📄 যিনাকারিনী মহিলা
একদিন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু মদিনার পথে হাঁটছিলেন এমন সময় তিনি দেখলেন কিছু লোক এক মহিলাকে টেনে এনেছিল। তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু চিৎকার দিয়ে বললেন, এর কী হয়েছে? তারা বলল, সে যিনা করেছে, তাই আমীরুল মুমিনীন তাকে রজম (যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করা) করার নির্দেশ দিয়েছেন। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু সে মহিলাকে তাদের হাত থেকে নিয়ে ছেড়ে দিলেন এবং তাদেরকে কঠিনভাবে ধমকালেন। তখন তারা ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে ফিরে গিয়ে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু যা করেছেন তা জানাল। তাদের কথা শুনার পর ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সে না জেনে এমন করেনি। তাকে আমার কাছে পাঠাও। ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর নির্দেশ মতো আলী রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে আসলেন। তাঁর চেহারা তখনো রাগের ভাব দেখা যাচ্ছিল। ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন, তোমার কী হলো, তুমি কেন এ লোকগুলো যিনাকারিনী মহিলার ওপর হদ কায়েম করতে বাধা দিয়েছ। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেননি, ‘তিনি ব্যক্তির থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, ছোট বাচ্চা যতদিন না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, পাগল যতক্ষণ না জ্ঞান ফিরে আসে।’ (কলম উঠিয়ে রাখা হয় মানে এ তিনজনের কাজের কোনো হিসাব হয় না।) ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু মাথা নেড়ে বললেন, অবশ্যই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি।
তখন আলী রা. মুক্তি হেসে বললেন, এ মহিলাকে মাঝে মাঝে মুশীরোগে আক্রান্ত করে যা পাগল হয়ে যাওয়ার মতো। মনে হয় তার মৃগী রোগে আক্রান্ত করা অবস্থায় পুরুষ লোকটি তার সাথে সহবাস করেছে। তখন ওমর রা. মহিলাটিকে ছেড়ে দিয়েছেন。
টিকাঃ
৫০৯ মুসনাদে আহমাদ, ১ ম খণ্ড, ১০০; ও আবু দাউদ ৪ র্থ খণ্ড, ১৪০।
📄 ফকীহের গুণ
আলী রা. মেহরাবের পাশে বসেছিলেন। তার পবিত্র জবানে তিনি আল্লাহ তা‘আলার জিকির-আজকার করছিলেন। তখন একদল লোক তাঁকে ঘিরে বসল। তাদের উদ্দেশ্য তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করা। তাদের মধ্যে এক লোক বলল, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি আমাদেরকে ফকীরের গুণাগুণ সম্পর্কে বলুন। (ফকীর বলা হয় যিনি ইসলামী আইনশাস্ত্রে জ্ঞান রাখেন।) তখন আলী রা. দাড়িযে বললেন, জেনে রাখ, আমি তোমাদেরকে ফকীর হওয়ার শর্তসমূহ বলছি। ফকীর ওই ব্যক্তি, যে মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না। আল্লাহর অবাধ্যতাকে মানুষের জন্য সহজ করে দেয় না। আল্লাহর ক্রোধ থেকে তাদেরকে নিরাপদ হওয়ার ধারণা দেয় না। কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে অনাকুতির মুখী হয় না। যে ইবাদত জ্ঞানবিহীন হয় তাতে কোনো কল্যাণ নেই। আর যে জ্ঞানের মাঝে আল্লাহর ভয় নেই তাতেও কোনো কল্যাণ নেই। ওহী তেলাওয়াতেও কল্যাণ নেই যা বুঝে পাঠ করে না。
টিকাঃ
৫১০ হুলিয়াতুল আউলিয়া, ১ ম খণ্ড, ৭৭ পৃ.
📄 উম্মে সালামা রা. ও আলী রা.
উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. আবু আব্দুল্লাহ আল জাদালী রা.-এর কাছে এসে রাসূল রা.-এর কথাগুলো শুনে আলী রা. তোমাদের সামনে কী রাসূল রা.-কে গালি দেওয়া হবে? তখন তিনি খুব ভীত হয়ে বললেন, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, কীভাবে তা হতে পারে?
তখন উম্মে সালামা রা. বললেন, আলী আর তাঁকে যারা পছন্দ করে তাদেরকে কী গালি দেওয়া হচ্ছে না?....আল্লাহর শপথ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, রাসূল রা. আলীকে ভালোবাসতেন。
টিকাঃ
৫১১ মুসনাদে আহমাদ, ৬ ষ্ঠ খণ্ড, ৩২৩ পৃ.
📄 হিজরি সালের ইতিহাস
ঈমান থেকে এক এক লোক হিজরী মুমিনীন ওমর বিন খাত্তাব রা.-এর কাছে আসল। সে তাঁকে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনারা কী তারিখের ভিত্তিতে ঘটনাগুলো লিখে রাখেন না। অমুক মাসে অমুক ঘটনা ঘটেছে, বা অমুক নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ওমর রা. বললেন, না। এরপর লোকটি ফিরে চলে গেল, কিন্তু বিষয়টি ওমর রা.-এর চিন্তায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। তিনি ব্যাপারটি নিয়ে গভীরভবে চিন্তা করে দেখলেন। অবশেষে তিনি একটি সন চালু করার প্রয়োজন মনে করলেন। আর এ কারণে তিনি মুহাজির ও আনসারদেরকে এক জায়গায় একত্রিত করলেন। তারা সকলে একত্রিত হয়ে বসার পর তিনি তাঁদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমরা কোন সময় থেকে সন ভিত্তিক ইতিহাস লেখা শুরু করব? তাঁর এ প্রশ্নে অনেকক্ষণ পর্যন্ত সকলে চুপ করে রইল। এরপর একজন বলল, রাসূল রা.-এর ইন্তেকাল থেকে, আবার কেউ বলল, রাসূল রা.-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির সময় থেকে। তখন আলী রা. আওয়াজ উঁচু করে বললেন, আমীরুল মুমিনীন, রাসূল রা. যেদিন শিরকের ভূমি থেকে বের হয়ে এসেছিলেন সেদিন থেকে আমরা ইতিহাস লেখা শুরু করব। অর্থাৎ রাসূল রা. যেদিন হিজরত করতে মক্কা ত্যাগ করলেন ততদিন থেকে।
তখন সকলে তাঁর কথা গ্রহণ করে নিয়েছে এবং এর ওপর ঐকমত্য হয়েছে。
টিকাঃ
৫০২ তারীখুল মদিনাতিল মুনাওয়ারা, ২য় খণ্ড, ৭৩৮ পৃ.