📄 সাহসী বালক
একদিন আলী ﷺ দেখতে পেলেন তাঁর ছেলে চুপি চুপি নবী ﷺ-এর পিছনে নামাজ পড়ছিলেন।
তিনি প্রথম দেখলেন যে, তাঁর ছেলেটি নবী ﷺ-এর অনুসরণ করছে, তাঁর ধর্মই সন্তুষ্ট হয়েছে এবং কুরাইশদের উপাস্য দেবদেবীকে বর্জন করেছে। নামাজ শেষ হওয়ার পর তাঁর ছেলে তাঁকে ছুটে এসে বলল, হে আমার বাবা, ......আমি আল্লাহ্ ও তাঁর ঈমান এনেছি, তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি, তিনি যে ওহী নিয়ে আগমন করেছেন সে ওহীর ওপর ঈমান এনেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি।
তখন আলী ﷺ মৃদু হেসে বললেন, জেনে রাখ, তিনি তোমাকে ভালো ব্যতীত অন্য কোনো পথে ডাকবেন না, সুতরাং তাঁর সাথে লেগে থাক。
টিকাঃ
১০৭ খুলাফায়ে রাসূল, ৪৪৬-৪৪৭ পৃ.
📄 তিন দিরহামের কাপড়
একদিন আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব ﷺ একটি নতুন জামা ক্রয় করতে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলেন। হাঁটতে হাঁটতে তিনি এক কাপড় বিক্রেতার কাছে গিয়ে পৌঁছলেন।
তিনি ওই বিক্রেতার কাছে তিন দিরহামে একটি জামা বিক্রয় কর। লোকটি যখন আমীরুল মুমিনীন আলী ﷺ-কে চিনতে পারল তখন আলী ﷺ লোকটি ন্যায্যমূল্য না নেওয়ার ভয় করলেন। কেননা তিনি আমির এ কথা সে জেনে গেছে। এ কারণে তিনি তাঁর থেকে যা কিনে অন্য কোথাও চলে গেলেন। তিনি যে বিক্রেতার কাছেই গেলেন সেই তাকে চিনে ফেলল। এ কারণে একবার এ এক করে যেতে যেতে অবশেষে এ ছোট বালক কাছে গেলেন। বালকটি তাঁকে চিনতে পারল, না। তখন তিনি ওই বালক থেকে তিন দিরহাম দিয়ে একটি জামা কিনলেন। যে জামাটি হাতের কব্জি ও পায়ের টাখনু পর্যন্ত। তিনি তা গায়ে দিয়ে নিলেন।
এর কিছুক্ষণ পর দোকানের মালিক আসল, তখন তাকে কেউ একজন বলল, তোমার ছেলে আমীরুল মুমিনীনকে আলী ﷺ তিন দিরহামে বিক্রি করেছে। তুমি কী তা দুই দিরহামে বিক্রি করতে না?
তখন লোকটি এক দিরহাম নিয়ে আমীরুল মুমিনীন আলী ﷺ-এর কাছে ছুটে গিয়ে বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি দিরহামটি নিন, এটি আপনার দিরহাম। আলী ﷺ অবাক হয়ে বললেন, নিশ্চয়ই এটা আমার দিরহাম না।
লোকটি বলল, আপনি যে জামাটি ক্রয় করেছেন, সেটির মূল্য দুই দিরহাম, কিন্তু আমার ছেলে তিন দিরহামে আপনার কাছে বিক্রি করেছে।
এ কথা শুনে আলী ﷺ হেসে বললেন, তোমার ছেলে আমাকে রাজি করেই বিক্রি করেছে। আর আমি তাঁকে রাজি রেখে তা ক্রয় করেছি। (অর্থাৎ উভয়ে এ বেচা কেনার ওপর রাজি ছিলাম。
টিকাঃ
১০৮ মুস্তাদরাকু কামিল, ৩য় খণ্ড, ৩১ পৃ.
