📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 প্রতি নেকে দশগুণ

📄 প্রতি নেকে দশগুণ


ছেঁড়া কাপড় পরিহিত দুর্বল শরীরের এক গরিব লোক আলী ﷺ-এর কাছে খাবার চাইল।
তখন আলী ﷺ তাঁর ছেলে হাসান ﷺ-কে বললেন, তুমি তোমার মায়ের কাছে গিয়ে তাকে বল, বাবা তোমার কাছে যে ছয় দিরহাম রেখে গেছে, সেখান থেকে এক দিরহাম দাও।
হাসান ﷺ তাঁর মায়ের কাছ থেকে ফিরে এসে বললেন, তুমি তো ছয় দিরহাম গম ক্রয় করার জন্যে রেখেছ।
তখন আলী ﷺ বললেন, ওই বান্দার ঈমান পরিপূর্ণ হয় না যে নিজের হাতে যা আছে তার থেকে আল্লাহ্ যা হতে যা আছে তা পাওয়ার অধিক আশাবাদী না হয়।
তারপর তিনি হাসান ﷺ-কে বললেন, তুমি গিয়ে তাকে দুই দিরহাম গিয়ে দিতে বল।
তখন ফাতেমা ﷺ ছয় দিরহাম পুরাই পাঠিয়ে দিলেন। আলী ﷺ সেগুলো ভিখুককে দিয়ে দিলেন।
আলী ﷺ সেখান থেকে উঠার আগেই এক লোক তার পাশ দিয়ে উট নিয়ে যাচ্ছিল। সে উটটি বিক্রয় করতে চাইল।
তিনি লোকটিকে বললেন, উটের নাম কত?
সে বলল, একশত চল্লিশ দিরহাম।
তিনি বললেন, তুমি আমার কাছে এটি বিক্রি কর, আমি তোমাকে কিছুক্ষণ পর মূল্য পরিশোধ করে দিব। লোকটি তাঁর কথাতে রাজি করল। এরপর সে লোকটি যৌখিক থেকে এসেছে সেদিকে ফিরে গেল।
কিছুক্ষণ পর সেখান দিয়ে আরেকজন লোক আসল। সে এসে বলল, এ উটটি কার?
আলী ﷺ বললেন, আমার।
লোকটি বলল, তুমি কী তা বিক্রি করবে?
তিনি বললেন, হ্যাঁ।
লোকটি বলল, কততে বিক্রি করবে?
তিনি বললেন, দুই শত দিরহামে।
লোকটি বলল, আমি তা কিনে নিলাম।
লোকটি উট নিয়ে গেল আর তাঁকে দুইশত দিরহাম দিয়ে গেল। আলী ﷺ ওই দুইশত দিরহাম থেকে যার কাছ থেকে মূলো নিয়ে গিয়েছিলেন তাকে একশত চল্লিশ দিরহাম দিলেন। আর বাকি ষাট দিরহাম নিয়ে ফাতেমা ﷺ-এর কাছে গেলেন।
তিনি তা দেখে বললেন, এগুলো কী?
আলী ﷺ বললেন, এগুলো তা, যা আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূলের মাধ্যমে আমাদেরকে ওয়াদা দিয়েছিলেন।
مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا وَمَنْ جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ
لَا يُظْلَمُونَ-
“যে একটি সৎকাজ করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে, একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুত তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।” (সূরা আন’আম : ১৬০)

টিকাঃ
৯৯ আদ্ দোরুসিল মুস্তাম্বাতিল আলীল বিন আবু তালিব মিনাল ইলাল ইলমাইন ইসতিফহাজাল, ৬৩ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সাহসী বালক

📄 সাহসী বালক


একদিন আলী ﷺ দেখতে পেলেন তাঁর ছেলে চুপি চুপি নবী ﷺ-এর পিছনে নামাজ পড়ছিলেন।
তিনি প্রথম দেখলেন যে, তাঁর ছেলেটি নবী ﷺ-এর অনুসরণ করছে, তাঁর ধর্মই সন্তুষ্ট হয়েছে এবং কুরাইশদের উপাস্য দেবদেবীকে বর্জন করেছে। নামাজ শেষ হওয়ার পর তাঁর ছেলে তাঁকে ছুটে এসে বলল, হে আমার বাবা, ......আমি আল্লাহ্ ও তাঁর ঈমান এনেছি, তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছি, তিনি যে ওহী নিয়ে আগমন করেছেন সে ওহীর ওপর ঈমান এনেছি এবং তাঁর অনুসরণ করেছি।
তখন আলী ﷺ মৃদু হেসে বললেন, জেনে রাখ, তিনি তোমাকে ভালো ব্যতীত অন্য কোনো পথে ডাকবেন না, সুতরাং তাঁর সাথে লেগে থাক。

টিকাঃ
১০৭ খুলাফায়ে রাসূল, ৪৪৬-৪৪৭ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 তিন দিরহামের কাপড়

