📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 মৃতরা কথা বলছে

📄 মৃতরা কথা বলছে


একদিন সকালে আমীরুল মুমিনীন একাকীত্ব অনুভব করছিলেন। তখন তিনি মৃত, কবর ও আবেগের ইশারা নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করলেন। ভাবতে ভাবতে এক পর্যায়ে তিনি মদিনার কবরস্থানের দিকে পা বাড়ালেন। তিনি কবরস্থানে গিয়ে বললেন, হে কবরবাসী, তোমাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহ্‌র রহমত বর্ষিত হোক। তখন কবর থেকে একটি আওয়াজ ভেসে আসল, আমীরুল মুমিনীন, আপনার ওপরও শান্তি ও আল্লাহ্‌র রহমত বর্ষিত হোক। আমাদের পক্ষে কী হয়েছে সে সম্পর্কে আমাদেরকে বলুন। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তোমাদের স্ত্রীদের বিয়ে হয়ে গেছে, তোমাদের সম্পদ ভাগ হয়ে গেছে, তোমাদের সন্তানেরা ইয়াতীমের দলভুক্ত হয়ে গেছে, আর যে ঘর তোমরা বানিয়ে গেছ সে ঘরে এখন অন্যরা থাকছে। আমাদের কাছে এ সংবাদই আছে। তোমাদের কাছে কী সংবাদ? চারদিক থেকে আওয়াজ আসল, কাননগুলো ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, চুলগুলো চারদিক থেকে ছিটিয়ে পড়েছে, চামড়া টুকরো টুকরো হয়ে গেছে, চোখ দিয়ে শুধু অন্ধত্ব রয়ে যাচ্ছে, নাক দিয়ে ময়লা বের হচ্ছে, আমরা যা কিছু প্রেরণ করেছি তা পেয়েছি আর যা রেখে এসেছি তা হারিয়েছি, আর এখন আমরা এখানে বন্দি হয়ে আছি。

টিকাঃ
৪০৫ বুজ্জামু কারাতিসিল সাহাবা, ৯২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আলী সবচেয়ে প্রিয়

📄 আমার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আলী সবচেয়ে প্রিয়


নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফাতেমা রদিয়াল্লাহু আনহা-কে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে বহু বেশে পাঠালেন। ফাতেমা রদিয়াল্লাহু আনহা আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর ঘরে এসে বিছানায় একটি পাতলা চাদর, একটি বালিশ, একটি খন্দ ও একটি মগ ব্যতীত আর কিছুই পেলেন না। পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী রdiয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে এ বলে পাঠালেন যে, আমি না আসা পর্যন্ত তুমি তোমার স্ত্রীর কাছে যাবে না। কিছুক্ষণ পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এলেন। তিনি এসে পানি নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। পানি আনবার পর তিনি আল্লাহ্‌র ইচ্ছানুসারে দোয়া কালাম যা পড়ার পড়লেন। তারপর সে পানি আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর চেহারায় ছিটিয়ে দিলেন। তারপর তিনি ফাতেমা রদিয়াল্লাহু আনহা-কে ডাকলেন। তিনি আসার পর তাঁর উপরও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পানি ছিটিয়ে দিলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, জেনে রাখ, আমি আমার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তির সাথে তোমাকে বিয়ে দিয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললেন, নাও, তোমার পরিবারকে।
এরপর তিনি তাঁদের জন্য দোয়া করতে করতে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন。

টিকাঃ
৪০৬ ফাযায়েবুস সাহাবা, ১ম খণ্ড, ৫৬৭-৫৬৮ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আমি কীভাবে তোমাদের অভিভাবক

📄 আমি কীভাবে তোমাদের অভিভাবক


একদল লোক আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে আসলেন। তারা এসে বললেন, আসসালামু আলাইকুম, হে আমাদের অভিভাবক। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু আশ্চর্য হয়ে বললেন, আমি কীভাবে তোমাদের অভিভাবক হলাম। তখন তারা বললেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, আমি যার অভিভাবক আলীও তাঁর অভিভাবক। এ কথা শুনার পর তিনি তাদের পরিচয় জিজ্ঞেস করলেন। তখন কেউ একজন বলল, তারা আনসার গোত্রের লোক। তাদের মধ্যে আবু আইয়ুব আল আনসারীও ছিলেন。

টিকাঃ
৪০৭ ফাযায়েবুস সাহাবা, ২য় খণ্ড, ৫৭২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 যিনাকারিনী মহিলা

📄 যিনাকারিনী মহিলা


একদিন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু মদিনার পথে হাঁটছিলেন এমন সময় তিনি দেখলেন কিছু লোক এক মহিলাকে টেনে এনেছিল। তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু চিৎকার দিয়ে বললেন, এর কী হয়েছে? তারা বলল, সে যিনা করেছে, তাই আমীরুল মুমিনীন তাকে রজম (যিনাকারীকে পাথর মেরে হত্যা করা) করার নির্দেশ দিয়েছেন। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু সে মহিলাকে তাদের হাত থেকে নিয়ে ছেড়ে দিলেন এবং তাদেরকে কঠিনভাবে ধমকালেন। তখন তারা ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে ফিরে গিয়ে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু যা করেছেন তা জানাল। তাদের কথা শুনার পর ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সে না জেনে এমন করেনি। তাকে আমার কাছে পাঠাও। ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর নির্দেশ মতো আলী রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কাছে আসলেন। তাঁর চেহারা তখনো রাগের ভাব দেখা যাচ্ছিল। ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন, তোমার কী হলো, তুমি কেন এ লোকগুলো যিনাকারিনী মহিলার ওপর হদ কায়েম করতে বাধা দিয়েছ। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেননি, ‘তিনি ব্যক্তির থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, ছোট বাচ্চা যতদিন না সে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, পাগল যতক্ষণ না জ্ঞান ফিরে আসে।’ (কলম উঠিয়ে রাখা হয় মানে এ তিনজনের কাজের কোনো হিসাব হয় না।) ওমর রদিয়াল্লাহু আনহু মাথা নেড়ে বললেন, অবশ্যই আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি।
তখন আলী রা. মুক্তি হেসে বললেন, এ মহিলাকে মাঝে মাঝে মুশীরোগে আক্রান্ত করে যা পাগল হয়ে যাওয়ার মতো। মনে হয় তার মৃগী রোগে আক্রান্ত করা অবস্থায় পুরুষ লোকটি তার সাথে সহবাস করেছে। তখন ওমর রা. মহিলাটিকে ছেড়ে দিয়েছেন。

টিকাঃ
৫০৯ মুসনাদে আহমাদ, ১ ম খণ্ড, ১০০; ও আবু দাউদ ৪ র্থ খণ্ড, ১৪০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00