📄 আলী রা. ও স্বর্ণের পাত্র
আলী ﷺ-এর আযাদকৃত দাস কানবার তাঁর তেলের জন্যে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি এমন একজন লোক যার কোনোকিছুই নেই। নিশ্চয়ই এ সম্পদে আপনার পরিবারবর্গ অংশ আছে। যা তারা আপনার জন্যে লুকিয়ে রেখেছে। আলী ﷺ অবাক হয়ে বলল, সেটা কী? কানবার বলল, আমার সাথে চলুন। কানবার চলতে লাগল আর তার সাথে সাথে আমীরুল মুমিনীন আলী ﷺ-ও চলতে লাগলেন। যেতে যেতে সে তাঁকে একটি ছোট ঘরে নিয়ে আসল। তাতে বিশাল চাদা দ্বারা কয়েকটি পাত্র ঢাকা ছিল। আলী ﷺ পাত্রগুলো খুলে দেখলেন সেগুলো স্বর্ণ-রূপায় ভর্তি। তিনি সেইগুলোকে দেখে বললেন, তোমার যা তোমাকে হারাতো! তুমি তো আমার ঘরে বিশাল জাহান্নাম ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছ। তারপর তিনি স্বর্ণ-রৌপ্যগুলো ওজন করে মানুষের মাঝে বন্টন করে দিলেন। আর বললেন, হে দুনিয়া, আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে ধোঁকা দাও (অর্থাৎ আমাকে ধোঁকা দিও না)。
টিকাঃ
৫৭১ আবু আব্দুল্লাহ ইমাম আহমদ, ১৯৩ পৃ.
📄 আওলীয়াদের প্রতি আল্লাহর সাহায্য
আসরের একটু পূর্বে........... সা'দ বিন আবু ওয়াক্কাস ﷺ মদিনার বাজারে ঘুরাঘুরি করছিলেন। ইঁটতে ইঁটতে তিনি আযিহারায় জায়াত নামক স্থানে চলে গেলেন। সেখানে দেখতে পেলেন এক লোক বাহনে আরোহণ করে আছে, আর তার চারপাশ দিয়ে লোকজন ঘিরে আছে। সে চিৎকার দিয়ে আলী ﷺ-এর বিরুদ্ধে বলে যাচ্ছে। তখন সা'দ ﷺ বললেন, কী হয়েছে? এক লোক বলল, এ ইব্রাহিম লোকটি আলী ﷺ-কে অপমান করে কথা বলছে। এ কথা শুনে রেগে সা'দ ﷺ মানুষের ভিড় ঠেলে দ্রুত ওই লোকটির কাছে গেল। তার কাছে গিয়ে তিনি তাকে বললেন, এই, তুমি আলীকে কী কারণে অপমান করছ? তিনি প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী নন? তিনি কী প্রথম রাসূল ﷺ-এর সাথে নামাজ আদায়কারী নন? তিনি কী সবার চেয়ে বেশি দুনিয়াবীরাগী নন? তিনি কী সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি নন? তিনি রাসূল ﷺ-এর জামাতা নন? তিনি মুখে রাসূল ﷺ-এর পতাকা বহন করেননি? তারপর সা'দ ﷺ একবার দিক ফিরে দুই হাত তুলে এ ইরানি লোকটির বিরুদ্ধে বদদোয়া করতে শুরু করলেন। তিনি কাতর কণ্ঠে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ্! এ লোক তোমার ওলীদের একজনের মানহানি করছে। সুতরাং এ সমাবেশ ডাক্তার আগেই তুমি তোমার ক্ষমতা দেখিয়ে দাও।
আল্লাহর শপথ! এরপর মানুষ ফিরে যাওয়ার আগেই ওই ইরানি লোকটির উটনী রেগে তাকে আছাড় দিল। এতে সে দুইটি পাথরের মাঝে গিয়ে পড়ল। পাথরের আঘাতে তার মাথা ফেটে রক্ত বের হতে লাগল। আর সে সেখানেই মারা গেল。
টিকাঃ
৯৬ আল মুসতাদরাক লিল হাকিম, ৩য় খণ্ড, ৪০০ পৃ.