📄 তিন দিরহামের কাপড়


একদিন আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবু তালিব ﷺ একটি নতুন জামা ক্রয় করতে বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলেন। হাঁটতে হাঁটতে তিনি এক কাপড় বিক্রেতার কাছে গিয়ে পৌঁছলেন।
তিনি ওই বিক্রেতার কাছে তিন দিরহামে একটি জামা বিক্রয় কর। লোকটি যখন আমীরুল মুমিনীন আলী ﷺ-কে চিনতে পারল তখন আলী ﷺ লোকটি ন্যায্যমূল্য না নেওয়ার ভয় করলেন। কেননা তিনি আমির এ কথা সে জেনে গেছে। এ কারণে তিনি তাঁর থেকে যা কিনে অন্য কোথাও চলে গেলেন। তিনি যে বিক্রেতার কাছেই গেলেন সেই তাকে চিনে ফেলল। এ কারণে একবার এ এক করে যেতে যেতে অবশেষে এ ছোট বালক কাছে গেলেন। বালকটি তাঁকে চিনতে পারল, না। তখন তিনি ওই বালক থেকে তিন দিরহাম দিয়ে একটি জামা কিনলেন। যে জামাটি হাতের কব্জি ও পায়ের টাখনু পর্যন্ত। তিনি তা গায়ে দিয়ে নিলেন।
এর কিছুক্ষণ পর দোকানের মালিক আসল, তখন তাকে কেউ একজন বলল, তোমার ছেলে আমীরুল মুমিনীনকে আলী ﷺ তিন দিরহামে বিক্রি করেছে। তুমি কী তা দুই দিরহামে বিক্রি করতে না?
তখন লোকটি এক দিরহাম নিয়ে আমীরুল মুমিনীন আলী ﷺ-এর কাছে ছুটে গিয়ে বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনি দিরহামটি নিন, এটি আপনার দিরহাম। আলী ﷺ অবাক হয়ে বললেন, নিশ্চয়ই এটা আমার দিরহাম না।
লোকটি বলল, আপনি যে জামাটি ক্রয় করেছেন, সেটির মূল্য দুই দিরহাম, কিন্তু আমার ছেলে তিন দিরহামে আপনার কাছে বিক্রি করেছে।
এ কথা শুনে আলী ﷺ হেসে বললেন, তোমার ছেলে আমাকে রাজি করেই বিক্রি করেছে। আর আমি তাঁকে রাজি রেখে তা ক্রয় করেছি। (অর্থাৎ উভয়ে এ বেচা কেনার ওপর রাজি ছিলাম。

টিকাঃ
১০৮ মুস্তাদরাকু কামিল, ৩য় খণ্ড, ৩১ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন

📄 আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন


রাসূল ﷺ দিন-রাত তিন বছর পর্যন্ত গোপনে গোপনে মানুষকে আল্লাহ্র দিকে আহ্বান করতে লাগলেন। এ কাজে তিনি ক্লান্তিকে ক্লান্তি মনে করতেন না, কষ্টকে কষ্ট মনে করতেন না। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা নাযিল করলেন.... وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ "আপনার নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করুন।" (সূরা শু'আরা : ২১৪)
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর তিনি আব্দুল মুত্তালিবের সকল সন্তানকে একত্রিত করলেন। তিনি তাদের জন্যে খাবার ও পানীয়র ব্যবস্থা করলেন। তারা খেয়ে ও পান করে পূর্ণ পরিতৃপ্ত হলো, কিন্তু শুধু খাওয়ার আর পানীয় যতটুকু ছিল ততটুকুই রয়ে গেল। সেগুলো একটুও কমেনি।
তারপর নবী ﷺ বললেন, হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানেরা! আমি বিশেষ করে তোমাদের জন্যে আর সাধারণভাবে সকলের জন্য রাসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। তারপর তিনি তাদেরকে আয়াত তিলাওয়াত করে শুনালেন।
এরপর বললেন, সুতরাং তোমাদের মধ্যে কে আমার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে আমার ভাই ও আমার সাথি হবে?
তারা কেউ কোনো কথা বলল না। সকলের মাঝে নীরবতা বিরাজ করছিল। মনে হচ্ছিল কোনো পাখি মাথার বসে আছে আর তারা নড়াচড়াও করছিল না। হঠাৎ সকলের নীরবতা ভেঙে দিয়ে আলী নামের এক ছোট বালক বললেন, আমি।
তিনি হচ্ছেন আলী বিন আবু তালিব ﷺ যিনি সকলের নীরবতা ভেঙে দিয়ে রাসূল ﷺ-এর ডাকে সাড়া দিলেন।
তিনি দ্বিতীয়বারের মতো বললেন, আমি .... আমি আপনার ভাই ও সাথি হব।
তাঁর থেকে সাড়া পেয়ে নবী ﷺ-এর চেহারায় হাসি ফুটে উঠল। তিনি তাঁকে বললেন, তুমি বস।
আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বসে পড়লেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবার কথাগুলো বললেন, কিন্তু তখনো তাঁর পাশে বসা আলী রদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত আর কেউ তাঁর কথায় সাড়া দিল না। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি আপনার ভাই ও সাথি হবো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে আবারো বললেন, তুমি বস, তিনি বসে গেলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবারো কথাগুলো বললেন। তখনো আলী রদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত আর কেউ তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল না। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু আবারো বললেন, আমি.........আমি আপনার ভাই ও সাথি হবো। আলী রদিয়াল্লাহু আনহু-এর এমন কাজে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুশি হয়ে পবিত্র হাত দিয়ে তাঁর বুকে দৃঢ়ভাবে আঘাত করে তাঁর কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন。

টিকাঃ
৩৯৮ ফাযায়েলে সাহাবা, ১ম খণ্ড, ৫৪৮ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00