📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 বিচারের সম্মুখীন আমীরুল মুমিনীন

📄 বিচারের সম্মুখীন আমীরুল মুমিনীন


আলী ﷺ একটি বর্ম হারিয়ে ফেলেছিলেন। পরে তিনি তা এক ইহুদির হাতে দেখতে পেলেন। তখন তিনি ইহুদিকে বললেন, এটিতো আমার বর্ম, আমি তো কাউকে তা দান করিনি অথবা বিক্রয় করিনি। ইহুদি বলল, এটি আমার বর্ম, আর এটিতো আমার হাতেই। তিনি বললেন, আমরা বিচারকের কাছে যাব। এ কথা বলে উভয়ে বিচারক ওরাইহের কাছে রওনা দিলেন। ওরাইহ বললেন, আমীরুল মুমিনীন, আপনার অভিযোগ পেশ করুন।
আলী ﷺ বললেন, এ ইহুদির হাতে যে বর্মটি এটি আমার বর্ম। আমি কাউকে তা দানও করিনি, কারো কাছে বিক্রয়ও করিনি। তারপর ওরাইহ ইহুদিকে বললেন, হে ইহুদি, এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন। ইহুদি বলল, এটি আমার বর্ম আর এটিতো আমার হাতেই। ওরাইহ আলী ﷺ-কে বললেন, আপনার কোনো প্রমাণ আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমার আযাদকৃত দাস কানবার ও আমার ছেলে হাসান আছে, তারা সাক্ষ্য দিবে এটি আমার। তখন ওরাইহ বললেন, বাবার পক্ষে ছেলের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং বর্মটি ইহুদি'র।
মুসলিম বিশ্বের খলিফা আমীরুল মুমিনীন আলী ﷺ-এর বিরুদ্ধে বিচারক রায় দেওয়ার কারণে ইহুদি অবাক হলো। সে চিৎকার দিয়ে বলতে লাগল, আমীরুল মুমিনীন আমাকে বিচারকের কাছে নিয়ে এসেছেন, আর বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি এটি (ধর্ম) সত্য। আর আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। আর এ বর্মটি আপনার, আমীরুল মুমিনীন。

টিকাঃ
৫৬৮ তারিখুল খুলাফা, ১২-১৩৯ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 সেদিন কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে আর কিছু চেহারা কালো হয়ে যাবে

📄 সেদিন কিছু চেহারা উজ্জ্বল হবে আর কিছু চেহারা কালো হয়ে যাবে


আমীরুল মুমিনীন ওমর ﷺ আলী ﷺ-কে এক খণ্ড জমিন দিলেন। আলী ﷺ জমিনটি কিনে নিতে তাতে পানির জন্য একটি কূপ খনন করতে নির্দেশ দিলেন। লোকজন কূপ খনন করতে গিয়ে দেখতে পেল নিচ থেকে শীতল মিষ্টি পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তখন তারা আলী ﷺ-কে এ সুসংবাদ দিতে দ্রুত ছুটে গেল। তিনি বিনয়ের সাথে মাথা তুলে বললেন, এটি উত্তরাধিকারীদেরকে আনন্দ দিবে। এবং তিনি উচ্চ আওয়াজে বললেন, হে লোক সকল, আমি আল্লাহকে সাক্ষ্য রেখে, এরপর তোমাদের সাক্ষ্য রেখে এ কূপটি ও জমিনটি যুদ্ধ বা শান্তি সব সকলের জন্য গরীব-মিসকীন, মুসাফির, আল্লাহ্র রাস্তার মুজাহিদ, কাছে-দূরের সকলের জন্য সাকা করে দিলাম, সে দিনের নাজাতের জন্যে যেদিন কিছু চেহারা হাস্যোজ্জ্বল হবে আর কিছু চেহারা কালো হবে। যাইহোক আল্লাহ তা’আলা আমার চেহারা থেকে জাহান্নামকে দূরে রাখবেন আর জাহান্নাম থেকে আমাকে দূরে রাখবেন。

টিকাঃ
৫৬৯ তারিখুন মদিনাতুল মুনাওয়ারাহ, ১ ম খণ্ড, ২২০ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 রুটির মালিক