📄 আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন
রাসূল ﷺ দিন-রাত তিন বছর পর্যন্ত গোপনে গোপনে মানুষকে আল্লাহ্র দিকে আহ্বান করতে লাগলেন। এ কাজে তিনি ক্লান্তিকে ক্লান্তি মনে করতেন না, কষ্টকে কষ্ট মনে করতেন না। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেন.... وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ "আপনার নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করুন।" (সূরা শু'আরা : ২১৪)
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর তিনি আব্দুল মুত্তালিবের সকল সন্তানকে একত্রিত করলেন। তিনি তাদের জন্যে খাবার ও পানীয়র ব্যবস্থা করলেন। তারা খেয়ে ও পান করে পূর্ণ পরিতৃপ্ত হলো, কিন্তু শুধু খাওয়ার আর পানীয় যতটুকু ছিল ততটুকুই রয়ে গেল। সেগুলো একটুও কমেনি।
তারপর নবী ﷺ বললেন, হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানেরা! আমি বিশেষ করে তোমাদের জন্যে আর সাধারণভাবে সকলের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। তারপর তিনি তাদেরকে আয়াত তিলাওয়াত করে শুনালেন।
এরপর বললেন, সুতরাং তোমাদের মধ্যে কে আমার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে আমার ভাই ও আমার সাথি হবে?
তারা কেউ কোনো কথা বলল না। সকলের মাঝে নীরবতা বিরাজ করছিল। মনে হচ্ছিল কোনো পাখি মাথার বসে আছে আর তারা নড়াচড়াও করছিল না। হঠাৎ সকলের নীরবতা ভেঙে দিয়ে আলী নামের এক ছোট বালক বললেন, আমি।
তিনি হচ্ছেন আলী বিন আবু তালিব ﷺ যিনি সকলের নীরবতা ভেঙে দিয়ে রাসূল ﷺ-এর ডাকে সাড়া দিলেন।
তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বললেন, আমি .... আমি আপনার ভাই ও সাথি হব।
তাঁর থেকে সাড়া পেয়ে নবী ﷺ-এর চেহারায় হাসি ফুটে উঠল। তিনি তাঁকে বললেন, তুমি বস।
আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বসে পড়লেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার কথাগুলো বললেন, কিন্তু তখনো তাঁর পাশে বসা আলী রদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত আর কেউ তাঁর কথায় সাড়া দিল না। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি আপনার ভাই ও সাথি হবো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে আবারো বললেন, তুমি বস, তিনি বসে গেলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবারো কথাগুলো বললেন। তখনো আলী রদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত আর কেউ তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল না। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু আবারো বললেন, আমি.........আমি আপনার ভাই ও সাথি হবো। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর এমন কাজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুশি হয়ে পবিত্র হাত দিয়ে তাঁর বুকে দৃঢ়ভাবে আঘাত করে তাঁর কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন。
টিকাঃ
৩৯৮ ফাযায়েলে সাহাবা, ১ম খণ্ড, ৫৪৮ পৃ.
📄 আলী রা.-এর জন্যে নবী সা.-এর দোয়া
একটি বিছানার উপর আলী রদিয়াল্লাহু আনহু শুয়েছিলেন। তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত করেছে। তিনি বসির মতো বাড়িতে দিন কাটাতে লাগলেন। তিনি ক্ষীণকণ্ঠে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ, যদি আমার মৃত্যু নিকটবর্তী হয় তবে মৃত্যু দান করুন আর যদি বিলম্বিত হয় তবে আমাকে স্বাস্থ্যবান জীবন দিন। যদি এটি পরীক্ষা হয় তবে ধৈর্যধারণ করার তাওফীক দান করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জন্য দোয়া শুনতে পেলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কপাল প্রসারিত করে বললেন, আলী তুমি কী বলে দোয়া করলে? তখন আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বিষয়টি দ্বিতীয়বার বললেন। তাঁর দোয়া শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাত তুলে বললেন, হায় আল্লাহ, তাকে সুস্থ করে দাও। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দোয়ার পর আমার আর এ ব্যথার অভিযোগ করতে হয়নি। (অর্থাৎ আমার আর এ অসুখ হয়নি。)
টিকাঃ
৩৯৯ দালায়েলুন নুবুওয়াহ লিল বায়হাকী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৭৯ পৃ.