📄 আলী রা. ও দুর্গের দরজা
যুদ্ধ ভয়াবহভাবে চলতে লাগল। যোদ্ধাদের মাথার পাশে মৃত্যু ঘুরঘুর করছিল। আলী ﷺ প্রাণপণ আক্রমণ চালাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর বক্ষ শাহাদাতের জন্যে উন্মুক্ত করে দিলেন। তিনি ভয় ভীতিহীনভাবে লড়াই করতে লাগলেন। এমনকি তিনি দুর্গের ভেতরে প্রবেশ করার একটি পথও তৈরি করে ফেলছিলেন এবং দুর্গতি বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেলেন। এমন সময় দুর্গের কিছু পাহারাদার এসে তাঁর ওপর হামলা চালায়। তাদের একজন তাঁকে এমন এক আঘাত করল যে, সাথে সাথে তাঁর ঢাল হাত থেকে পড়ে গেল।
তখন তিনি চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলেন, আল্লাহ্ শপথ! হয় আমি হামযার মতো শাহাদাতের স্বাদ ভোগ করব অথবা আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে বিজয় দান করবেন।
তিনি দ্রুত গিয়ে দুর্গের পাশে পড়ে থাকা একটি পুরাতন দরজা ঢাল হিসেবে তুলে নিলেন। এমনকি খায়বার বিজয় শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি ওই দরজাটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
রাসূল ﷺ-এর আযাদকৃত দাস আবু রাফে যিনি আলী ﷺ-এর বাহিনীতে ছিলেন। তিনি বলেন, যে দরজাটি আলী ﷺ যুদ্ধের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন যুদ্ধ শেষে সে দরজাটি আমি ও আমার সত্ত্বরজন লোক তুলতে চেষ্টা করেছি তবু মাটি থেকে উপরে তুলতে পারিনি。
টিকাঃ
৯৭ আল বায়হাকী ফি দালায়েলুন নুবুওয়াত, ৪খ. ১৮২ পৃ.
📄 ফাতেমা রা. একজন গোলাম চাইলেন
সূর্য ঘুম থেকে জেগে উঠে তার সোনালি রশ্মি চারিদিকে ছড়িয়ে দেওয়ার আগেই ফাতেমা ﷺ উঠে তার কাজ সমাধান করতে লেগে যান। অথচ তিনি রাসূল ﷺ-এর পরিবার-পরিজনের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ছিলেন।
তিনি যব পিষে সেগুলো ছাতুতে এনে তাঁর হাত ব্যথায় ফুলে উঠত। তারপর পানির মশক বহন করে পানি নিয়ে আসতেন। বাড়ি নিজ হাতে ঘর ঝাড়ু দিতেন। এতে তাঁর অনেক কষ্ট হতো। এমনকি তাঁর ওড়নার উপরের অংশেও ধুলো-বালি লেগে যেত। এরপর তিনি চুলায় পাত্র রেখে রান্না শুরু করতেন। রান্না তৈরি করতে গিয়ে দেখা যেত তাঁর পরিহিত কাপড় ময়লা হয়ে গেছে। এতসব কাজ একা শেষ করতে দিতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তেন।
একদিন রাসূল ﷺ-এর কাছে কিছু বন্দি ও গোলাম আসল। তখন আলী ﷺ ফাতেমা ﷺ-এর কাছে ছুটে গিয়ে বললেন, ফাতেমা, রাসূল ﷺ-এর কাছে কিছু খাদেম ও গোলাম এসেছে। তুমি তাঁকে গিয়ে একজন খাদেম দিতে বল।
ফাতেমা নবী ﷺ-এর কাছে গিয়ে একজন খাদেম চাইলেন, কিন্তু নবী ﷺ তাঁকে কোনো খাদেম দিলেন না।
তিনি তাঁকে বললেন, আমি কী তোমাকে খাদেম থেকেও উত্তম কিছু বলে দিব না? যখন তুমি তোমার বিছানায় যাবে (রাতে ঘুমাতে যাবে) তখন সুবহানাল্লাহ তেত্রিশ বার বলবে, আল হামদুলিল্লাহ তেত্রিশ বার বলবে আর আল্লাহু আকবার চৌত্রিশ বার বলবে।
তখন ফাতেমা ﷺ লাজুকতার সাথে মাথা তুলে বললেন, আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ওপর সন্তুষ্ট।……আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ওপর সন্তুষ্ট। এ কথা বলে তিনি ফিরে গেলেন。
টিকাঃ
৯৮ রিয়াজুস সাহাবা, ২য় খণ্ড, ৭০৬ পৃ.। ফার্মা-১৬