📄 আলী রা. রাসূল সা.-এর অধিক নিকটবর্তী
রাসুল ﷺ-এর অসুস্থতার সময় একদিন সকালে ফাতেমা ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهَا তাঁকে দেখার জন্য আসলেন। তিনি আসার পর যখনই তিনি রাসুল ﷺ-এর কাছে যেতেন তখনই তিনি জিজ্ঞেস করতেন আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ এসেছে?
ফাতেমা ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهَا বললেন, না, সে এখনো আসেনি।
এর কিছুক্ষণ পর আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ আসলে রাসুল ﷺ-এর গ্রীষ্ম শস্য থেকে সরে গিয়ে দরজার কাছে গিয়ে বসলেন।
উম্মে সালামা ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهَا বললেন, মহিলাদের মধ্যে আমি দরজার সবচেয়ে কাছে ছিলাম। রাসুল ﷺ তাঁকে কাছে নিয়ে গোপনে কিছু কথা বললেন। তারপর ওহীদিনে আল্লাহ তা'আলা তাঁর নাভীক থেকে নিলেন। আর এ কারণে আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ-ই সৌহার্দতার দিক থেকে রাসুল ﷺ-এর অধিক নিকটবর্তী ছিলেন。
টিকাঃ
৫৭৩ মুসনাদে আহমদ ও ফাযায়েলে সাহাবা, ২য় খণ্ড, ৬১৮ পৃ.
📄 আল্লাহর পক্ষ থেকে রিযিক
আলী বিন আবু তালিব ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ বলেন, একবার কয়েকদিন যাবত আমাদের ঘরে কিছুই ছিল না এবং নবী ﷺ-এর ঘরেও ছিল না। এরই মধ্যে একদিন আমি রাস্তায় হাঁটছিলাম। হঠাৎ দেখি রাস্তায় এক দিনার পড়ে আছে। আমি চিন্তা করতে লাগলাম যে, এটা নিব নাকি নিব না। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে দিনারটি নিলাম। তারপর দিনারটি দিয়ে আটা বিক্রেতার কাছ থেকে আটা ক্রয় করে আনলাম। সেগুলো ফাতেমাকে দিয়ে বললাম, এগুলো থেকে রুটি বানাও, ফাতেমা সেগুলো দিয়ে রুটি বানাল। আমি সেগুলো নিয়ে নবী ﷺ-এর কাছে গেলাম এবং হুট যাওয়া ঘটনাটি খুলে বললাম। তখন নবী ﷺ বললেন, এগুলো খাও, এগুলো এমন রিযিক যা মহান আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দিয়েছেন。
টিকাঃ
৫৭৪ কানযুল উম্মাল, ৯৪ খণ্ড, ৬২৬।
📄 হাসান রা.-এর নাম রাখলেন নবী সা.
আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ বলেন, যখন হাসান জন্মগ্রহণ করল, আমি তাঁর নাম রাখলাম হারব। এরই মধ্যে নবী ﷺ এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার নাতির কী নাম রেখেছ? আলী ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ বললেন, হারব।
নবী ﷺ বললেন, না; বরং তাঁর নাম হাসান।
এরপর যখন হুসাইন জন্মগ্রহণ করল আমি তাঁর নাম রাখলাম, হারব। নবী ﷺ বললেন, না; বরং তার নাম হুসাইন। এরপর যখন তৃতীয় সন্তানটি জন্মগ্রহণ করল, আমি তার নাম রাখলাম, হারব। নবী ﷺ বললেন, না; এর নাম হবে মুহসিন।
এরপর নবী ﷺ বললেন, আমি এদের তিন ভাইয়ের নাম রেখেছি হারুন (আ)-এর ছেলেদের নামের ধারাবাহিকতার সাথে মিল রেখে। হারুন (আ)-এর তিন ছেলের নাম ছিল শাব্বার, শুবাঈর, মুশফফীর。
টিকাঃ
৫৭৫ ইব্ন ইবনে হিসাম।
📄 হাসান রা.-এর দুধমাতা
উম্মুল ফজল নামক এক মহিলা যার আসল নাম ছিল খুবাবা বিনতে হারেছ আল হেলালিয়া, যিনি আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিবের স্ত্রী ছিলেন। একদিন তিনি রাসুল ﷺ-এর দরবারে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আপনার পরিবারের একজন সদস্য আমার কোলে লালিত-পালিত হচ্ছে।
তখন নবী ﷺ বললেন, ফাতেমা একটি ছেলে সন্তান জন্ম দিয়েছে। আল্লাহ চাবে তো তুমি তার দায়িত্ব পাবে। মহিলাটি বললেন, এরপর আমি একদিন হাসানকে কোলে নিয়ে নবী ﷺ-এর দরবারে আসলাম। তখন হাসান ﺭَﺿِﻲَ اللّٰهُ عَنْهُ ছোট ছিল। নবী ﷺ তাঁকে শোওয়ার পর তিনি তাঁর কোলে পেশাব করে দিলেন। তখন আমি তা নিজের হাত দিয়ে মুছে দেই। নবী ﷺ বলতে লাগলেন, রাখ, রাখ, আল্লাহ তোমার প্রতি রহম করুন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আপনার কাপড়টি খুলে দিন, আমি মুছে ফেলি। নবী ﷺ বললেন, না, ছোট ছেলে তো এটা ছুঁতে হবে না।
তারপর তিনি বললেন, বাচ্চা যদি ছেলে হয়, তবে কাপড়ে পানির ছিটা দিলেই চলবে, আর যদি বাচ্চা মেয়ে হয়, তাহলে যে কাপড়ে পেশাব করবে তা ধুইয়ে নিতে হবে。
টিকাঃ
৫৭৬ মুসতাদরিকে হাকিম।