবা, তুমি ভালো করেছ。

টিকাঃ
৫০৩ আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব মিনাল ইমাম ইল্লা ইসতিফাতান, ৬৯ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00