📄 হাসান রা.-এর নাম রাখলেন নবী সা.
আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ বলেন, যখন হাসান জন্মগ্রহণ করল, আমি তাঁর নাম রাখলাম হারব। এরই মধ্যে নবী ﷺ এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার নাতির কী নাম রেখেছ? আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ বললেন, হারব।
নবী ﷺ বললেন, না; বরং তাঁর নাম হাসান।
এরপর যখন হুসাইন জন্মগ্রহণ করল আমি তাঁর নাম রাখলাম, হারব। নবী ﷺ বললেন, না; বরং তার নাম হুসাইন। এরপর যখন তৃতীয় সন্তানটি জন্মগ্রহণ করল, আমি তার নাম রাখলাম, হারব। নবী ﷺ বললেন, না; এর নাম হবে মুহসিন।
এরপর নবী ﷺ বললেন, আমি এদের তিন ভাইয়ের নাম রেখেছি হারুন (আ)-এর ছেলেদের নামের ধারাবাহিকতার সাথে মিল রেখে। হারুন (আ)-এর তিন ছেলের নাম ছিল শাব্বার, শুবাঈর, মুশফফীর。
টিকাঃ
৫৭৫ ইব্ন ইবনে হিসাম।
📄 হাসান রা.-এর দুধমাতা
উম্মুল ফজল নামক এক মহিলা যার আসল নাম ছিল খুবাবা বিনতে হারেছ আল হেলালিয়া, যিনি আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবের স্ত্রী ছিলেন। একদিন তিনি রাসুল ﷺ-এর দরবারে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আপনার পরিবারের একজন সদস্য আমার কোলে লালিত-পালিত হচ্ছে।
তখন নবী ﷺ বললেন, ফাতেমা একটি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছে। আল্লাহ চাবে তো তুমি তার দায়িত্ব পাবে। মহিলাটি বললেন, এরপর আমি একদিন হাসানকে কোলে নিয়ে নবী ﷺ-এর দরবারে আসলাম। তখন হাসান ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ ছোট ছিল। নবী ﷺ তাঁকে শোওয়ার পর তিনি তাঁর কোলে পেশাব করে দিলেন। তখন আমি তা নিজের হাত দিয়ে মুছে দেই। নবী ﷺ বলতে লাগলেন, রাখ, রাখ, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আপনার কাপড়টি খুলে দিন, আমি মুছে ফেলি। নবী ﷺ বললেন, না, ছোট ছেলে তো এটা ছুঁতে হবে না।
তারপর তিনি বললেন, বাচ্চা যদি ছেলে হয়, তবে কাপড়ে পানির ছিটা দিলেই চলবে, আর যদি বাচ্চা মেয়ে হয়, তাহলে যে কাপড়ে পেশাব করবে তা ধুইয়ে নিতে হবে。
টিকাঃ
৫৭৬ মুসতাদরিকে হাকিম।
📄 আলী রা. ও অহংকারী ইহুদি
ইহুদি মারহাব তার ধূসর রঙের ঘোড়ার পিঠে বসে তীক্ষ্ণ ধারালো তরবারি নাড়াতে নাড়াতে গর্ব আর অহংকারের সাথে গাইতে লাগল।
قَدْ عَلِمَتْ خَيْبَرُ أَنِّي مَرْحَبٌ شَاكِي الْسِلاحِ بَطَلٌ مُجَرَبٌ إِذَا الْحُرُوبُ أَقْبَلَتْ تَلَهَبُ
যারব্বার সম্পর্কে
আমি মারহাব অবগত হয়েছি।
যখন যুদ্ধ অগ্নির মতো এসেছে।
তখন আমি অস্ত্র সজ্জিত বিজয়ী বীর প্রতাপ।
তখন তার মোকাবিলা করার জন্য আমের বিন সিনান ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ তার প্রতিউত্তরের দিয়ে তার সামনে এগিয়ে গেলেন।
قَدْ عَلِمَتْ خَيْبَرُ أَنِّي عَامِرٌ شَاكِي الْسِلاحِ بَطَلٌ مُغَامِرٌ
যারব্বার সম্পর্কে
অস্ত্র সজ্জিত সাহসী বীর আমের অবগত হয়েছে।
এরপর তারা দু'জন সম্মুখ যুদ্ধ করলেন। লড়াইয়ের এক পর্যায়ে ইহুদি মারহাবের তরবারি আমের ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ-এর টালে পড়ল। তখন তিনি তাঁর তরবারি ফিরিয়ে নিয়ে মারহাবকে নিচ থেকে মারতে চাইলেন, কিন্তু তিনি মারহাবকে মারতে গিয়ে নিজেই মারা গেলেন।
তখন কোনো কোনো লোক বলতে লাগল, আমের নিজেকে হত্যা করে নিজেরই আমল নষ্ট করে ফেলেছে। এ কথা শুনে সালামা বিন আকওয়া কাঁদতে কাঁদতে দ্রুত নবী ﷺ-এর কাছে ছুটে গেলেন।
নবী ﷺ কাঁদতে দেখে বললেন, তোমার কী হয়েছে? তিনি চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন, মানুষ বলছে আমের নাকি নিজের আমল নষ্ট করে ফেলেছে!
