📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমি কীভাবে তোমাদের অভিভাবক

📄 আমি কীভাবে তোমাদের অভিভাবক


একদল লোক আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে আসলেন। তারা এসে বললেন, আসসালামু আলাইকুম, হে আমাদের অভিভাবক। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু আশ্চর্য হয়ে বললেন, আমি কীভাবে তোমাদের অভিভাবক হলাম। তখন তারা বললেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমি যার অভিভাবক আলীও তাঁর অভিভাবক। এ কথা শুনার পর তিনি তাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। তখন কেউ একজন বলল, তারা আনসার গোত্রের লোক। তাদের মধ্যে আবু আইয়ুব আল আনসারীও ছিলেন。

টিকাঃ
৪০৭ ফাযায়েবুস সাহাবা, ২য় খণ্ড, ৫৭২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 যিনাকারিনী মহিলা

📄 যিনাকারিনী মহিলা


একদিন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু মদিনার পথে হাঁটছিলেন এমন সময় তিনি দেখলেন কিছু লোক এক মহিলাকে টেনে এনেছিল। তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু চিৎকার দিয়ে বললেন, এর কী হয়েছে? তারা বলল, সে যিনা করেছে, তাই আমীরুল মুমিনীন তাকে রজম (যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করা) করার নির্দেশ দিয়েছেন। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু সে মহিলাকে তাদের হাত থেকে নিয়ে ছেড়ে দিলেন এবং তাদেরকে কঠিনভাবে ধমকালেন। তখন তারা ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে ফিরে গিয়ে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু যা করেছেন তা জানাল। তাদের কথা শুনার পর ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সে না জেনে এমন করেনি। তাকে আমার কাছে পাঠাও। ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর নির্দেশ মতো আলী রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে আসলেন। তাঁর চেহারা তখনো রাগের ভাব দেখা যাচ্ছিল। ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন, তোমার কী হলো, তুমি কেন এ লোকগুলো যিনাকারিনী মহিলার ওপর হদ কায়েম করতে বাধা দিয়েছ। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেননি, ‘তিনি ব্যক্তির থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, ছোট বাচ্চা যতদিন না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, পাগল যতক্ষণ না জ্ঞান ফিরে আসে।’ (কলম উঠিয়ে রাখা হয় মানে এ তিনজনের কাজের কোনো হিসাব হয় না।) ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু মাথা নেড়ে বললেন, অবশ্যই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি।
তখন আলী রা. মুক্তি হেসে বললেন, এ মহিলাকে মাঝে মাঝে মুশীরোগে আক্রান্ত করে যা পাগল হয়ে যাওয়ার মতো। মনে হয় তার মৃগী রোগে আক্রান্ত করা অবস্থায় পুরুষ লোকটি তার সাথে সহবাস করেছে। তখন ওমর রা. মহিলাটিকে ছেড়ে দিয়েছেন。

টিকাঃ
৫০৯ মুসনাদে আহমাদ, ১ ম খণ্ড, ১০০; ও আবু দাউদ ৪ র্থ খণ্ড, ১৪০।

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 ফকীহের গুণ

📄 ফকীহের গুণ


আলী রা. মেহরাবের পাশে বসেছিলেন। তার পবিত্র জবানে তিনি আল্লাহ তা‘আলার জিকির-আজকার করছিলেন। তখন একদল লোক তাঁকে ঘিরে বসল। তাদের উদ্দেশ্য তাঁর থেকে জ্ঞান অর্জন করা। তাদের মধ্যে এক লোক বলল, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনি আমাদেরকে ফকীরের গুণাগুণ সম্পর্কে বলুন। (ফকীর বলা হয় যিনি ইসলামী আইনশাস্ত্রে জ্ঞান রাখেন।) তখন আলী রা. দাড়িযে বললেন, জেনে রাখ, আমি তোমাদেরকে ফকীর হওয়ার শর্তসমূহ বলছি। ফকীর ওই ব্যক্তি, যে মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না। আল্লাহর অবাধ্যতাকে মানুষের জন্য সহজ করে দেয় না। আল্লাহর ক্রোধ থেকে তাদেরকে নিরাপদ হওয়ার ধারণা দেয় না। কুরআন থেকে বিমুখ হয়ে অনাকুতির মুখী হয় না। যে ইবাদত জ্ঞানবিহীন হয় তাতে কোনো কল্যাণ নেই। আর যে জ্ঞানের মাঝে আল্লাহর ভয় নেই তাতেও কোনো কল্যাণ নেই। ওহী তেলাওয়াতেও কল্যাণ নেই যা বুঝে পাঠ করে না。

টিকাঃ
৫১০ হুলিয়াতুল আউলিয়া, ১ ম খণ্ড, ৭৭ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 উম্মে সালামা রা. ও আলী রা.

📄 উম্মে সালামা রা. ও আলী রা.


উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. আবু আব্দুল্লাহ আল জাদালী রা.-এর কাছে এসে রাসূল রা.-এর কথাগুলো শুনে আলী রা. তোমাদের সামনে কী রাসূল রা.-কে গালি দেওয়া হবে? তখন তিনি খুব ভীত হয়ে বললেন, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, কীভাবে তা হতে পারে?
তখন উম্মে সালামা রা. বললেন, আলী আর তাঁকে যারা পছন্দ করে তাদেরকে কী গালি দেওয়া হচ্ছে না?....আল্লাহর শপথ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, রাসূল রা. আলীকে ভালোবাসতেন。

টিকাঃ
৫১১ মুসনাদে আহমাদ, ৬ ষ্ঠ খণ্ড, ৩২৩ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00