📄 আমার নানার মিম্বর থেকে নেমে যান
আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু খুব নম্রতা ও বিনয়ের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মিশরের বললেন। তিনি উপস্থিত লোকজনকে উপদেশ ও নসিহত করার পূর্বে হাসান রদিয়াল্লাহু আনহু দ্রুত এসে তাঁর কাপড় ধরে টেনে ধরে বললেন, আমার নানার মিশর থেকে নেমে যান। (হাসান রদিয়াল্লাহু আনহু তখনো ছোট ছিলেন।) তখন আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বিনয়ের সাথে বললেন, তুমি সত্য বলছ, এটি তোমার নানার স্থান। তারপর আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু হাসান রদিয়াল্লাহু আনহু-কে কোলে তুলে নিলেন। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুহব্বতে দুই চোখের পানি কেঁদে কাঁদতে লাগলেন।
আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তাকে এটি করতে নির্দেশ দেইনি। আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, তুমি সত্য বলেছ, আল্লাহর শপথ! আমি তোমাকে দোষারোপ করছি না。
টিকাঃ
৪০০ তারীখুল খুলাফা, ৮৮ পৃ.
📄 তোমার যদি ইচ্ছে হয় তবে ওই লোকটি যেন আলী হয়
এক আনসারী মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্য খাবার তৈরি করে তাঁকে ও তাঁর সাথীদেরকে দাওয়াত করলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহিলার দাওয়াতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে উঠলেন বসলেন আর লোকজন তাঁকে ঘিরে বসেছিলেন। তারা এ অবস্থায় ছিলেন, এমন সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের কাছে এখন এক জান্নাতী লোক আসবে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে বললেন, হায় আল্লাহ! তোমার যদি ইচ্ছা হয় তবে ওই লোকটি যেন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বরকতে তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-ই তাঁদের কাছে আসলেন। তখন তাঁরা তাঁকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষিত সুসংবাদ দিতে লাগলেন。
টিকাঃ
৪০১ মুসনাদে আহমদ, ৩য় খণ্ড, ৩৯৫ পৃ.
📄 আমার পেটে পবিত্র জিনিস ব্যতীত কিছু ঢুকাবো না
একদিন দুপুরে কা'বার কর্মচারী আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব রদিয়াল্লাহু আনহু- এর কাছে আসল। সে এসে আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর কক্ষের সামনে কোনো পর্দা দেখতে পায়নি। তাই সে অনুমতি নিয়ে তাঁর কাছে চলে আসল। সে এসে দেখতে পেল আলী রদিয়াল্লাহু আনহু উবু হয়ে বসে আছেন। তাঁর সামনে একটি পাত্র আর একটি পানি ভর্তি মগ। তারপর তিনি একটি ব্যাগ বের করলেন। তখন লোকটি মনে মনে বলল, নিশ্চয়ই তিনি আমাকে আমার আমানতের কারণে প্রতিদান দিবেন। হতে পারে তিনি প্রতিদান হিসেবে আমাকে মণিমুক্তা অথবা মূল্যবান কিছু দিবেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আলী রদিয়াল্লাহু আনহু ব্যাগটি খুললে তাতে কয়েক টুকরো রুটি দেখা গেল। তিনি তা একটি থালায় রেখে তাতে হালকা পানি ঢেলে দিলেন। তারপর তিনি লোকটিকে বললেন, আন, আমার সাথে খাও। তখন লোকটি আশ্চর্য হয়ে বলল, আপনি এগুলো খাচ্ছেন অথচ আপনি এখন ইরাকে। ইরাকে তো খাবারের অভাব নেই।
তার কথার উত্তরে তিনি দুনিয়াবাসীদের মতো বললেন, জেনে রাখ, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই এ রুটির টুকরোগুলো মদিনা থেকে আনা হয়েছে। কেননা আমি আমার পেটে পবিত্র জিনিস ব্যতীত কিছু ঢুকানোতে অপছন্দ করি。
টিকাঃ
৪০২ আল ইয়াতিম, ১ম খণ্ড, ৮২ পৃ.
📄 যে আলীকে কষ্ট দিল সে আমাকেই কষ্ট দিল
হুদায়াবিয়া উপস্থিত থাকা সাহাবীদের মধ্যে আমর বিন শাস আল আসলামী একজন। তিনি একবার আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে ইয়ামানে সফর করেছিলেন। পথে আমর রদিয়াল্লাহু আনহু-এর দ্বারা মনে হালকা আঘাত পেয়েছিলেন। এ কারণে তিনি তাঁর ওপর খুব রাগান্বিত হয়েছিলেন। যখন আমর রদিয়াল্লাহু আনহু মদিনায় আসলেন তখন তিনি মসজিদে এ ব্যাপারে মানুষের কাছে বলাবলি করতে লাগলেন। বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কানে গেল। একদিন সকালে আমর রদিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে আসলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন একজন সাহাবীর মাঝে বসেছিলেন। তাঁকে দেখার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমর, জেনে রাখ, আল্লাহর শপথ! তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ। তিনি ভীত হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি আপনাকে কষ্ট দেওয়া থেকে আল্লাহর কাছে পানা চাই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অবশ্যই তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ.........যে ব্যক্তি আলীকে কষ্ট দিল সে আমাকেই কষ্ট দিল。
টিকাঃ
৪০৩ আল মুসনাদ, ৩য় খণ্ড, ৬৭০ পৃ.