📄 রুটির মালিক


রাস্তার পাশে দুই লোক খাবার খেতে বসেছে। তাদের একজনের কাছে পাঁচটি রুটি ছিল, আর অন্যজনের কাছে তিনটি রুটি ছিল। তারা যখন খাওয়ার জন্যে রুটি বের করলে রাখল তখন তাদের পাশ দিয়ে এক লোক যাচ্ছিল। সে তাদেরকে সালাম দিল। তখন তারা দুইজন বলল, বসুন, আমাদের সাথে খাবার গ্রহণ করুন। তাদের অনুরোধে লোকটি তাদের সাথে খাবার খেল। তারা সকলে এই আটটি রুটিকে সমান তিনভাগে ভাগ করে প্রত্যেককে চব্বিশ অংশের আট অর্থ করে খেল। খাওয়া শেষে লোকটি তাদেরকে আট দেরহাম দিয়ে বলল, আমি আপনাদের খাবার যতটুকু খেয়েছি তার মূল্য হিসেবে এ আট দেরহাম রাখুক। লোকটি চলে যাওয়ার পর রুটিওয়ালা ওই দুই লোক দেরহাম ভাগাভাগি করতে গিয়ে ঝগড়া শুরু করল। যার রুটি পাঁচটি ছিল সে বলল, আমি পাঁচ দেরহাম নিব আর তুমি তিন দেরহাম নিবে। আর যার রুটি তিনটি ছিল সে বলল, না; বরং দেরহাম সমানভাগে ভাগ হবে। অর্থাৎ চার দেরহাম করে ভাগ হবে। তখন তারা দুইজন আলী ﷺ-এর কাছে গেল। তারা তাঁকে বিস্তারিত ঘটনাটি শুনাল। তখন আলী ﷺ রুটিওয়ালাদেরকে বললেন, তোমার সাথী তোমাকে যা দিয়েছে তা নিয়ে নাও। তার রুটি তোমার থেকেও বেশি। সুতরাং তিন দেরহাম নেওয়াটাই তোমার জন্যে উত্তম। লোকটি রাগের সাথে বলল, আমি আমার পূর্ণ অধিকার গ্রহণ করব। তার কথামত আলী ﷺ বললেন, তুমি মাত্র এক দেরহাম পাবে, আর তোমার সাথী সাত দেরহাম পাবে। লোকটি বলল, সুবহানাল্লাহ, আমাকে বুঝিয়ে বলুন তা কীভাবে, তাহলে আমি নিব। তিনি বললেন, আটটি রুটি কী তিন ভাগ করলে চব্বিশ টুকরা হয়নি? যখন সেই চব্বিশ তিনজনের ভাগে ভাগ করা হলো তখন প্রত্যেককে আট টুকরো করে পেয়েছে। তোমার তিনটি রুটি হয়েছে নয় টুকরো, তার মধ্যে তুমি নিজেই খেয়েছ আট টুকরো। সুতরাং ওই লোক যে আট টুকরো খেয়েছে সে তোমার রুটি থেকে মাত্র এক টুকরো খেয়েছে, সুতরাং তুমি মাত্র এক দেরহাম পাবে। আর পাঁচ রুটি ওয়ালা, তার রুটি হয়েছে পনেরো টুকরো, তার মধ্যে সে খেয়েছে আট টুকরো। আর বাকি সাত টুকরো ওই লোক খেয়েছে, সুতরাং তোমার সাথী সাত দেরহাম পাবে।
তখন লোকটি মুক্তি হলো বলল, এখন আমি বুঝি, আর ব্যাপারটি আমার বুঝে ও এসেছে。

টিকাঃ
৫৭০ তারিখুল খুলাফা, ২৮১-২৮২ পৃ.

📘 খোলাফায়ে রাশেদীনের ৬০০ শিক্ষণীয় ঘটনাবলী > 📄 আলী রা. ও স্বর্ণের পাত্র

📄 আলী রা. ও স্বর্ণের পাত্র


আলী ﷺ-এর আযাদকৃত দাস কানবার তাঁর তেলের জন্যে বলল, আমীরুল মুমিনীন, আপনি এমন একজন লোক যার কোনোকিছুই নেই। নিশ্চয়ই এ সম্পদে আপনার পরিবারবর্গ অংশ আছে। যা তারা আপনার জন্যে লুকিয়ে রেখেছে। আলী ﷺ অবাক হয়ে বলল, সেটা কী? কানবার বলল, আমার সাথে চলুন। কানবার চলতে লাগল আর তার সাথে সাথে আমীরুল মুমিনীন আলী ﷺ-ও চলতে লাগলেন। যেতে যেতে সে তাঁকে একটি ছোট ঘরে নিয়ে আসল। তাতে বিশাল চাদা দ্বারা কয়েকটি পাত্র ঢাকা ছিল। আলী ﷺ পাত্রগুলো খুলে দেখলেন সেগুলো স্বর্ণ-রূপায় ভর্তি। তিনি সেইগুলোকে দেখে বললেন, তোমার যা তোমাকে হারাতো! তুমি তো আমার ঘরে বিশাল জাহান্নাম ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছ। তারপর তিনি স্বর্ণ-রৌপ্যগুলো ওজন করে মানুষের মাঝে বন্টন করে দিলেন। আর বললেন, হে দুনিয়া, আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে ধোঁকা দাও (অর্থাৎ আমাকে ধোঁকা দিও না)。

টিকাঃ
৫৭১ আবু আব্দুল্লাহ ইমাম আহমদ, ১৯৩ পৃ.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00