এ কথা শুনে রাগে নবী ﷺ-এর চেহারা মোবারক রক্তে পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি বললেন, আবু সালামা, এ কথা কে বলেছে? তিনি বললেন, আপনার সাহাবীদের মধ্য থেকে একজন লোক বলেছে। নবী ﷺ বললেন, তারা মিথ্যা বলেছে; বরং তার জন্যে রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান। তারপর নবী ﷺ তার মোকাবিলাত্পর জন্য আলী ﷺ-কে পাঠালেন। তিনি তাঁর হাতে ইসলামের পতাকা তুলে দিলেন। আলী রাসূল ﷺ-এর নির্দেশে গিয়ে ইহুদি মারহাবের উদ্দেশে ছুটে গেলেন। ইহুদি মারহাব তখনো গাইছে ছিল, قَدْ عَلِمَتْ خَيْبَرُ أَنِّي مَرْحَبٌ شَاكِي السِّلَاحِ بَطَلٌ مُجَرَّبٌ إِذَا الْحُرُوبُ أَقْبَلَتْ تَلَهَبُ
মারহাব সম্পর্কে আমি মারহাব অবগত হয়েছি। যখন যুদ্ধ অগ্নির মতো তেলে উঠে তখন আমি অস্ত্রে সজ্জিত অভিজ্ঞ বীর প্রস্তুত।
আলী ﷺ তার প্রতিউত্তরে গাইতে লাগলেন, أَنَا الَّذِي سَمَّتْنِي أُمِّي حَيْدَرَة كَلَيْثِ غَابَاتٍ كَرِيحِ الْمَنْظَرَة أُوفِيهِمُ بِالصَّاعِ كَيْلِ السِّنْدَرَة
আমি সেই ব্যক্তি যার তার নাম রেখেছে সিংহ। যেন নিকটস্থ এক পরিবেশ বনের রাজা তারপর তিনি দ্রুত ইহুদির দিকে এগিয়ে গিয়ে সিংহের মতো ঝাঁপিয়ে পড়লেন। তিনি তার এতো কাছে গেলেন যে, তার নিঃশ্বাসের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন। তিনি তাকে এমনভাবে আঘাত করলেন যে, সে মাটিতে পড়ে গেল। তারপর তিনি আকাশের দিকে তরবারি উঠিয়ে তার মাথায় মারলেন। সাথে সাথে তার মাথা দুই খণ্ড হয়ে গেল।
তারপর মারহাব গলাকাটা গরুর মতো মাটিতে লাফালাফি করতে শুরু করল। অবশেষে সে তার অভিশপ্ত জীবন শেষে নিঃশ্বাস ত্যাগ করল。
টিকাঃ
৫৬৬ মুসনাদে আহমদ, ৪র্থ খণ্ড, ৫২ পৃ.
📄 এ দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে
সকালের সূর্য উদিত হয়েছে, মদিনার অলিতে-গলিতে সূর্য তার তাপ ছড়িয়ে দিয়েছে। যুদ্ধশয্যায় শায়িত রাসূল ﷺ-এর অবস্থা জানার জন্য মানুষজন তাঁর দরজায় ভিড় করছিল। এমন সময় আলী রাসূল ﷺ-এর কক্ষ থেকে বের হয়ে এলেন। তিনি ওই সকল লোকদের পাশ দিয়ে যেতে লাগলেন। তখন তারা রাসূল ﷺ-এর অবস্থা জানার জন্য তাঁকে ঘিরে ধরল। তারা তাঁকে বলল, হাসানদের বাবা, রাসূল ﷺ-এর কী অবস্থা? আলী ﷺ বললেন, আল্লাহর শুকরিয়া তিনি সুস্থ আছেন। তখন আব্বাস ﷺ তাঁর হাত ধরে কানে কানে বললেন, আমি রাসূল ﷺ-কে দেখেছি, তিনি এ অসুস্থতায় ইন্তেকাল করবেন। কেননা আব্দুল মুত্তালিবের সন্তানদের মৃত্যুর সময়ে চেহারা আমার জানা আছে... সুতরাং তুমি রাসূল ﷺ- কে গিয়ে জিজ্ঞেস কর যে, এ দায়িত্ব (খিলাফাত) কার ওপর বর্তাবে। যদি তা আমাদের কারো মধ্যে থেকে হয়ে থাকে তবে আমরা তা জানতে পারলাম আর যদি অন্য কারো মধ্যে থেকে হয়ে থাকে তবে তিনি অসিয়ত করে যাবেন। তখন আলী ﷺ জান ও বিবেকের সাথে বললেন, আল্লাহর শপথ! যদি আমরা রাসূল ﷺ-কে তা জিজ্ঞেস করার পর তিনি আমাদেরকে নিষেধ/বাদ দিয়ে দেন তাহলে মানুষ কখনোই আমাদেরকে তা দিবে না। আল্লাহর শপথ! আমি কখনো তা রাসূল ﷺ-কে জিজ্ঞেস করব না。
টিকাঃ
৫৬৭ তারিখুত তাবারী, ৩য় খণ্ড, ১৯০, ১৯৪ পৃ.